সীমান্তে জনসংখ্যা পরিবর্তনে দিল্লির নতুন উদ্যোগ
- সর্বশেষ আপডেট ১২:২৭:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
- / 19
বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নতুন করে পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন’ সংক্রান্ত মন্তব্যের পর এ বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকার পাশাপাশি দেশের বড় শহরগুলোর জনসংখ্যার ধরন ও অভিবাসন প্রবণতাও পর্যবেক্ষণ করবে এই কমিটি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী জেলা ও প্রধান নগরকেন্দ্রগুলোতে দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। গত স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের কয়েকটি অঞ্চলে ‘অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পর থেকেই বিষয়টি সরকারের বিশেষ নজরে আসে।
কেন্দ্রীয় সরকারের মতে, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন কেবল পরিসংখ্যানের বিষয় নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক ভারসাম্য এবং প্রশাসনিক পরিকল্পনার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এই প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে আগামী এক বছরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা বৈঠকে কমিটির প্রথম বৈঠক ও বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নিরাপত্তা সংস্থা আসাম, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও জনসংখ্যার গঠনে পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। সরেজমিন পরিদর্শনের সময় কমিটি স্থানীয় প্রশাসন, নিরাপত্তা সংস্থা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে। পাশাপাশি ভোটার তালিকা, জনগণনার তথ্য ও অভিবাসন সংক্রান্ত নথি বিশ্লেষণ করা হবে।
তবে কমিটির কার্যক্রম শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও পুনের মতো প্রধান নগর ও শিল্পকেন্দ্রগুলোও এই গবেষণার আওতায় থাকবে। দ্রুত নগরায়ণ ও অনিরীক্ষিত অভিবাসন কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা এবং অবকাঠামোর ওপর কী ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে, তাও খতিয়ে দেখা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, জাতীয় স্বার্থ ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার জন্য এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



































