বৈশ্বিক রিজার্ভ: মার্কিন ট্রেজারিকে টপকে শীর্ষে স্বর্ণ
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৮:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
- / 93
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে মার্কিন ট্রেজারি তথা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ড। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ সম্পদের তালিকায় মার্কিন সরকারি বন্ডকে ছাড়িয়ে শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে স্বর্ণ। টানা কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বিপুল পরিমাণে স্বর্ণ কেনা এবং গত দুই বছরে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে এই ঐতিহাসিক পরিবর্তন ঘটেছে। ইসিবির তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মোট বৈশ্বিক রিজার্ভ সম্পদের ২৭ শতাংশই ছিল স্বর্ণ, যা এক বছর আগে ছিল ২০ শতাংশ। একই সময়ে মার্কিন ট্রেজারির অংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২২ শতাংশে, যা আগের বছর ছিল ২৫ শতাংশ। মূলত বিভিন্ন দেশের ডলারের বিকল্প খোঁজার প্রবণতা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণেই রিজার্ভের গঠনে এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর হাতে ৩৬ হাজার টনেরও বেশি স্বর্ণ মজুদ রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থার স্বর্ণভিত্তিক ‘ব্রেটন উডস’ যুগের ৩৮ হাজার টনের কাছাকাছি। ইসিবি আরও জানায়, স্বর্ণের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়াও এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ। ২০২৫ সালে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫,৫০০ ডলার ছাড়িয়ে সর্বকালীন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। তবে সামগ্রিকভাবে ডলার-নির্ভর সম্পদ এখনও বৈশ্বিক রিজার্ভ এর সবচেয়ে বড় অংশ (৪২ শতাংশ) দখল করে রাখলেও মার্কিন ট্রেজারির ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। ২০২২ সাল থেকে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ মজুদ বৃদ্ধি করেছে চীন, পোল্যান্ড,তুরস্ক ও ভারত। এর মধ্যে স্টেবলকয়েন কোম্পানি টেথার ২০২৫ সালে একাই ১০০ টনেরও বেশি স্বর্ণ কিনে অন্যতম বড় ক্রেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তুরস্ক ২২০ টন স্বর্ণ মজুদ বাড়ালেও ২০২৬ সালের শুরুতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর দেশটি ১৩০ টন স্বর্ণ বিক্রি বা ঋণ হিসেবে দিয়েছে।
অন্যদিকে বৈশ্বিক রিজার্ভ এর ক্ষেত্রে ইউরোর হিস্যা ১৫ শতাংশেই স্থির রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক অর্থ ব্যবস্থায় ইউরোর ভূমিকা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বছর ইউরো-নির্ধারিত আন্তর্জাতিক ঋণ ইস্যু প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে।





































