মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক তারা মাস্টারের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:০২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 97
ন্যাপ কমিউনিস্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনীর কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুর অঞ্চলের সাব সেক্টর কমান্ডার এবং মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রশীদ তারা মাস্টারের মৃত্যুবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার।
তাঁর জন্ম ১৯৪২ সালের ১ নভেম্বর নরসিংদী জেলার মনোহরদীর বীর আহমেদপুর এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে । তাঁর বাবার নাম আব্দুল ছোবহান ও মা আকিমুন্নেছা।
আবদুর রশীদ তারা মাস্টার এদেশের কৃষক শ্রমিক-সর্বহারা মানুষের মুক্তির আন্দোলন, ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান আর ‘৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। নিজের সাহসী নেতৃত্বের বলে এলাকার মানুষের কাছে তিনি জননেতার আসনে অভিষিক্ত হন। পাকিস্তান আমলে গোপন কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত হয়ে প্রকাশ্যে ন্যাপের ব্যানারে প্রগতিশীল কাজকর্ম চালিয়ে যেতেও পিছপা হননি তিনি। অসাধারণ নেতৃত্বের অধিকারী ছিলেন তিনি। পাকিস্তান আমলে একদিকে চরম সাম্প্রদায়িক মুসলিম লীগের দাপট অন্যদিকে নব্য উঠতি বুর্জোয়া রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে টেক্কা দিয়ে নরসিংদী কলেজ ছাত্র সংসদের ভি.পি নির্বাচিত হন।
একাত্তরের মার্চে মনোহরদী করতালিতে তিনিই প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে মুসলিম লীগ সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে মানুষকে সংগঠিত করতে শুরু করেন। কৃষকদের নিয়ে ইজারা প্রথার বিরুদ্ধে এক জঙ্গি আন্দোলন গড়ে তোলার ফলে সরকার বাধ্য হয় ইজারা প্রথা বাতিল করতে। এভাবেই আবদুর রশীদ তারা মাষ্টারের বীরত্বের ইতিহাস বাম রাজনীতিকে জনপ্রিয় করে তোলেন গণমানুষের কাছে। একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় পাকিস্তানি হানাদারবাহিনীর অপারশেন সাচলাইট চালায়। তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক কলাকৌশল এবং মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত প্রশিক্ষণ গ্রহণের উদ্যোগ নেন। নিজ এলাকা সাগরদীর জমিদার বাড়ির নির্জন আম বাগানে ছাত্র-যুবক-কৃষক জনতার এক গেরিলা ট্রেনিং ক্যাম্প গঠন করেন। অবসরপ্রাপ্ত সামরিক সেনাসদস্যদের দিয়ে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেন।
শিক্ষা ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান অনেক। তিনি ১৯৬২ সালে কপালেশ্বর হাইস্কুল, ১৯৭৩ সালে সাগরদি গার্লস হাইস্কুল ও মনোহরদী কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
নীলাচলে কলাবিতান বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান তথা গণমানুষের ‘সর্ববৃহৎ সাংস্কৃতিক প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর মনোহরদী উপজেলা শাখার অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি। এই মহান বিপ্লবীর উদ্যোগে এলাকায় ‘গরিব কেন মবে, একমুঠো অন্ন চাই’, ‘বিষাদসিন্ধু’, ‘ভাষা শহীদেরা মরে নাই’, ২৯ ফেব্রুয়ারি ফিরিয়ে দাও’ ইত্যাদি নাটকসমূহ মঞ্চায়িত হয়।
১৯৭৩ সালের জাতীয় নির্বাচনে আবদুর রশীদ তারা মাষ্টার মনোহরদী থেকে ‘কুঁড়েঘর’ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিজয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তিনি সেই নির্বাচনে বিপুল ভোট পাওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক জনপ্রিয়তাও পেয়েছিলেন।
১৯৭৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন তিনি। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর নিজ গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় বীর আহম্মদপুরে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং কাঙালি ভোজের আয়োজন করা হয়েছে।





































