ঢাকা ০১:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ পবিত্র আশুরা

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • / 34

আজ পবিত্র আশুরা

যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, পুণ্যময় আবহাওয়া ও মর্যাদার মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার (২৬ জুন) দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র আশুরা। হিজরি ১৪৪৮ সনের ১০ মহররমের এই দিনটি একই সঙ্গে ইহজাগতিক মুক্তি, স্রষ্টার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা এবং কারবালার প্রান্তরের চরম শোকাবহ স্মৃতির এক অনন্য লিগ্যাসি বহন করে। আশুরা উপলক্ষ্যে আজ সারা দেশে সরকারি ছুটি।

দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। পবিত্র আশুরার এই বিশেষ তিথিতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মসজিদে মসজিদে কোরআনখানি, বিশেষ মিলাদ, দোয়া ও ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের একটি বড় অংশ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে গতকাল (৯ মহররম) ও আজ (১০ মহররম) নফল রোজা পালন করছেন।

ইসলামী ইতিহাসে ‘আশুরা’ (যার অর্থ দশম) অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সহিহ বুখারির হাদিস অনুযায়ী, এই ১০ মহররমে মহান আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাঈলকে ফেরাউনের চরম জুলুম-নির্যাতন থেকে অলৌকিকভাবে মুক্তি দিয়েছিলেন। এই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে এবং স্রষ্টার প্রতি শুকরিয়া জানাতে হজরত মুসা (আ.) এই দিনে রোজা রাখতেন। পরবর্তীতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় এসে এই প্রথা দেখার পর ইহুদিদের সঙ্গে সাদৃশ্য এড়াতে আশুরার আগের বা পরের দিনসহ (৯ ও ১০ মহররম অথবা ১০ ও ১১ মহররম) অন্তত দুটি রোজা রাখার নির্দেশ দেন। মুসলিম সমাজে এই রোজার বিশেষ ফজিলত রয়েছে।

ন্যায় ও সত্যের এই পুণ্যময় দিনটিতেই হিজরি ৬১ সনে ইসলামের ইতিহাসে এক নির্মম ও কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হয়। ফোরাত নদীর তীরে কারবালার তপ্ত প্রান্তরে মহানবী (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবারের সদস্য ও অনুসারীরা স্বৈরাচারী ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করেন। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার স্মরণে শিয়া সম্প্রদায় আজ পুরান ঢাকার হোসৈনী দালানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঐতিহ্যবাহী ‘তাজিয়া মিছিল’ ও শোক গাঁথার বিশেষ কর্মসূচি পালন করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা ও কঠোর ব্যবস্থা জারি করেছে।

আশুরা উপলক্ষ্যে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, “পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী মানুষকে অন্যায়-অবিচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় এবং সত্য, সুন্দর ও আলোর পথে চলার চিরন্তন অনুপ্রেরণা দেয়।”

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, “ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই।” তিনি সবাইকে পবিত্র আশুরার মহান শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, পরমতসহিষ্ণুতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করার উদাত্ত আহ্বান জানান।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আজ পবিত্র আশুরা

সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, পুণ্যময় আবহাওয়া ও মর্যাদার মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার (২৬ জুন) দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র আশুরা। হিজরি ১৪৪৮ সনের ১০ মহররমের এই দিনটি একই সঙ্গে ইহজাগতিক মুক্তি, স্রষ্টার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা এবং কারবালার প্রান্তরের চরম শোকাবহ স্মৃতির এক অনন্য লিগ্যাসি বহন করে। আশুরা উপলক্ষ্যে আজ সারা দেশে সরকারি ছুটি।

দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। পবিত্র আশুরার এই বিশেষ তিথিতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মসজিদে মসজিদে কোরআনখানি, বিশেষ মিলাদ, দোয়া ও ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের একটি বড় অংশ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে গতকাল (৯ মহররম) ও আজ (১০ মহররম) নফল রোজা পালন করছেন।

ইসলামী ইতিহাসে ‘আশুরা’ (যার অর্থ দশম) অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সহিহ বুখারির হাদিস অনুযায়ী, এই ১০ মহররমে মহান আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাঈলকে ফেরাউনের চরম জুলুম-নির্যাতন থেকে অলৌকিকভাবে মুক্তি দিয়েছিলেন। এই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে এবং স্রষ্টার প্রতি শুকরিয়া জানাতে হজরত মুসা (আ.) এই দিনে রোজা রাখতেন। পরবর্তীতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় এসে এই প্রথা দেখার পর ইহুদিদের সঙ্গে সাদৃশ্য এড়াতে আশুরার আগের বা পরের দিনসহ (৯ ও ১০ মহররম অথবা ১০ ও ১১ মহররম) অন্তত দুটি রোজা রাখার নির্দেশ দেন। মুসলিম সমাজে এই রোজার বিশেষ ফজিলত রয়েছে।

ন্যায় ও সত্যের এই পুণ্যময় দিনটিতেই হিজরি ৬১ সনে ইসলামের ইতিহাসে এক নির্মম ও কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হয়। ফোরাত নদীর তীরে কারবালার তপ্ত প্রান্তরে মহানবী (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবারের সদস্য ও অনুসারীরা স্বৈরাচারী ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করেন। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার স্মরণে শিয়া সম্প্রদায় আজ পুরান ঢাকার হোসৈনী দালানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঐতিহ্যবাহী ‘তাজিয়া মিছিল’ ও শোক গাঁথার বিশেষ কর্মসূচি পালন করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা ও কঠোর ব্যবস্থা জারি করেছে।

আশুরা উপলক্ষ্যে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, “পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী মানুষকে অন্যায়-অবিচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় এবং সত্য, সুন্দর ও আলোর পথে চলার চিরন্তন অনুপ্রেরণা দেয়।”

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, “ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই।” তিনি সবাইকে পবিত্র আশুরার মহান শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, পরমতসহিষ্ণুতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করার উদাত্ত আহ্বান জানান।