ঢাকা ১২:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহাখালী-তেজগাঁও সড়ক অবরোধ গার্মেন্টস শ্রমিকদের

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৩২:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • / 22

গার্মেন্টস শ্রমিকদের অবরোধ

বিগত মাসের বকেয়া বেতন ও বিভিন্ন ভাতার দাবিতে রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম মহাখালী-তেজগাঁও সড়ক সম্পূর্ণ অবরোধ করেছেন শত শত গার্মেন্টস শ্রমিক। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল থেকে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সড়কের ওপর অবস্থান নেন। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির দুই পাশে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

সরেজমিনে সকালে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গার্মেন্টস শ্রমিকরা দলবদ্ধ হয়ে মহাখালী-তেজগাঁও সড়কটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অবরোধ করে রেখেছেন। ব্যস্ত এই সড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ায় মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকায় এক তীব্র ও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সকালের কর্মব্যস্ত সময়ে হঠাৎ এই অবরোধের ফলে সাধারণ যাত্রী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং অফিসগামী কর্মজীবী মানুষ চরম ভোগান্তি ও বিপাকের মধ্যে পড়েছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

অনাকাঙ্ক্ষিত যেকোনো পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে আছেন।

সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে আন্দোলনরত গার্মেন্টস শ্রমিকরা নিজেদের ন্যায্য পাওনা আদায়ে প্রশাসনের কাছে সুনির্দিষ্ট ৭টি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—

১. গত মে মাসের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।

২. ২০২৫ সালের অর্জিত ছুটির সমপরিমাণ টাকা প্রদান করতে হবে।

৩. বিগত ডিসেম্বর-২০২৫ এর বকেয়া এরিয়া বিলের টাকা বুঝিয়ে দিতে হবে।

৪. নোটিশ পে-বিল অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।

৫. দেশের প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী পরবর্তী ৪ মাস তথা ১২০ দিনের সম্পূর্ণ বেতন-ভাতা অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে।

৬. বর্তমান শ্রম আইন মেনে সব শ্রমিক ও কর্মচারীর সার্ভিস বেনিফিট শতভাগ (১০০%) পরিশোধ করতে হবে।

৭. শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রাপ্য পাওনা পরিশোধের ক্ষেত্রে মালিকপক্ষ বা অন্য কোনো মাধ্যম থেকে কোনো ধরনের হ্যারাসমেন্ট বা হয়রানি (যেমন: পুলিশি মামলা, নানামুখী হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার) করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।

শ্রমিকদের দাবি, এই বিষয়গুলো সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তারা সড়ক থেকে সরবেন না। অন্যদিকে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে আলাপ-আলোচনার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মহাখালী-তেজগাঁও সড়ক অবরোধ গার্মেন্টস শ্রমিকদের

সর্বশেষ আপডেট ১১:৩২:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

বিগত মাসের বকেয়া বেতন ও বিভিন্ন ভাতার দাবিতে রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম মহাখালী-তেজগাঁও সড়ক সম্পূর্ণ অবরোধ করেছেন শত শত গার্মেন্টস শ্রমিক। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল থেকে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সড়কের ওপর অবস্থান নেন। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির দুই পাশে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

সরেজমিনে সকালে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গার্মেন্টস শ্রমিকরা দলবদ্ধ হয়ে মহাখালী-তেজগাঁও সড়কটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অবরোধ করে রেখেছেন। ব্যস্ত এই সড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ায় মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকায় এক তীব্র ও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সকালের কর্মব্যস্ত সময়ে হঠাৎ এই অবরোধের ফলে সাধারণ যাত্রী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং অফিসগামী কর্মজীবী মানুষ চরম ভোগান্তি ও বিপাকের মধ্যে পড়েছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

অনাকাঙ্ক্ষিত যেকোনো পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে আছেন।

সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে আন্দোলনরত গার্মেন্টস শ্রমিকরা নিজেদের ন্যায্য পাওনা আদায়ে প্রশাসনের কাছে সুনির্দিষ্ট ৭টি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—

১. গত মে মাসের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।

২. ২০২৫ সালের অর্জিত ছুটির সমপরিমাণ টাকা প্রদান করতে হবে।

৩. বিগত ডিসেম্বর-২০২৫ এর বকেয়া এরিয়া বিলের টাকা বুঝিয়ে দিতে হবে।

৪. নোটিশ পে-বিল অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।

৫. দেশের প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী পরবর্তী ৪ মাস তথা ১২০ দিনের সম্পূর্ণ বেতন-ভাতা অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে।

৬. বর্তমান শ্রম আইন মেনে সব শ্রমিক ও কর্মচারীর সার্ভিস বেনিফিট শতভাগ (১০০%) পরিশোধ করতে হবে।

৭. শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রাপ্য পাওনা পরিশোধের ক্ষেত্রে মালিকপক্ষ বা অন্য কোনো মাধ্যম থেকে কোনো ধরনের হ্যারাসমেন্ট বা হয়রানি (যেমন: পুলিশি মামলা, নানামুখী হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার) করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।

শ্রমিকদের দাবি, এই বিষয়গুলো সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তারা সড়ক থেকে সরবেন না। অন্যদিকে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে আলাপ-আলোচনার চেষ্টা চালাচ্ছেন।