ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষককে গণপিটুনি
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৯:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 64
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শাহ আলম নামে এক সহকারী শিক্ষককে গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিলে অসুস্থ হয়ে পড়ায় প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার বড় বাইসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে সহকারী শিক্ষক শাহ আলম বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছেন; এমন অভিযোগ সোমবার স্কুল পরিচালনা কমিটির এক সদস্য প্রধান শিক্ষককে জানান। পরে প্রধান শিক্ষক ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।
ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, শিক্ষক শাহ আলম গত দুই সপ্তাহ ধরে তাকে দুপুরের খাবারের জন্য প্রতিদিন ১০ টাকা করে দিতেন। সোমবার তিনি নিজের হাতে ‘ওয়াশরুমে যাও’ লিখে ছাত্রীকে দেখান। এতে ভয় পেয়ে ওই ছাত্রী ওয়াশরুমে না গিয়ে স্কুল থেকে বাড়িতে চলে যায়। পরে বিষয়টি সে তার বাবা-মাকে জানায়।
প্রধান শিক্ষক পিয়ার মোহাম্মদ বলেন, তিনি ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি যথাযথভাবে দেখার আশ্বাস দিয়ে বিদ্যালয়ে ফেরেন। এরপর অফিসে ঢোকার কয়েক মিনিটের মধ্যে ছাত্রীর চাচা সৌরভ সরকারসহ ১০-১২ জন ব্যক্তি শিক্ষক শাহ আলমকে মারধর করেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার করে হামলাকারীদের বাইরে বের করে দেন। পরে হামলাকারীরা স্কুলের সামনে অবস্থান নিয়ে আবারও হামলার চেষ্টা করেন বলে দাবি করেন তিনি।
প্রধান শিক্ষক আরও জানান, শাহ আলম তিন মাস আগে পিটিআই প্রশিক্ষণ শেষ করে বিদ্যালয়ে যোগ দেন। এর আগে তার বিরুদ্ধে কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঘটনার পর স্থানীয়রা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকের কাছে একটি হাতে লেখা অভিযোগপত্র দেন। তবে চিঠিটিতে কোনো স্বাক্ষর বা প্রাপক উল্লেখ করা হয়নি। চিঠির ভাষা ও লেখার ধরন নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুখদেব বিশ্বাস বলেন, তিনি ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন না। তবে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন, শিক্ষক ওই ছাত্রীকে ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলেছিলেন এবং সেখানে তার সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষকের ওপর হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ ওঠা সৌরভ সরকার বলেন, তার ভাতিজির সঙ্গে শিক্ষক আপত্তিকর আচরণ করেছেন বলে পরিবারের কাছ থেকে জানতে পেরে তারা স্কুলে যান। পরে স্থানীয়রা শিক্ষককে মারধর করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক শাহ আলম বলেন, তিনি এমন কোনো ঘটনা ঘটাননি। তার দাবি, অভিযোগের কথা শুনে প্রধান শিক্ষক ছাত্রীর বাড়িতে যাওয়ার পর স্কুলে ফিরে আসেন। এরপরই কয়েকজন তাকে বেধড়ক মারধর করেন।
কালীগঞ্জ থানার ওসি কবির হোসেন জানান, স্থানীয়রা শিক্ষককে বিদ্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে ইসিজি করানো হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ওসি আরও জানান, শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কালীগঞ্জের ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, শিক্ষককে মারধর ও অবরুদ্ধ করার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে স্থানীয়রা শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীর নিপীড়নের অভিযোগ করেন। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।





























