ঢাকা ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক যুগ পেরিয়েও অধরা ববির প্রথম সমাবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৫৪:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 154

এক যুগ পেরিয়েও অধরা ববির প্রথম সমাবর্তন

২০১১ সালে প্রতিষ্ঠার পর কেটে গেছে প্রায় দেড় দশক। এরই মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) একাধিক ব্যাচ স্নাতক সম্পন্ন করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছে, অনেকে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে। তবে শিক্ষাজীবনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন সমাবর্তন থেকে এখনো বঞ্চিত বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থীরা।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রথম সমাবর্তন আয়োজন নিয়ে একাধিকবার উদ্যোগ ও আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। সর্বশেষ ২০২৫ সালের শেষ দিকে ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারিকে সম্ভাব্য তারিখ ধরে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে ওই তারিখও পেরিয়ে গেছে। এখনো সমাবর্তনের নতুন কোনো তারিখ ঘোষণা হয়নি।

বারবার উদ্যোগ, তবুও হয়নি সমাবর্তন

২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য প্রথম সমাবর্তন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর ২০২২ সালে সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতির অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনাও হয়। তৎকালীন উপাচার্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানান।

এরপর ২০২৪ সালের শুরুতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই বছরই সমাবর্তন আয়োজনের আশ্বাস দেওয়া হয়। একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণও জানানো হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ঘোষিত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠানটি হয়নি।

২০২৫ সালেও বিষয়টি নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, তখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ব্যাচ স্নাতক সম্পন্ন করলেও প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রায় ১৪ হাজার সাবেক শিক্ষার্থী সমাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও সে সময় বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে।

মূল সনদ নিয়েও ভোগান্তি

সমাবর্তন না হওয়ায় শুধু আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি থেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন না সাবেক শিক্ষার্থীরা; কেউ কেউ মূল সনদ না পাওয়ায় চাকরি ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

২০২৫ সালের শেষ দিকে আবারও প্রথম সমাবর্তন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারিকে সম্ভাব্য তারিখ ধরে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে সমাবর্তনের পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা বা ‘কনভোকেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সমাবর্তন হয়নি।

‘দ্রুতই আপডেট পাবেন’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. আব্দুল আলিম বাছির বলেন, প্রতিবছর সমাবর্তন হওয়া উচিত। তবে বাংলাদেশের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই নানা কারণে প্রতিবছর সমাবর্তন আয়োজন করা হয় না।

তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন এ বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন। প্রথম কনভোকেশন যাতে দ্রুত আয়োজন করা যায়, সে বিষয়ে প্রশাসন কাজ করছে। এ বিষয়ে আপনারা খুব শিগগিরই আপডেট পাবেন।” তবে উপাচার্যের বক্তব্যে পাওয়া গেছে ভিন্ন বার্তা।

‘আমাদের পরিকল্পনায় এখন সমাবর্তন নেই’

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন অর রশিদ বলেন, “আমরা এখনো সমাবর্তন নিয়ে কিছু চিন্তা করিনি। আমাদের প্ল্যান অব ওয়ার্ক আছে। সেখানে কিছু ডেভেলপমেন্ট ও বেসিক রিফর্মের কথা চিন্তা করছি। ইনশাআল্লাহ সেগুলো করার পর আমরা সমাবর্তনের দিকে যাব।”

তিনি বলেন, সমাবর্তন আয়োজনের আগে ক্যাম্পাসকে পরিপাটি করা প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে সমাবর্তন আয়োজন কঠিন বলেও মনে করেন তিনি।

উপাচার্য আরও বলেন, “সবকিছু ঠিক করে তারপর ইনশাআল্লাহ আমরা সমাবর্তনের দিকে আগাব। আমাদের পরিকল্পনায় এখন সমাবর্তন নেই। জানুয়ারিতে গিয়ে আমরা চিন্তা করব কখন সমাবর্তন করা যায়।”

সাবেক শিক্ষার্থীদের হতাশা

সমাবর্তনকে শুধু গাউন পরে সনদ নেওয়ার অনুষ্ঠান হিসেবে দেখতে নারাজ সাবেক শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, এটি দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের অর্জন ও ত্যাগের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলেন, চার বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে স্বপ্ন ছিল একদিন কালো গাউন পরে সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার। কিন্তু একের পর এক ব্যাচ বেরিয়ে গেলেও সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি।

তিনি বলেন, “সমাবর্তন শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি শিক্ষাজীবনের অর্জন ও ত্যাগের স্বীকৃতি। অনেক মা-বাবাও সন্তানের সমাবর্তনের গর্বের মুহূর্ত দেখার সুযোগ হারিয়েছেন। আর অপেক্ষা নয়, দ্রুত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন আয়োজন করা হোক।”

২০১৮ সালের পরিকল্পনা, ২০২২ সালের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ, ২০২৪ সালের ‘চলতি বছরেই’ আয়োজনের আশ্বাস, ২০২৫ সালের নতুন উদ্যোগ এবং ২০২৬ সালের সম্ভাব্য তারিখ; সব মিলিয়ে প্রায় এক যুগ ধরে ঘুরেফিরে এসেছে একই প্রতিশ্রুতি। কিন্তু বাস্তবে এখনো অধরাই রয়ে গেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এক যুগ পেরিয়েও অধরা ববির প্রথম সমাবর্তন

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৫৪:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

২০১১ সালে প্রতিষ্ঠার পর কেটে গেছে প্রায় দেড় দশক। এরই মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) একাধিক ব্যাচ স্নাতক সম্পন্ন করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছে, অনেকে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে। তবে শিক্ষাজীবনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন সমাবর্তন থেকে এখনো বঞ্চিত বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থীরা।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রথম সমাবর্তন আয়োজন নিয়ে একাধিকবার উদ্যোগ ও আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। সর্বশেষ ২০২৫ সালের শেষ দিকে ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারিকে সম্ভাব্য তারিখ ধরে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে ওই তারিখও পেরিয়ে গেছে। এখনো সমাবর্তনের নতুন কোনো তারিখ ঘোষণা হয়নি।

বারবার উদ্যোগ, তবুও হয়নি সমাবর্তন

২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য প্রথম সমাবর্তন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর ২০২২ সালে সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতির অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনাও হয়। তৎকালীন উপাচার্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানান।

এরপর ২০২৪ সালের শুরুতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই বছরই সমাবর্তন আয়োজনের আশ্বাস দেওয়া হয়। একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণও জানানো হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ঘোষিত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠানটি হয়নি।

২০২৫ সালেও বিষয়টি নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, তখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ব্যাচ স্নাতক সম্পন্ন করলেও প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রায় ১৪ হাজার সাবেক শিক্ষার্থী সমাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও সে সময় বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে।

মূল সনদ নিয়েও ভোগান্তি

সমাবর্তন না হওয়ায় শুধু আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি থেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন না সাবেক শিক্ষার্থীরা; কেউ কেউ মূল সনদ না পাওয়ায় চাকরি ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

২০২৫ সালের শেষ দিকে আবারও প্রথম সমাবর্তন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারিকে সম্ভাব্য তারিখ ধরে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে সমাবর্তনের পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা বা ‘কনভোকেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সমাবর্তন হয়নি।

‘দ্রুতই আপডেট পাবেন’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. আব্দুল আলিম বাছির বলেন, প্রতিবছর সমাবর্তন হওয়া উচিত। তবে বাংলাদেশের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই নানা কারণে প্রতিবছর সমাবর্তন আয়োজন করা হয় না।

তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন এ বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন। প্রথম কনভোকেশন যাতে দ্রুত আয়োজন করা যায়, সে বিষয়ে প্রশাসন কাজ করছে। এ বিষয়ে আপনারা খুব শিগগিরই আপডেট পাবেন।” তবে উপাচার্যের বক্তব্যে পাওয়া গেছে ভিন্ন বার্তা।

‘আমাদের পরিকল্পনায় এখন সমাবর্তন নেই’

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন অর রশিদ বলেন, “আমরা এখনো সমাবর্তন নিয়ে কিছু চিন্তা করিনি। আমাদের প্ল্যান অব ওয়ার্ক আছে। সেখানে কিছু ডেভেলপমেন্ট ও বেসিক রিফর্মের কথা চিন্তা করছি। ইনশাআল্লাহ সেগুলো করার পর আমরা সমাবর্তনের দিকে যাব।”

তিনি বলেন, সমাবর্তন আয়োজনের আগে ক্যাম্পাসকে পরিপাটি করা প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে সমাবর্তন আয়োজন কঠিন বলেও মনে করেন তিনি।

উপাচার্য আরও বলেন, “সবকিছু ঠিক করে তারপর ইনশাআল্লাহ আমরা সমাবর্তনের দিকে আগাব। আমাদের পরিকল্পনায় এখন সমাবর্তন নেই। জানুয়ারিতে গিয়ে আমরা চিন্তা করব কখন সমাবর্তন করা যায়।”

সাবেক শিক্ষার্থীদের হতাশা

সমাবর্তনকে শুধু গাউন পরে সনদ নেওয়ার অনুষ্ঠান হিসেবে দেখতে নারাজ সাবেক শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, এটি দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের অর্জন ও ত্যাগের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলেন, চার বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে স্বপ্ন ছিল একদিন কালো গাউন পরে সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার। কিন্তু একের পর এক ব্যাচ বেরিয়ে গেলেও সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি।

তিনি বলেন, “সমাবর্তন শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি শিক্ষাজীবনের অর্জন ও ত্যাগের স্বীকৃতি। অনেক মা-বাবাও সন্তানের সমাবর্তনের গর্বের মুহূর্ত দেখার সুযোগ হারিয়েছেন। আর অপেক্ষা নয়, দ্রুত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন আয়োজন করা হোক।”

২০১৮ সালের পরিকল্পনা, ২০২২ সালের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ, ২০২৪ সালের ‘চলতি বছরেই’ আয়োজনের আশ্বাস, ২০২৫ সালের নতুন উদ্যোগ এবং ২০২৬ সালের সম্ভাব্য তারিখ; সব মিলিয়ে প্রায় এক যুগ ধরে ঘুরেফিরে এসেছে একই প্রতিশ্রুতি। কিন্তু বাস্তবে এখনো অধরাই রয়ে গেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন।