ঢাকা ০১:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএসএফের পুশইন চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • / 18

নারীকে পুশইনের চেষ্টা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোকনপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে আবারও এক অজ্ঞাতনামা নারীকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইন (অনুপ্রবেশ) করানোর অপচেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জওয়ানদের তাৎক্ষণিক ও অত্যন্ত কঠোর প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের সেই অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

বিজিবি ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১৫ জুন) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নওগাঁ ১৬ বিজিবির অধীনস্থ রোকনপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ২২৫/৩-আর এলাকা সংলগ্ন সীমান্তে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। ভারতের ৮৮ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের আরকে ওয়াদা ক্যাম্পের সশস্ত্র সদস্যরা স্থানীয় এক মাঝির সহায়তা নিয়ে নৌকাযোগে ওই নারীকে জোর করে সীমান্ত নদী পার করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। ওই সময় সীমান্তের কাছাকাছি থাকা স্থানীয় বাংলাদেশি বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ওই নারীকে আটকে দেন এবং বিজিবি ক্যাম্পে খবর পাঠান। খবর পাওয়া মাত্রই বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করে এবং পরবর্তীতে ওই নারীকে সীমান্তরেখা বরাবর ভারতের মূল ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠানো নিশ্চিত করে।

সংশ্লিষ্ট বিজিবি সূত্র জানায়, বিগত মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে তিন দফায় সর্বমোট ৪৪ জন মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর ধারাবাহিক চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে প্রতিবারই সীমান্তের সচেতন স্থানীয় জনগণের সময়োচিত সহযোগিতা ও বিজিবির তীব্র বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের মুখে অনুপ্রবেশকারীদের নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

পরপর তিনবার পুশইনের এমন উসকানিমূলক চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রায় ১৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে কঠোর নজরদারি, সর্বোচ্চ সতর্কতা (হাই অ্যালার্ট) এবং নিয়মিত টহল জোরদার করেছে বিজিবি। সীমান্ত সুরক্ষাকে নিশ্ছিদ্র করতে ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত তিনটি ব্যাটালিয়নে অতিরিক্ত জনবল ও ফোর্স বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিজিবির এই বাড়তি তৎপরতার পাশাপাশি সীমান্তের স্থানীয় সাধারণ বাসিন্দারাও অনুপ্রবেশ রুখতে রাত-দিন সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবি এখন সীমান্তে আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। সীমান্তবর্তী নদী ও বিস্তীর্ণ বিল এলাকায় স্পিডবোট বা নৌকা এবং স্থলপথে দূরপাল্লার আধুনিক বাইনোকুলার ও উচ্চপ্রযুক্তির ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে আকাশপথে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। এছাড়া রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বিএসএফ যাতে পুশইন করতে না পারে, সেজন্য জওয়ানরা সীমান্তজুড়ে ব্যবহার করছেন নাইট ভিশন থার্মাল ক্যামেরা। স্থানীয় ভুক্তভোগী মানুষের ধারণা, এই নির্দিষ্ট সীমান্ত এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে কাঁটাতারবিহীন অবস্থায় থাকার সুযোগ নিয়েই বিএসএফ বারবার ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে।

এর আগে গত ১৩ জুন (শুক্রবার) রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকেও এই রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে নদীপথে একযোগে ১৫ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে পুশইনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। সে সময় বিজিবির তাৎক্ষণিক বাধার মুখে প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিএসএফ সদস্যরা ওই ১৫ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়, যার মধ্যে ২ জন পুরুষ, ৮ জন নারী এবং ৫ জন শিশু ছিল। তারও আগে গত ৪ জুন ভোরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে আরও ২৮ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। সে সময় বিজিবির অনড় অবস্থানের কারণে অনুপ্রবেশকারীরা দুই দেশের শূন্যরেখায় (নো ম্যানস ল্যান্ড) টানা তিন দিন খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে বাধ্য হয় এবং পরবর্তীতে বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিএসএফের পুশইন চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোকনপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে আবারও এক অজ্ঞাতনামা নারীকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইন (অনুপ্রবেশ) করানোর অপচেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জওয়ানদের তাৎক্ষণিক ও অত্যন্ত কঠোর প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের সেই অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

বিজিবি ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১৫ জুন) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নওগাঁ ১৬ বিজিবির অধীনস্থ রোকনপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ২২৫/৩-আর এলাকা সংলগ্ন সীমান্তে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। ভারতের ৮৮ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের আরকে ওয়াদা ক্যাম্পের সশস্ত্র সদস্যরা স্থানীয় এক মাঝির সহায়তা নিয়ে নৌকাযোগে ওই নারীকে জোর করে সীমান্ত নদী পার করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। ওই সময় সীমান্তের কাছাকাছি থাকা স্থানীয় বাংলাদেশি বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ওই নারীকে আটকে দেন এবং বিজিবি ক্যাম্পে খবর পাঠান। খবর পাওয়া মাত্রই বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করে এবং পরবর্তীতে ওই নারীকে সীমান্তরেখা বরাবর ভারতের মূল ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠানো নিশ্চিত করে।

সংশ্লিষ্ট বিজিবি সূত্র জানায়, বিগত মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে তিন দফায় সর্বমোট ৪৪ জন মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর ধারাবাহিক চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে প্রতিবারই সীমান্তের সচেতন স্থানীয় জনগণের সময়োচিত সহযোগিতা ও বিজিবির তীব্র বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের মুখে অনুপ্রবেশকারীদের নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

পরপর তিনবার পুশইনের এমন উসকানিমূলক চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রায় ১৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে কঠোর নজরদারি, সর্বোচ্চ সতর্কতা (হাই অ্যালার্ট) এবং নিয়মিত টহল জোরদার করেছে বিজিবি। সীমান্ত সুরক্ষাকে নিশ্ছিদ্র করতে ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত তিনটি ব্যাটালিয়নে অতিরিক্ত জনবল ও ফোর্স বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিজিবির এই বাড়তি তৎপরতার পাশাপাশি সীমান্তের স্থানীয় সাধারণ বাসিন্দারাও অনুপ্রবেশ রুখতে রাত-দিন সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবি এখন সীমান্তে আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। সীমান্তবর্তী নদী ও বিস্তীর্ণ বিল এলাকায় স্পিডবোট বা নৌকা এবং স্থলপথে দূরপাল্লার আধুনিক বাইনোকুলার ও উচ্চপ্রযুক্তির ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে আকাশপথে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। এছাড়া রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বিএসএফ যাতে পুশইন করতে না পারে, সেজন্য জওয়ানরা সীমান্তজুড়ে ব্যবহার করছেন নাইট ভিশন থার্মাল ক্যামেরা। স্থানীয় ভুক্তভোগী মানুষের ধারণা, এই নির্দিষ্ট সীমান্ত এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে কাঁটাতারবিহীন অবস্থায় থাকার সুযোগ নিয়েই বিএসএফ বারবার ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে।

এর আগে গত ১৩ জুন (শুক্রবার) রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকেও এই রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে নদীপথে একযোগে ১৫ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে পুশইনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। সে সময় বিজিবির তাৎক্ষণিক বাধার মুখে প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিএসএফ সদস্যরা ওই ১৫ জনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়, যার মধ্যে ২ জন পুরুষ, ৮ জন নারী এবং ৫ জন শিশু ছিল। তারও আগে গত ৪ জুন ভোরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে আরও ২৮ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। সে সময় বিজিবির অনড় অবস্থানের কারণে অনুপ্রবেশকারীরা দুই দেশের শূন্যরেখায় (নো ম্যানস ল্যান্ড) টানা তিন দিন খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে বাধ্য হয় এবং পরবর্তীতে বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়।