ঢাকা ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশ লাইন্সে গান বাজানো নিয়ে উত্তেজনা, আহত ২০ মাদরাসাছাত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৪২:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 18

পুলিশ লাইন্সে গান বাজানো নিয়ে উত্তেজনা, আহত ২০ মাদরাসাছাত্র

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পুলিশের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুলিশ লাইন্সে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। উচ্চস্বরে গান বাজানো নিয়ে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের বিরোধের একপর্যায়ে লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২০ মাদরাসাছাত্র আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলা শহরের পশ্চিম মেড্ডা এলাকায় পুলিশ লাইন্সে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগমন উপলক্ষে জেলা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ডিআইজি অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে যাওয়ার পরও অনুষ্ঠান চলতে থাকে।

এ সময় উচ্চস্বরে গান বাজানোয় পাশের জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীরা পুলিশ লাইন্সে গিয়ে শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। তাদের দাবি, বুধবার মাদরাসায় পরীক্ষা থাকায় উচ্চ শব্দে পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছিল।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, প্রথমে কয়েকজন গিয়ে শব্দ কমানোর অনুরোধ করলে কিছু সময়ের জন্য তা কমানো হয়। পরে আবার শব্দ বাড়ানো হলে এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শতাধিক শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সের ভেতরে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে।

ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীরা দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিকভাবে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব সাজিদুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে পুলিশ লাইন্সে গান-বাজনার অনুষ্ঠান না করা, আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ বলেন, পুলিশ লাইন্সে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। শব্দের কারণে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সমস্যা হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, তা মূলত ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে।

তিনি বলেন, কেউ অতিউৎসাহী হয়ে পরিস্থিতি খারাপ করে থাকলে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আহত শিক্ষার্থীদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পুলিশ লাইন্সে গান বাজানো নিয়ে উত্তেজনা, আহত ২০ মাদরাসাছাত্র

সর্বশেষ আপডেট ০১:৪২:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পুলিশের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুলিশ লাইন্সে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। উচ্চস্বরে গান বাজানো নিয়ে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের বিরোধের একপর্যায়ে লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২০ মাদরাসাছাত্র আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলা শহরের পশ্চিম মেড্ডা এলাকায় পুলিশ লাইন্সে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগমন উপলক্ষে জেলা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ডিআইজি অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে যাওয়ার পরও অনুষ্ঠান চলতে থাকে।

এ সময় উচ্চস্বরে গান বাজানোয় পাশের জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীরা পুলিশ লাইন্সে গিয়ে শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। তাদের দাবি, বুধবার মাদরাসায় পরীক্ষা থাকায় উচ্চ শব্দে পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছিল।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, প্রথমে কয়েকজন গিয়ে শব্দ কমানোর অনুরোধ করলে কিছু সময়ের জন্য তা কমানো হয়। পরে আবার শব্দ বাড়ানো হলে এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শতাধিক শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সের ভেতরে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে।

ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীরা দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিকভাবে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব সাজিদুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে পুলিশ লাইন্সে গান-বাজনার অনুষ্ঠান না করা, আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ বলেন, পুলিশ লাইন্সে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। শব্দের কারণে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সমস্যা হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, তা মূলত ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে।

তিনি বলেন, কেউ অতিউৎসাহী হয়ে পরিস্থিতি খারাপ করে থাকলে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আহত শিক্ষার্থীদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে।