প্রবাসীদের জন্য নতুন ব্যাংক হিসাব সুবিধা চালু
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৯:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
- / 110
বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ ও বৈধ রেমিট্যান্স পাঠানো আরও সহজ করতে নতুন ধরনের ব্যাংক হিসাব চালুর অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশে অর্থ সংরক্ষণ, বিনিয়োগ এবং প্রয়োজন হলে বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ পাবেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ উৎসাহিত করতে ‘অনিবাসী বিনিময়যোগ্য টাকা হিসাব’ চালুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে সম্প্রতি একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশের ব্যাংকে সঞ্চয়ী, চলতি কিংবা স্থায়ী আমানত হিসাব খুলতে পারবেন। ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে এসব হিসাব পরিচালিত হবে।
এই হিসাবে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স, অন্যান্য অনিবাসী হিসাব থেকে স্থানান্তরিত অর্থ, বিনিয়োগ থেকে অর্জিত আয়, সুদ বা মুনাফা এবং অনুমোদিত বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা উৎসের অর্থ জমা রাখা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, হিসাবে জমা থাকা অর্থ এবং এর বিপরীতে অর্জিত মুনাফা বা সুদ সম্পূর্ণভাবে বিদেশে স্থানান্তরযোগ্য থাকবে। ফলে হিসাবধারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী সহজেই অর্থ প্রত্যাবাসন করতে পারবেন।
এ ছাড়া হিসাবের অর্থ দেশের ভেতরে বিভিন্ন আর্থিক কাজে ব্যবহার করা যাবে। স্থানীয় পরিশোধ, অন্যান্য অনিবাসী হিসাবের মধ্যে অর্থ স্থানান্তর, বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে রূপান্তর এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা পোর্টফোলিও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও এই তহবিল ব্যবহার করা যাবে।
নতুন সুবিধার আওতায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও বেজার আওতাধীন ‘টাইপ-এ’ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট শর্তে ঋণ দেওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে এ ঋণ কেবল বেতন-ভাতা, মজুরি ও ইউটিলিটি বিলের মতো অনুমোদিত চলতি ব্যয়ের জন্য ব্যবহার করা যাবে এবং তা রপ্তানি আয় থেকে পরিশোধ করতে হবে।
এ ছাড়া হিসাবে থাকা অর্থের বিপরীতে জামানত রেখে প্রবাসী বা তাদের মনোনীত ব্যক্তি ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। তবে কৃষি, বাগান ও আবাসন খাতে এই ঋণের অর্থ ব্যবহার করা যাবে না।
ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই উদ্যোগ বৈধ রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রবাসীদের দেশীয় বিনিয়োগে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে অফশোর ব্যাংকিং কার্যক্রমও আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।






























