ঢাকা ০৩:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলকাতায় ধরা পড়া মার্কিন জঙ্গি প্রশিক্ষক কে এই ভ্যানডাইক?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
  • / 123

ম্যাথু ভ্যানডাইক। ছবি: এনডিটিভি

ম্যাথু ভ্যানডাইক—নিজেকে তথ্যচিত্র নির্মাতা, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও যুদ্ধ প্রতিবেদক হিসেবে পরিচয় দেন তিনি। কিন্তু মূলত তিনি একজন বিদ্রোহী ও জঙ্গি প্রশিক্ষক।

জঙ্গিদের আধুনিক যুদ্ধে দক্ষ করে তোলার জন্য তিনি নিজের একটি সংগঠন গড়ে তুলেছেন। ১৩ মার্চ কলকাতার বিমানবন্দর থেকে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) তাকে গ্রেফতার করেছে।

তদন্তে জানা গেছে, ভ্যানডাইক একা নন। উত্তরপ্রদেশের লখনউ এবং দিল্লি বিমানবন্দর থেকে আরও ছয় ইউক্রেনীয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা তার সহযোগী ও প্রশিক্ষণে যুক্ত।

তারা টুরিস্ট ভিসায় ভারতে প্রবেশ করে, গুয়াহাটির মাধ্যমে মিজোরাম এবং অবৈধভাবে মিয়ানমারে গিয়ে স্থানীয় জঙ্গি সংগঠনগুলোকে প্রশিক্ষণ দিত। মূল প্রশিক্ষণের বিষয় ছিল ড্রোন হামলা, সীমান্ত অপ্রাপ্তি, এবং আধুনিক কৌশলে সন্ত্রাসী হামলা চালানো।

ভ্যানডাইক ২০১১ সালে লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গ্রেফতার হন। ছয় মাস জেল খাটার পর পালিয়ে সিরিয়ায় যান, সেখানে তথ্যচিত্র নির্মাণের পাশাপাশি জঙ্গি সংগঠনগুলোর পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ শুরু করেন।

২০১৪ সালে তার তথ্যচিত্র ‘পয়েন্ট অ্যান্ড শুট’ ত্রিবেকা চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা তথ্যচিত্রের পুরস্কার জেতে।

এরপর তিনি ইরাকে গিয়ে ‘সন্স অব লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। এখানে সেনা প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সরবরাহ ও ভাড়া করা সেনা প্রদানের কাজ শুরু করেন।

২০২২ সালে তার সংস্থা ইউক্রেনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সেনা ভাড়া দেয় এবং পরবর্তী সময়ে জঙ্গি সংগঠনগুলোকে আধুনিক অস্ত্র সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ চালু রাখে।

ঘটনাটি দেখায়, বিদেশি নাগরিক কিভাবে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ব্যবহার করে জঙ্গি কার্যক্রম চালাতে পারে। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপ না থাকলে, সীমান্তপারে এই ধরনের প্রশিক্ষণ আরও বড় সঙ্কট তৈরি করতে পারত।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কলকাতায় ধরা পড়া মার্কিন জঙ্গি প্রশিক্ষক কে এই ভ্যানডাইক?

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

ম্যাথু ভ্যানডাইক—নিজেকে তথ্যচিত্র নির্মাতা, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও যুদ্ধ প্রতিবেদক হিসেবে পরিচয় দেন তিনি। কিন্তু মূলত তিনি একজন বিদ্রোহী ও জঙ্গি প্রশিক্ষক।

জঙ্গিদের আধুনিক যুদ্ধে দক্ষ করে তোলার জন্য তিনি নিজের একটি সংগঠন গড়ে তুলেছেন। ১৩ মার্চ কলকাতার বিমানবন্দর থেকে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) তাকে গ্রেফতার করেছে।

তদন্তে জানা গেছে, ভ্যানডাইক একা নন। উত্তরপ্রদেশের লখনউ এবং দিল্লি বিমানবন্দর থেকে আরও ছয় ইউক্রেনীয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা তার সহযোগী ও প্রশিক্ষণে যুক্ত।

তারা টুরিস্ট ভিসায় ভারতে প্রবেশ করে, গুয়াহাটির মাধ্যমে মিজোরাম এবং অবৈধভাবে মিয়ানমারে গিয়ে স্থানীয় জঙ্গি সংগঠনগুলোকে প্রশিক্ষণ দিত। মূল প্রশিক্ষণের বিষয় ছিল ড্রোন হামলা, সীমান্ত অপ্রাপ্তি, এবং আধুনিক কৌশলে সন্ত্রাসী হামলা চালানো।

ভ্যানডাইক ২০১১ সালে লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গ্রেফতার হন। ছয় মাস জেল খাটার পর পালিয়ে সিরিয়ায় যান, সেখানে তথ্যচিত্র নির্মাণের পাশাপাশি জঙ্গি সংগঠনগুলোর পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ শুরু করেন।

২০১৪ সালে তার তথ্যচিত্র ‘পয়েন্ট অ্যান্ড শুট’ ত্রিবেকা চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা তথ্যচিত্রের পুরস্কার জেতে।

এরপর তিনি ইরাকে গিয়ে ‘সন্স অব লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। এখানে সেনা প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সরবরাহ ও ভাড়া করা সেনা প্রদানের কাজ শুরু করেন।

২০২২ সালে তার সংস্থা ইউক্রেনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সেনা ভাড়া দেয় এবং পরবর্তী সময়ে জঙ্গি সংগঠনগুলোকে আধুনিক অস্ত্র সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ চালু রাখে।

ঘটনাটি দেখায়, বিদেশি নাগরিক কিভাবে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ব্যবহার করে জঙ্গি কার্যক্রম চালাতে পারে। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপ না থাকলে, সীমান্তপারে এই ধরনের প্রশিক্ষণ আরও বড় সঙ্কট তৈরি করতে পারত।