৯ বাংলাদেশির মৃত্যু
কলকাতার হোটেলে ফায়ার অ্যালার্মও ছিল না
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৫৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 25
কলকাতার নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নয় বাংলাদেশি নিহত হওয়ার পর হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অতিথিদের অভিযোগ, হোটেলে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি আগুন লাগার পরও কোনো ফায়ার অ্যালার্ম বাজেনি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতের দিকে ওই হোটেলের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে দমকল। পরে দ্রুত ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে ভবনের বিভিন্ন অংশ। ঘুমন্ত আবাসিকদের অনেকে কক্ষের মধ্যে আটকা পড়েন। পরে দমকলকর্মীরা তাদের উদ্ধার করেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহতদের কয়েকজন চিকিৎসা ও ব্যবসার কাজে কলকাতায় এসেছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। আগুনে কয়েকজনের শরীরে পোড়ার চিহ্ন পাওয়া গেলেও মৃত্যুর মূল কারণ আগুনে দগ্ধ হওয়া নাকি ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভবনটি মূলত আবাসিক ব্যবহারের জন্য নির্মিত হয়েছিল। গত তিন-চার বছরে সেটি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার শুরু হয়। ভবনের প্রতিটি তলায় ছোট ছোট কক্ষ তৈরি করে হোটেল পরিচালনা করা হচ্ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, বাণিজ্যিক ভবন হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে জরুরি বহির্গমন পথ থাকা বাধ্যতামূলক হলেও ওই ভবনে আলাদা কোনো জরুরি গেট ছিল না। প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য ছিল মাত্র একটি সরু পথ।
হোটেলের কয়েকজন অতিথির দাবি, আগুন লাগার পরও কোনো অ্যালার্ম বাজেনি। ফলে অনেক আবাসিক সময়মতো বিষয়টি জানতে পারেননি। একজন অতিথি জানান, রাত আড়াইটার দিকে হোটেলের এক কর্মী এসে তাদের ঘুম থেকে তুলে আগুনের খবর দেন। নিচে নেমে সরু পথ দিয়ে বের হওয়ার সময় ধোঁয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, আগুনের চেয়ে ধোঁয়াই পরিস্থিতিকে বেশি বিপজ্জনক করে তুলেছিল। ধোঁয়ায় হোটেলের ভেতর এতটাই অন্ধকার হয়ে যায় যে সামনে কিছু দেখা যাচ্ছিল না। শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল। পরে দমকলকর্মীরা একে একে আবাসিকদের নিরাপদে বের করে আনেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর নিউ মার্কেট এলাকার অন্যান্য হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক হোটেলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকলেও সেগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করা হয় না। আবার কোথাও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাই নেই।
বিশেষ করে দমকল সদর দপ্তরের কাছাকাছি এলাকায় কীভাবে অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম উপেক্ষা করে একটি হোটেল পরিচালিত হচ্ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। নিউ মার্কেট থানা, কলকাতা পৌরসভা ও খাদ্যভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ওই এলাকার কাছেই।
হোটেলটির দমকলের ছাড়পত্র ও ট্রেড লাইসেন্স ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি নিউ মার্কেট এলাকার অন্যান্য হোটেলেও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী বলেন, হোটেলগুলো কীভাবে পারমিট ও ট্রেড লাইসেন্স পেয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে বিজেপি নেতা সন্তোষ পাঠক অভিযোগ করেছেন, ভবনটি মূলত আবাসিক ব্যবহারের জন্য নির্মিত হলেও পরে বেআইনিভাবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। হোটেলের কক্ষ বাড়ানোর সময় ভবনের পিলার কাটা হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। এতে ভবনের কাঠামো দুর্বল হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি তার।
এর মাত্র কয়েক দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের তারাপীঠের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। পরপর দুটি অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় রাজ্যের হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।





























