ঢাকা ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারের নাম ভাঙিয়ে ব্যবসার সুযোগ নেই: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৫:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 55

সরকারের নাম ভাঙিয়ে ব্যবসার সুযোগ নেই: অর্থমন্ত্রী

সরকারের নাম ভাঙিয়ে কিংবা ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়ে কাউকে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বন্দর দেশি কিংবা বিদেশি যে প্রতিষ্ঠানের হাতেই থাকুক না কেন, দেশের আইন ও নির্ধারিত নিয়ম মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বন্দর ভবনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কাস্টমস, চট্টগ্রাম চেম্বার, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, শিপিং এজেন্টসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী।

বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বন্দর ও কাস্টমসের জটিলতা নিরসন, পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা কমানো, বন্দর ব্যবস্থাপনায় গতি আনা এবং ব্যবসার খরচ কমানোর বিষয়ে বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি কোনটি কত সময়ের মধ্যে সমাধান করা হবে, সেটিও নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, বন্দর ও কাস্টমসের মধ্যে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি দুই পক্ষের মধ্যে তৈরি হওয়া সমস্যাগুলো সমন্বিতভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেবে।

সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়ে ব্যবসা করার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কে কার সঙ্গে পরিচিত; এ সরকারের অধীনে এসব চলবে না। আমরা কোনো পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে কাউকে ব্যবসা করতে দেব না। যে যত বড় মন্ত্রী বা ক্ষমতাবানই হোক, কারও জন্যই এ সুযোগ নেই।’

বন্দর পরিচালনার বিষয়ে তিনি বলেন, বন্দর যে প্রতিষ্ঠানই পরিচালনা করুক, তাকে জনগণ, ব্যবসা, শিল্প ও দেশের অর্থনীতির স্বার্থে নির্ধারিত নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে। বন্দর দেশি না বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকবে, সেটি মূল বিষয় নয়; বরং যে প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব পাবে, তাকে এসব বিষয় নিশ্চিত করতে হবে।

বন্ধ গার্মেন্ট কারখানা চালু করা এবং শিল্পের পরিবেশ উন্নয়নের বিষয়ে আমির খসরু বলেন, শিল্পকারখানাগুলো যাতে নির্বিঘ্নে পরিচালিত হতে পারে, কেউ যাতে অযথা বাধার মুখে না পড়েন এবং ব্যবসার ব্যয় কমে আসে, সে জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, অর্থনীতিকে ইতোমধ্যে সরলীকরণ ও ডিরেগুলেশন করা হয়েছে। করের চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে নতুন শিল্প গড়ে ওঠে এবং বিদ্যমান শিল্প সম্প্রসারিত হতে পারে। এসব পদক্ষেপের ফলে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি ও শিল্পায়ন বাড়ানো এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। ব্যবসায়ীরা যাতে অপ্রয়োজনীয় বাধার মুখে না পড়েন, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রমে আগামী দিনে নতুন ধারার সূচনা হবে মন্তব্য করে আমির খসরু বলেন, এর সুফল ব্যবসায়ী, সরকার ও সাধারণ মানুষ; সব পক্ষই পাবে। এর মাধ্যমে ২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জনের পথ আরও সহজ হবে।

এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসন ব্লুতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট (দক্ষিণ, মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া) ইংমিং ইয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী।

বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে আমির খসরু বলেন, এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট চট্টগ্রামে এসে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। এর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামকে ঘিরে এডিবির বড় ধরনের পরিকল্পনার বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে শুধু লজিস্টিক হাব হিসেবে নয়, ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নের অগ্রপথিক হিসেবেও দেখতে চায় এডিবি। এ কারণে এডিবির সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সরকারের নাম ভাঙিয়ে ব্যবসার সুযোগ নেই: অর্থমন্ত্রী

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৫:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

সরকারের নাম ভাঙিয়ে কিংবা ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়ে কাউকে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বন্দর দেশি কিংবা বিদেশি যে প্রতিষ্ঠানের হাতেই থাকুক না কেন, দেশের আইন ও নির্ধারিত নিয়ম মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বন্দর ভবনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কাস্টমস, চট্টগ্রাম চেম্বার, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, শিপিং এজেন্টসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী।

বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বন্দর ও কাস্টমসের জটিলতা নিরসন, পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা কমানো, বন্দর ব্যবস্থাপনায় গতি আনা এবং ব্যবসার খরচ কমানোর বিষয়ে বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি কোনটি কত সময়ের মধ্যে সমাধান করা হবে, সেটিও নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, বন্দর ও কাস্টমসের মধ্যে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি দুই পক্ষের মধ্যে তৈরি হওয়া সমস্যাগুলো সমন্বিতভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেবে।

সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়ে ব্যবসা করার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কে কার সঙ্গে পরিচিত; এ সরকারের অধীনে এসব চলবে না। আমরা কোনো পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে কাউকে ব্যবসা করতে দেব না। যে যত বড় মন্ত্রী বা ক্ষমতাবানই হোক, কারও জন্যই এ সুযোগ নেই।’

বন্দর পরিচালনার বিষয়ে তিনি বলেন, বন্দর যে প্রতিষ্ঠানই পরিচালনা করুক, তাকে জনগণ, ব্যবসা, শিল্প ও দেশের অর্থনীতির স্বার্থে নির্ধারিত নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে। বন্দর দেশি না বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকবে, সেটি মূল বিষয় নয়; বরং যে প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব পাবে, তাকে এসব বিষয় নিশ্চিত করতে হবে।

বন্ধ গার্মেন্ট কারখানা চালু করা এবং শিল্পের পরিবেশ উন্নয়নের বিষয়ে আমির খসরু বলেন, শিল্পকারখানাগুলো যাতে নির্বিঘ্নে পরিচালিত হতে পারে, কেউ যাতে অযথা বাধার মুখে না পড়েন এবং ব্যবসার ব্যয় কমে আসে, সে জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, অর্থনীতিকে ইতোমধ্যে সরলীকরণ ও ডিরেগুলেশন করা হয়েছে। করের চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে নতুন শিল্প গড়ে ওঠে এবং বিদ্যমান শিল্প সম্প্রসারিত হতে পারে। এসব পদক্ষেপের ফলে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি ও শিল্পায়ন বাড়ানো এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। ব্যবসায়ীরা যাতে অপ্রয়োজনীয় বাধার মুখে না পড়েন, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রমে আগামী দিনে নতুন ধারার সূচনা হবে মন্তব্য করে আমির খসরু বলেন, এর সুফল ব্যবসায়ী, সরকার ও সাধারণ মানুষ; সব পক্ষই পাবে। এর মাধ্যমে ২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জনের পথ আরও সহজ হবে।

এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসন ব্লুতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট (দক্ষিণ, মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া) ইংমিং ইয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী।

বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে আমির খসরু বলেন, এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট চট্টগ্রামে এসে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। এর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামকে ঘিরে এডিবির বড় ধরনের পরিকল্পনার বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে শুধু লজিস্টিক হাব হিসেবে নয়, ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নের অগ্রপথিক হিসেবেও দেখতে চায় এডিবি। এ কারণে এডিবির সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।