ঢাকা ০৬:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে কারণে বঙ্গোপসাগরে ৮ সাবমেরিন মোতায়েনের ফন্দি এঁটেছে পাকিস্তান

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:২০:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • / 14

চীনের তৈরি নতুন ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ সাবমেরিনকে কেন্দ্র করে বঙ্গোপসাগরে নৌ-উপস্থিতি জোরদারের পরিকল্পনা জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির নৌবাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, হ্যাঙ্গর-শ্রেণির মোট আটটি সাবমেরিন ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে পাকিস্তানের উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার দৈনিক দ্য মর্নিং–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন পাকিস্তান নৌবাহিনীর কমোডর ওমর ফারুক।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, সম্প্রতি চীনের তৈরি ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ নামের একটি সাবমেরিন পাকিস্তান নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাবমেরিনটি গ্রহণ করতে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একটি বহরের নেতৃত্ব দিয়ে চীনে গিয়েছিলেন কমোডর ওমর ফারুক। ফেরার পথে কলম্বোতে অবস্থানকালে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে কমোডর ফারুক বলেন, হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন পাকিস্তানকে বঙ্গোপসাগরে কার্যকর উপস্থিতি গড়ে তোলার সক্ষমতা দেবে। তিনি জানান, এ সিরিজের আরও সাতটি সাবমেরিন শিগগিরই নৌবাহিনীতে যুক্ত হবে। ফলে মোট আটটি সাবমেরিন নিয়ে বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের উপস্থিতি জোরদার করা হবে।

১৯৭১ সালের আগে বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের সাবমেরিন মোতায়েন ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ ‘আইএনএস খুকরি’ ডুবিয়ে দিয়েছিল। তবে যুদ্ধে পরাজয়ের পর পাকিস্তান এ অঞ্চল থেকে তাদের নৌ-উপস্থিতি গুটিয়ে নেয় এবং পরবর্তী সময়ে মূলত আরব সাগরকেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কাকে ঘিরে থাকা বঙ্গোপসাগর এখন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলসীমা। এ কারণে পাকিস্তানের নতুন এই পরিকল্পনাকে আঞ্চলিক সামুদ্রিক ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

যে কারণে বঙ্গোপসাগরে ৮ সাবমেরিন মোতায়েনের ফন্দি এঁটেছে পাকিস্তান

সর্বশেষ আপডেট ০৪:২০:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

চীনের তৈরি নতুন ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ সাবমেরিনকে কেন্দ্র করে বঙ্গোপসাগরে নৌ-উপস্থিতি জোরদারের পরিকল্পনা জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির নৌবাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, হ্যাঙ্গর-শ্রেণির মোট আটটি সাবমেরিন ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে পাকিস্তানের উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার দৈনিক দ্য মর্নিং–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন পাকিস্তান নৌবাহিনীর কমোডর ওমর ফারুক।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, সম্প্রতি চীনের তৈরি ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ নামের একটি সাবমেরিন পাকিস্তান নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাবমেরিনটি গ্রহণ করতে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একটি বহরের নেতৃত্ব দিয়ে চীনে গিয়েছিলেন কমোডর ওমর ফারুক। ফেরার পথে কলম্বোতে অবস্থানকালে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে কমোডর ফারুক বলেন, হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন পাকিস্তানকে বঙ্গোপসাগরে কার্যকর উপস্থিতি গড়ে তোলার সক্ষমতা দেবে। তিনি জানান, এ সিরিজের আরও সাতটি সাবমেরিন শিগগিরই নৌবাহিনীতে যুক্ত হবে। ফলে মোট আটটি সাবমেরিন নিয়ে বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের উপস্থিতি জোরদার করা হবে।

১৯৭১ সালের আগে বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের সাবমেরিন মোতায়েন ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ ‘আইএনএস খুকরি’ ডুবিয়ে দিয়েছিল। তবে যুদ্ধে পরাজয়ের পর পাকিস্তান এ অঞ্চল থেকে তাদের নৌ-উপস্থিতি গুটিয়ে নেয় এবং পরবর্তী সময়ে মূলত আরব সাগরকেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কাকে ঘিরে থাকা বঙ্গোপসাগর এখন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলসীমা। এ কারণে পাকিস্তানের নতুন এই পরিকল্পনাকে আঞ্চলিক সামুদ্রিক ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।