ঢাকা ১২:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিপিডিসি: ঘুষের অভিযোগ করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন গ্রাহক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:১৬:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • / 331

ডিপিডিসি বনশ্রীর সহকারি প্রকৌশলী আতাউর কবির প্রামানিক।

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি- ডিপিডিসি’র এক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ জানিয়ে ন্যায় বিচার তো দূরের কথা; উল্টো প্রাণনাশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অভিযোগকারি গ্রাহক। রাশেদ নামের ওই গ্রাহকের দাবি, প্রভাবশালী একটি চক্র অভিযোগ প্রত্যাহারে চাপ ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে চলতি মাসের ৭ মে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব বরাবর ডিপিডিসি’র বনশ্রী ডিভিশনে দায়িত্বপালনকারি সহকারি প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতাউর কবির প্রামানিকের বিরুদ্ধে দুই লাখ ঘুষ গ্রহণ এবং আরো এক লাখ টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ আনেন মো. সেলিম নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা। তার পক্ষে মো. রাশেদ নামে একজন সাব-স্টেশন ব্যবসায়ি অভিযোগটি জমা দেন।

তাদের অভিযোগ, বনশ্রীর পশ্চিম নন্দীপাড়া পানির পাম্প তিন রাস্তার মোড়ে সড়কের মাঝে ডিপিডিসি’র একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে। যার ফলে ওই সড়কে যান চলাচল বাঁধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রায়শ: নানা দুর্ঘটনা ঘটে। আর এ কারণে মো. সেলিম এলাকাবাসীর পক্ষ ‘জনস্বার্থে’ বৈদ্যুতিক খুঁটিটি সরিয়ে নিতে প্রায় তিন মাস আগে বনশ্রী ডিভিশনে একটি আবেদন জমা দেয়।

মো. রাশেদ বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে জানান, সেলিম রেজার পক্ষে তিনিই এ বিষয়ে ডিপিডিসি বনশ্রী ডিভিশনে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এক পর্যায়ে তার কাছে খুঁটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য সহকারি প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতাউর কবির প্রামানিকের পক্ষে দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয় এবং তিনি তা পরিশোধও করেন। কিন্তু ঘুষ দেওয়ার পরেও কাজ না হওয়ায় গত ৬ মে তিনি ডিপিডিসি’র বনশ্রী কার্যালয়ে গেলে তার কাছে আরো এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয় এবং সেই ঘুষের অর্থ বনশ্রী ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী, সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, প্রধান প্রকৌশলী (সেন্ট্রাল), নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) এর খরচের জন্য দাবি করা হয় বলে অভিযোগে জানানো হয়। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে ডিপিডিসি’র বনশ্রী কার্যালয়ের অভ্যন্তরেই শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয় বলেও জানান মো. রাশেদ।

গত ৭ মে দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিদ্যুৎ সচিবের কাছে এসব বিষয়ে লিখিত জানিয়ে অভিযোগ করা হয়। এরপর কেঁটে গেছে প্রায় দুই সপ্তাহ। এতো দিনেও বিষয়টি নিয়ে কোন ধরনের তদন্তের উদ্যোগ নেয়নি বিদ্যুৎ বিভাগ। উল্টো মো. রাশেদকে ঐ সহকারী প্রকৌশলীর দালালচক্র নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে অভিযোগটি প্রত্যাহার করে নিতে। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ঐ ঠিকাদার খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। ন্যায় বিচারের আসায় ঐ বিদ্যুৎ গ্রাহক এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।

বিষয়টি নিয়ে বাংলা অ্যাফেয়ার্স গত ১৭ মে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

বিষয়টি নিয়ে বাংলা অ্যাফেয়ার্স গত ১৭ মে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
বিষয়টি নিয়ে বাংলা অ্যাফেয়ার্স গত ১৭ মে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

এদিকে ঘটনার পর গত কয়েকদিন ধরে অফিসে অনুপস্থিত সহকারি প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতাউর কবির প্রামানিক।

কেন অনুপস্থিত – জানতে চাইলে জাতীয়তাবাদী প্রকৌশলীদের সংগঠন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) এর ডিপিডিসি শাখার সভাপতি ও বনশ্রী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রুহুল আমিন বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে বুধবার (২০ মে ২০২৬) বিকেলে জানান, ঈদে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন, তাই ছুটি নিয়েছেন।

একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, ছুটি নিয়ে আতাউর কবির গত কয়েকদিন ধরে ডিপিডিসির প্রধান কার্যালয় ও বিদ্যুৎ বিভাগে ছুটে বেড়াচ্ছেন অভিযোগটি ধাঁমাচাপা দিতে। আর এই কাজে ডিপিডিসির কয়েকজন শীর্ষ প্রকৌশলী তাকে সহযোগিতা করছেন।

বনশ্রী কার্যালয়ে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, গত দুই দিনে বেশ কয়েকজন গ্রাহক সেখানে ভিড় করেছেন; যারা কিনা ইতোপূর্বে আতাউর কবিরকে কাজের জন্য ‘ঘুষ’ দিয়েছেন। এই গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে একটি মাদ্রাসা।

ঐ মাদ্রাসার এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুৎ লোড বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে আতাউর কবির তাদের কাছ থেকে অর্থ নিলেও কাজ করে দিচ্ছেন না। এতে করে গরমে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

এদিকে বাংলা অ্যাফেয়ার্স-এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর বনশ্রী ডিভিশনের আওতাধীন এলাকা থেকে সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতাউর কবির প্রামানিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার দুর্নীতিতে সহযোগি হিসেবে ওই ডিভিশনেরই উপ-সহকারী প্রকৌশলী আসাবুল এর নামও উঠে এসেছে।

জানা যায়, বনশ্রীতে গত দেড় বছরে অর্ধশতাধিক বহুতল ভবনের উচ্চচাপ সংযোগ পাশ কাটিয়ে নিম্নচাপ সংযোগ দিয়ে তারা হাতিয়ে নিয়েছে কোটি টাকার উপরে। সেখানে বাড়ি প্রতি নেওয়া হয়েছে ৩/৪ লক্ষ টাকা করে। এই টাকার ভাগ পেয়েছে প্রধান কার্যালয় থেকে বনশ্রী ডিভিশন পর্যন্ত।

জানা যায়, গ্রাহককে প্রথম চিঠি দেওয়া হয় উচ্চচাপ সংযোগের জন্য। আর ঘুষের টাকা পেলেই পরবর্তীতে অঙ্গীকারনামা নিয়ে নিম্নচাপে সংযোগ দেওয়া হয়। এর বাইরে বিভিন্ন গ্যারেজগুলোতে অটোরিকশা চার্জের নামে বিদ্যুৎ চুরি, মিটার বাইপাস ও গ্রাহককে বেশি করে প্যানেল বিলের হুমকি দিয়ে, পরে বিল কমিয়ে গ্রাহকের হাতে দিয়ে অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন চক্রটি।

প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতাউর কবির প্রামানিককে মাঠ পর্যায়ে এসব কাজে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে ডিভিশনের বাৎসরিক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মী (কম্পিউটার অপারেটর) রানা ও ঠিকাদারের লোক মজিদ, স্থানীয় দালাল শামীম এবং বনশ্রী ডিভিশনের লাইনম্যান মাসুমসহ আরো বেশ কিছু নাম।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৪৯ কিলোওয়াট তদুর্ধ সংযোগগুলো অনুমোদন দেয় সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। আর বনশ্রী সার্কেলের দায়িত্বে আছেন জাতীয়তাবাদী প্রকৌশলীদের সংগঠন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) এর ডিপিডিসি শাখার সভাপতি প্রকৌশলী রুহুল আমিন।

ডিভিশন সূত্রে জানা যায়, সহকারী প্রকৌশলী মো. আতাউর কবির ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী আসাবুল; গ্রাহকের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রুহুল আমিনকে দিয়ে সংযোগগুলোর অনুমোদন করিয়ে নেন। ঐ চক্রটি আবার কিছু সংযোগ রয়েছে সেগুলো বিশেষ বিবেচনায় প্রধান প্রকৌশলী (সেন্ট্রাল) মশিয়ার রহমান জোয়ার্দ্দার অথবা নির্বাহী পরিচালক অপারেশনকে দিয়ে অনুমোদন করিয়ে নিচ্ছেন। এতে করে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। সেই সাথে ভেঙ্গে পড়ছে সিস্টেম।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী রুহুল আমিন বাংলা অ্যাফেয়ার্স-কে জানান, এই ধরনের কোন কিছু করার সুযোগ নেই। আমাদের একটা নীতিমালা আছে, সেখানে কত স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাটে কি পরিমান লোড লাগবে তা উল্লেখ করা আছে। আমরা সেই অনুযায়ি কাজ করি।

এদিকে বনশ্রী ডিভিশন সূত্র থেকে জানা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলী সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন অফিস করেন। আর সেই কারনেই অফিসটি পরিচালনা করেন আতাউর কবিরসহ তার দালাল সিন্ডিকেটরা। এই সিন্ডিকেটকে অর্থ দিলেই নিয়মের ব্যতয় করে যেকোন কাজ তারা করে ফেলে। ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন), প্রধান প্রকৌশলী (সেন্ট্রাল), তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীও এখন তাদের হাতের মুঠোয়। তবে এই সিন্ডিকেটের কাছে অসহায় হয়ে আছেন নির্বাহী প্রকৌশলী আনিস মুরাদ। ৫ই আগষ্ট পরবর্তী সরকার পরিবর্তনের পর এই চক্রটি মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে বনশ্রী ডিভিশনে। বছরের পর বছর একই জায়গায় প্রকৌশলী, কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কম্পিউটার অপারেটর, লাইনম্যান ও অন্যান্য কর্মীরা থেকে যাওয়ায় তাদের দুর্নীতির নেটওয়ার্কও অনেক সংগঠিত হয়ে আরও বিস্তর লাভ করেছে। কালেভদ্রে ডিপিডিসির প্রধান কার্যালয়ে গ্রাহক হয়রানি, কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতার কোন অভিযোগ জমা পরলেও নেওয়া হয়না দায়িদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা। তৃতীয় পর্বে থাকছে সহকারী প্রকৌশলীর আরও দুর্নীতির আমলনামা।

আগের সংবাদটি পড়তে ক্লিক করুন: https://banglaaffairs.com/%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a6%bf-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be/

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ডিপিডিসি: ঘুষের অভিযোগ করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন গ্রাহক

সর্বশেষ আপডেট ০৭:১৬:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি- ডিপিডিসি’র এক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ জানিয়ে ন্যায় বিচার তো দূরের কথা; উল্টো প্রাণনাশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অভিযোগকারি গ্রাহক। রাশেদ নামের ওই গ্রাহকের দাবি, প্রভাবশালী একটি চক্র অভিযোগ প্রত্যাহারে চাপ ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে চলতি মাসের ৭ মে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব বরাবর ডিপিডিসি’র বনশ্রী ডিভিশনে দায়িত্বপালনকারি সহকারি প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতাউর কবির প্রামানিকের বিরুদ্ধে দুই লাখ ঘুষ গ্রহণ এবং আরো এক লাখ টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ আনেন মো. সেলিম নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা। তার পক্ষে মো. রাশেদ নামে একজন সাব-স্টেশন ব্যবসায়ি অভিযোগটি জমা দেন।

তাদের অভিযোগ, বনশ্রীর পশ্চিম নন্দীপাড়া পানির পাম্প তিন রাস্তার মোড়ে সড়কের মাঝে ডিপিডিসি’র একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে। যার ফলে ওই সড়কে যান চলাচল বাঁধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রায়শ: নানা দুর্ঘটনা ঘটে। আর এ কারণে মো. সেলিম এলাকাবাসীর পক্ষ ‘জনস্বার্থে’ বৈদ্যুতিক খুঁটিটি সরিয়ে নিতে প্রায় তিন মাস আগে বনশ্রী ডিভিশনে একটি আবেদন জমা দেয়।

মো. রাশেদ বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে জানান, সেলিম রেজার পক্ষে তিনিই এ বিষয়ে ডিপিডিসি বনশ্রী ডিভিশনে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এক পর্যায়ে তার কাছে খুঁটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য সহকারি প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতাউর কবির প্রামানিকের পক্ষে দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয় এবং তিনি তা পরিশোধও করেন। কিন্তু ঘুষ দেওয়ার পরেও কাজ না হওয়ায় গত ৬ মে তিনি ডিপিডিসি’র বনশ্রী কার্যালয়ে গেলে তার কাছে আরো এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয় এবং সেই ঘুষের অর্থ বনশ্রী ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী, সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, প্রধান প্রকৌশলী (সেন্ট্রাল), নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) এর খরচের জন্য দাবি করা হয় বলে অভিযোগে জানানো হয়। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে ডিপিডিসি’র বনশ্রী কার্যালয়ের অভ্যন্তরেই শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয় বলেও জানান মো. রাশেদ।

গত ৭ মে দুর্নীতি দমন কমিশন ও বিদ্যুৎ সচিবের কাছে এসব বিষয়ে লিখিত জানিয়ে অভিযোগ করা হয়। এরপর কেঁটে গেছে প্রায় দুই সপ্তাহ। এতো দিনেও বিষয়টি নিয়ে কোন ধরনের তদন্তের উদ্যোগ নেয়নি বিদ্যুৎ বিভাগ। উল্টো মো. রাশেদকে ঐ সহকারী প্রকৌশলীর দালালচক্র নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে অভিযোগটি প্রত্যাহার করে নিতে। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ঐ ঠিকাদার খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। ন্যায় বিচারের আসায় ঐ বিদ্যুৎ গ্রাহক এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।

বিষয়টি নিয়ে বাংলা অ্যাফেয়ার্স গত ১৭ মে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

বিষয়টি নিয়ে বাংলা অ্যাফেয়ার্স গত ১৭ মে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
বিষয়টি নিয়ে বাংলা অ্যাফেয়ার্স গত ১৭ মে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

এদিকে ঘটনার পর গত কয়েকদিন ধরে অফিসে অনুপস্থিত সহকারি প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতাউর কবির প্রামানিক।

কেন অনুপস্থিত – জানতে চাইলে জাতীয়তাবাদী প্রকৌশলীদের সংগঠন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) এর ডিপিডিসি শাখার সভাপতি ও বনশ্রী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রুহুল আমিন বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে বুধবার (২০ মে ২০২৬) বিকেলে জানান, ঈদে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন, তাই ছুটি নিয়েছেন।

একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, ছুটি নিয়ে আতাউর কবির গত কয়েকদিন ধরে ডিপিডিসির প্রধান কার্যালয় ও বিদ্যুৎ বিভাগে ছুটে বেড়াচ্ছেন অভিযোগটি ধাঁমাচাপা দিতে। আর এই কাজে ডিপিডিসির কয়েকজন শীর্ষ প্রকৌশলী তাকে সহযোগিতা করছেন।

বনশ্রী কার্যালয়ে সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, গত দুই দিনে বেশ কয়েকজন গ্রাহক সেখানে ভিড় করেছেন; যারা কিনা ইতোপূর্বে আতাউর কবিরকে কাজের জন্য ‘ঘুষ’ দিয়েছেন। এই গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে একটি মাদ্রাসা।

ঐ মাদ্রাসার এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুৎ লোড বাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে আতাউর কবির তাদের কাছ থেকে অর্থ নিলেও কাজ করে দিচ্ছেন না। এতে করে গরমে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

এদিকে বাংলা অ্যাফেয়ার্স-এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর বনশ্রী ডিভিশনের আওতাধীন এলাকা থেকে সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতাউর কবির প্রামানিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার দুর্নীতিতে সহযোগি হিসেবে ওই ডিভিশনেরই উপ-সহকারী প্রকৌশলী আসাবুল এর নামও উঠে এসেছে।

জানা যায়, বনশ্রীতে গত দেড় বছরে অর্ধশতাধিক বহুতল ভবনের উচ্চচাপ সংযোগ পাশ কাটিয়ে নিম্নচাপ সংযোগ দিয়ে তারা হাতিয়ে নিয়েছে কোটি টাকার উপরে। সেখানে বাড়ি প্রতি নেওয়া হয়েছে ৩/৪ লক্ষ টাকা করে। এই টাকার ভাগ পেয়েছে প্রধান কার্যালয় থেকে বনশ্রী ডিভিশন পর্যন্ত।

জানা যায়, গ্রাহককে প্রথম চিঠি দেওয়া হয় উচ্চচাপ সংযোগের জন্য। আর ঘুষের টাকা পেলেই পরবর্তীতে অঙ্গীকারনামা নিয়ে নিম্নচাপে সংযোগ দেওয়া হয়। এর বাইরে বিভিন্ন গ্যারেজগুলোতে অটোরিকশা চার্জের নামে বিদ্যুৎ চুরি, মিটার বাইপাস ও গ্রাহককে বেশি করে প্যানেল বিলের হুমকি দিয়ে, পরে বিল কমিয়ে গ্রাহকের হাতে দিয়ে অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন চক্রটি।

প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতাউর কবির প্রামানিককে মাঠ পর্যায়ে এসব কাজে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে ডিভিশনের বাৎসরিক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মী (কম্পিউটার অপারেটর) রানা ও ঠিকাদারের লোক মজিদ, স্থানীয় দালাল শামীম এবং বনশ্রী ডিভিশনের লাইনম্যান মাসুমসহ আরো বেশ কিছু নাম।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৪৯ কিলোওয়াট তদুর্ধ সংযোগগুলো অনুমোদন দেয় সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। আর বনশ্রী সার্কেলের দায়িত্বে আছেন জাতীয়তাবাদী প্রকৌশলীদের সংগঠন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) এর ডিপিডিসি শাখার সভাপতি প্রকৌশলী রুহুল আমিন।

ডিভিশন সূত্রে জানা যায়, সহকারী প্রকৌশলী মো. আতাউর কবির ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী আসাবুল; গ্রাহকের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রুহুল আমিনকে দিয়ে সংযোগগুলোর অনুমোদন করিয়ে নেন। ঐ চক্রটি আবার কিছু সংযোগ রয়েছে সেগুলো বিশেষ বিবেচনায় প্রধান প্রকৌশলী (সেন্ট্রাল) মশিয়ার রহমান জোয়ার্দ্দার অথবা নির্বাহী পরিচালক অপারেশনকে দিয়ে অনুমোদন করিয়ে নিচ্ছেন। এতে করে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। সেই সাথে ভেঙ্গে পড়ছে সিস্টেম।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী রুহুল আমিন বাংলা অ্যাফেয়ার্স-কে জানান, এই ধরনের কোন কিছু করার সুযোগ নেই। আমাদের একটা নীতিমালা আছে, সেখানে কত স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাটে কি পরিমান লোড লাগবে তা উল্লেখ করা আছে। আমরা সেই অনুযায়ি কাজ করি।

এদিকে বনশ্রী ডিভিশন সূত্র থেকে জানা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলী সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন অফিস করেন। আর সেই কারনেই অফিসটি পরিচালনা করেন আতাউর কবিরসহ তার দালাল সিন্ডিকেটরা। এই সিন্ডিকেটকে অর্থ দিলেই নিয়মের ব্যতয় করে যেকোন কাজ তারা করে ফেলে। ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন), প্রধান প্রকৌশলী (সেন্ট্রাল), তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীও এখন তাদের হাতের মুঠোয়। তবে এই সিন্ডিকেটের কাছে অসহায় হয়ে আছেন নির্বাহী প্রকৌশলী আনিস মুরাদ। ৫ই আগষ্ট পরবর্তী সরকার পরিবর্তনের পর এই চক্রটি মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে বনশ্রী ডিভিশনে। বছরের পর বছর একই জায়গায় প্রকৌশলী, কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কম্পিউটার অপারেটর, লাইনম্যান ও অন্যান্য কর্মীরা থেকে যাওয়ায় তাদের দুর্নীতির নেটওয়ার্কও অনেক সংগঠিত হয়ে আরও বিস্তর লাভ করেছে। কালেভদ্রে ডিপিডিসির প্রধান কার্যালয়ে গ্রাহক হয়রানি, কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতার কোন অভিযোগ জমা পরলেও নেওয়া হয়না দায়িদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা। তৃতীয় পর্বে থাকছে সহকারী প্রকৌশলীর আরও দুর্নীতির আমলনামা।

আগের সংবাদটি পড়তে ক্লিক করুন: https://banglaaffairs.com/%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a6%bf-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be/