ইউরোপের যে দেশে ‘আযান’ নিষিদ্ধ হচ্ছে
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:২৩:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
- / 20
হিজাব-নেকাব নিষিদ্ধের পর এবার দেশজুড়ে আজান নিষিদ্ধের পরিকল্পনা করছে ইউরোপের দেশ ডেনমার্ক। দেশটির অভিবাসনমন্ত্রী মর্তেন বোদস্কভ বলেছেন, দেশে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং জনপরিসরে ‘ইসলামীকরণ’ বাড়ছে বলে সরকারের উদ্বেগ রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই আজান নিষিদ্ধের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
ড্যানিশ সংবাদ সংস্থা রিৎজাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। পরে সাক্ষাৎকারটির ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশ করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল ও ডেইলি টেলিগ্রাফ।
মর্তেন বোদস্কভ বলেন, ডেনমার্কের বাড়িঘরের ছাদ থেকে আজানের ধ্বনি শোনা যাওয়া উচিত নয়। তার দাবি, বর্তমানে দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশ মুসলিম এবং ইসলাম দেশটির সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ে পরিণত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের নেতৃত্বে ডেনমার্ক ইতোমধ্যে অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ডেনমার্কের অভিবাসন নীতিকে সবচেয়ে কঠোরগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তবে আজান নিষিদ্ধের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের সামনে আইনি বাধা থাকতে পারে। কারণ, ডেনমার্কের সংবিধানে ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এমন উদ্যোগ একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে এবং ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শঙ্কা তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপজুড়ে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় ইসলামিক ধর্মীয় অনুশীলন, যেমন আজান ও হিজাব, নিয়ে বিভিন্ন দেশে কঠোর অবস্থান দেখা যাচ্ছে।
এর আগে ২০২৬ সালের শুরুতে ডেনমার্কের পার্লামেন্ট আইন পাস করে দেশজুড়ে মুখঢাকা হিজাব ও নেকাব নিষিদ্ধ করে।
সাক্ষাৎকারে অভিবাসনমন্ত্রী আরও বলেন, ডেনমার্ককে ‘ইসলামীকরণের’ সুযোগ দেওয়া হবে না। তার ভাষায়, ডেনমার্কে চলাফেরা করতে গিয়ে কারও যেন ইসলামাবাদের কোনো উপশহরে থাকার অনুভূতি না হয়।



































