ঢাকা ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বান্দরবান জেলা পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান মাম্যাচিং

আকাশ মারমা মংসিং, বান্দরবান
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:১৬:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 209

বান্দরবান জেলা পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান মাম্যাচিং

মাম্যাচিং মারমাকে চেয়ারম্যান করে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার।  মোট ১৫ সদস্যের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিষদ-১ শাখার যুগ্মসচিব সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের পাশাপাশি নতুন পরিষদে ১৪ জন সদস্য রাখা হয়েছে। এতে বান্দরবান সদর, আলীকদম, রোয়াংছড়ি, রুমাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন পরিষদের সদস্যরা হলেন; চনুমং, মংক্যনু মারমা, লুসাই মং, মাওসেতুং তংচংগ্যা, দনওয়াই লো, আগস্টিন ত্রিপুরা, অংজাই উই চাক, রিয়াল দাও বম, আবদুল মাবুদ, মশিউর রহমান, মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন, ক্যউ প্রু খিয়াং, উম্যাসিং মার্মা ও কাজী নিরুতাঞ্জ বেগম।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯ এবং পরবর্তী সংশোধনীতে সরকারের ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। নতুন পরিষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর জেলা পরিষদ-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

কে এই মাম্যাচিং

মাম্যাচিং বান্দরবানের রাজনীতিতে পরিচিত একটি নাম। ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন তিনি। মারমা নারীদের মধ্যে প্রথম স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে।

বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর তিনি পঞ্চম ও ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি।

এ ছাড়া ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন মাম্যাচিং। দীর্ঘ সময় জেলা বিএনপির নেতৃত্বেও ছিলেন তিনি। ১৯৯৮ থেকে ২০০৭ সাল এবং ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বান্দরবান জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

এর বাইরে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ট্রাস্টি এবং বিএনপির উপজাতি বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি বান্দরবান জেলা বিএনপির সদস্য।

পার্বত্য অঞ্চলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং নারী নেতৃত্বের কারণে বান্দরবানে মাম্যাচিংয়ের রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। এবার অন্তর্বর্তীকালীন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যক্রমে তার নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বান্দরবান জেলা পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান মাম্যাচিং

সর্বশেষ আপডেট ০৫:১৬:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

মাম্যাচিং মারমাকে চেয়ারম্যান করে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার।  মোট ১৫ সদস্যের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিষদ-১ শাখার যুগ্মসচিব সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের পাশাপাশি নতুন পরিষদে ১৪ জন সদস্য রাখা হয়েছে। এতে বান্দরবান সদর, আলীকদম, রোয়াংছড়ি, রুমাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন পরিষদের সদস্যরা হলেন; চনুমং, মংক্যনু মারমা, লুসাই মং, মাওসেতুং তংচংগ্যা, দনওয়াই লো, আগস্টিন ত্রিপুরা, অংজাই উই চাক, রিয়াল দাও বম, আবদুল মাবুদ, মশিউর রহমান, মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন, ক্যউ প্রু খিয়াং, উম্যাসিং মার্মা ও কাজী নিরুতাঞ্জ বেগম।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯ এবং পরবর্তী সংশোধনীতে সরকারের ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। নতুন পরিষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর জেলা পরিষদ-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

কে এই মাম্যাচিং

মাম্যাচিং বান্দরবানের রাজনীতিতে পরিচিত একটি নাম। ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন তিনি। মারমা নারীদের মধ্যে প্রথম স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে।

বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর তিনি পঞ্চম ও ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি।

এ ছাড়া ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন মাম্যাচিং। দীর্ঘ সময় জেলা বিএনপির নেতৃত্বেও ছিলেন তিনি। ১৯৯৮ থেকে ২০০৭ সাল এবং ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বান্দরবান জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

এর বাইরে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ট্রাস্টি এবং বিএনপির উপজাতি বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি বান্দরবান জেলা বিএনপির সদস্য।

পার্বত্য অঞ্চলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং নারী নেতৃত্বের কারণে বান্দরবানে মাম্যাচিংয়ের রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। এবার অন্তর্বর্তীকালীন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যক্রমে তার নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।