ঢাকা ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৫২ টাকার ভারতীয় ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ টাকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:২৫:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 14

যশোরের বাজারে ভারতীয় ইলিশ

দুর্গাপূজাকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি ইলিশের চাহিদা বরাবরই বেশি। পূজার আগে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে ভারতের বাজারে থাকে ব্যাপক আগ্রহ। তবে এবার চিত্র কিছুটা ভিন্ন। বাংলাদেশে ঢুকছে ভারত ও মিয়ানমারের ইলিশ। আর এসব মাছের কিছু অংশ যশোরের বাজারে পদ্মার ইলিশের নামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে ১৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে এসেছে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ। এর মধ্যে আগস্ট মাসেই আমদানি হয়েছে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি। জুলাইয়ে এসেছে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি। এসব ইলিশ আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

বেনাপোল বন্দরের মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের পরিদর্শক আসাদুল আলম বলেন, ভারত থেকে মাছের চালান বাংলাদেশে প্রবেশের পর সরেজমিনে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা শেষে মাছের ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

ভারতের পাশাপাশি মিয়ানমার থেকেও ইলিশ আসছে। যশোরের বড়বাজারে এসব মাছের কিছু অংশ পদ্মার ইলিশ পরিচয়ে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আমদানি করা মাছের প্রতি কেজিতে ব্যয় পড়ছে প্রায় ৫১৪ টাকা। অথচ বাজারে সেগুলো বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত দামে। দেশি ইলিশের তুলনায় দাম কম হওয়ায় এসব মাছের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়ছে।

এক ক্রেতা বলেন, ভারতীয় ইলিশও তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। দেখতে দেশি ইলিশের মতোই হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে পার্থক্য বোঝা কঠিন।

দেশি ইলিশের নামে বিদেশি মাছ বিক্রির অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন যশোরের জেলা প্রশাসক আশেক হাসান। তিনি বলেন, এভাবে ক্রেতারা প্রতারিত হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। এ জন্য ম্যাজিস্ট্রেট, মৎস্য অফিস ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে অভিযান চালানো হবে।

এদিকে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানির জন্য ভারতের মাছ আমদানিকারক সমিতি আবেদন করেছে। একই সময়ে বাংলাদেশের ১৮টি প্রতিষ্ঠান পশ্চিমবঙ্গে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের এ ধরনের পাল্টাপাল্টি বাণিজ্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নও তৈরি হয়েছে।

টিআইবি যশোর শাখার সভাপতি পাভেল চৌধুরি বলেন, বিদেশি মাছ দেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে সরকারের নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। নিম্নমানের বা ভুল পরিচয়ে কোনো পণ্য যাতে বাজারে বিক্রি হতে না পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।

আমদানি করা ইলিশের উৎস ও পরিচয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে বিক্রি এবং বাজারে নিয়মিত মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

২৫২ টাকার ভারতীয় ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ টাকায়

সর্বশেষ আপডেট ১০:২৫:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুর্গাপূজাকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি ইলিশের চাহিদা বরাবরই বেশি। পূজার আগে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে ভারতের বাজারে থাকে ব্যাপক আগ্রহ। তবে এবার চিত্র কিছুটা ভিন্ন। বাংলাদেশে ঢুকছে ভারত ও মিয়ানমারের ইলিশ। আর এসব মাছের কিছু অংশ যশোরের বাজারে পদ্মার ইলিশের নামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে ১৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে এসেছে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ। এর মধ্যে আগস্ট মাসেই আমদানি হয়েছে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি। জুলাইয়ে এসেছে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি। এসব ইলিশ আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

বেনাপোল বন্দরের মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের পরিদর্শক আসাদুল আলম বলেন, ভারত থেকে মাছের চালান বাংলাদেশে প্রবেশের পর সরেজমিনে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা শেষে মাছের ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

ভারতের পাশাপাশি মিয়ানমার থেকেও ইলিশ আসছে। যশোরের বড়বাজারে এসব মাছের কিছু অংশ পদ্মার ইলিশ পরিচয়ে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আমদানি করা মাছের প্রতি কেজিতে ব্যয় পড়ছে প্রায় ৫১৪ টাকা। অথচ বাজারে সেগুলো বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত দামে। দেশি ইলিশের তুলনায় দাম কম হওয়ায় এসব মাছের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়ছে।

এক ক্রেতা বলেন, ভারতীয় ইলিশও তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। দেখতে দেশি ইলিশের মতোই হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে পার্থক্য বোঝা কঠিন।

দেশি ইলিশের নামে বিদেশি মাছ বিক্রির অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন যশোরের জেলা প্রশাসক আশেক হাসান। তিনি বলেন, এভাবে ক্রেতারা প্রতারিত হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। এ জন্য ম্যাজিস্ট্রেট, মৎস্য অফিস ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে অভিযান চালানো হবে।

এদিকে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানির জন্য ভারতের মাছ আমদানিকারক সমিতি আবেদন করেছে। একই সময়ে বাংলাদেশের ১৮টি প্রতিষ্ঠান পশ্চিমবঙ্গে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের এ ধরনের পাল্টাপাল্টি বাণিজ্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নও তৈরি হয়েছে।

টিআইবি যশোর শাখার সভাপতি পাভেল চৌধুরি বলেন, বিদেশি মাছ দেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে সরকারের নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। নিম্নমানের বা ভুল পরিচয়ে কোনো পণ্য যাতে বাজারে বিক্রি হতে না পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।

আমদানি করা ইলিশের উৎস ও পরিচয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে বিক্রি এবং বাজারে নিয়মিত মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।