ঢাকা ০১:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০০তম ম্যাচ খেলার ইতিহাস গড়ছেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৫১:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • / 16

২০০ ম্যাচ খেলার ইতিহাস

বিশ্ব ফুটবলের সুদীর্ঘ ইতিহাসে আরও একটি অনন্য ও অবিশ্বাস্য মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছেন আধুনিক ফুটবলের মহাদেব লিওনেল মেসি। চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা দল লড়াইয়ে নামলেই আকাশী-সাদা জার্সি গায়ে নিজের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার ঐতিহাসিক কীর্তি গড়বেন বিশ্ব ফুটবলের এই জাদুকর।

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আলবিসেলেস্তেদের হয়ে সবুজ মাঠ দাপিয়ে বেড়ানো লিওনেল মেসির এই আন্তর্জাতিক ফুটবল যাত্রাটি শুরু হয়েছিল আজ থেকে ২১ বছর আগে, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট। হাঙ্গেরির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে তৎকালীন তরুণ মেসির অভিষেক হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সেই প্রথম দিনটি মেসির জন্য ছিল এক চরম তিক্ত অভিজ্ঞতার নাম। ওই ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ২৫ মিনিটের মাথায় রেফারির কাছ থেকে সরাসরি লাল কার্ড (Red Card) দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। ক্যারিয়ারের শুরুর সেই দুঃসহ ও অন্ধকার অধ্যায়কে পেছনে ফেলে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আজ তিনি বিশ্ব ফুটবলের এক অবিসংবাদিত ও অমর নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত খেলা ১৯৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে লিওনেল মেসি দেশের ফুটবল ভক্তদের উপহার দিয়েছেন ১১৭টি দর্শনীয় গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৬৪টি গোল (অ্যাসিস্ট)। দেশের জার্সি গায়ে মাঠের ভেতরে কাটানো ১৬ হাজার ৩৮০ মিনিটের এই দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ পথচলায় তিনি আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছেন পরম আরাধ্য ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ, দুইবার কোপা আমেরিকা এবং ফিনালিসিমা ট্রফি জয়ের মতো রাজকীয় সব গৌরব।

অবশ্য ক্যারিয়ারের এই অবিশ্বাস্য বাঁক বদল লিওনেল মেসির জন্য মোটেও সহজ ছিল না। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে টানা দুইবার কোপা আমেরিকার ফাইনালে গিয়েও শিরোপা হারের চরম বেদনা ও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িক অবসরের গল্প যেমন আছে, তেমনি আবার ২০২২ সালে লুসাইল স্টেডিয়ামে বিশ্ব জয়ের আনন্দে ভেসে অমরত্বের চূড়ায় স্থান করে নেওয়া—সবই মেসির এই ২০০ ম্যাচের বর্ণিল ও রূপকথার মতো ইতিহাসের অংশ।

মেসির খেলা এই আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে লাতিন আমেরিকার অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব। যেখানে তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে ৭২টি ম্যাচে অংশ নিয়ে নিজে করেছেন ৩৬টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ১৪টি গোল। এছাড়া ফুটবল বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ২৬টি এবং লাতিন ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব কোপা আমেরিকায় ৩৯টি ম্যাচ খেলার কীর্তি রয়েছে তাঁর।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার তালিকায় পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ২২৮টি ম্যাচ নিয়ে সবার উপরে এককভাবে অবস্থান করছেন। তবে মেসির এই ২০০তম ম্যাচের ব্যক্তিগত মাইলফলক ছাপিয়ে এখন পুরো ফুটবল বিশ্বের নজর আটকে আছে আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের দিকে।

চলমান এই মেগা টুর্নামেন্টের পর লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কিংবা লুকা মদ্রিচের মতো কিংবদন্তিরা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন কি না, তা নিয়ে ফুটবল পাড়ায় নানামুখী গুঞ্জন থাকলেও মেসি নিজে অবসরের ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত বা মন্তব্য দেননি। তবে বর্তমান ফুটবল দুনিয়ার এই মহাতারকা তাঁর বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আরও একটি নতুন সোনালী অধ্যায় লিখতে পুরোপুরি প্রস্তুত, যা কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

২০০তম ম্যাচ খেলার ইতিহাস গড়ছেন মেসি

সর্বশেষ আপডেট ১১:৫১:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

বিশ্ব ফুটবলের সুদীর্ঘ ইতিহাসে আরও একটি অনন্য ও অবিশ্বাস্য মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছেন আধুনিক ফুটবলের মহাদেব লিওনেল মেসি। চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা দল লড়াইয়ে নামলেই আকাশী-সাদা জার্সি গায়ে নিজের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার ঐতিহাসিক কীর্তি গড়বেন বিশ্ব ফুটবলের এই জাদুকর।

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আলবিসেলেস্তেদের হয়ে সবুজ মাঠ দাপিয়ে বেড়ানো লিওনেল মেসির এই আন্তর্জাতিক ফুটবল যাত্রাটি শুরু হয়েছিল আজ থেকে ২১ বছর আগে, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট। হাঙ্গেরির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে তৎকালীন তরুণ মেসির অভিষেক হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সেই প্রথম দিনটি মেসির জন্য ছিল এক চরম তিক্ত অভিজ্ঞতার নাম। ওই ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার মাত্র ২৫ মিনিটের মাথায় রেফারির কাছ থেকে সরাসরি লাল কার্ড (Red Card) দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। ক্যারিয়ারের শুরুর সেই দুঃসহ ও অন্ধকার অধ্যায়কে পেছনে ফেলে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আজ তিনি বিশ্ব ফুটবলের এক অবিসংবাদিত ও অমর নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত খেলা ১৯৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে লিওনেল মেসি দেশের ফুটবল ভক্তদের উপহার দিয়েছেন ১১৭টি দর্শনীয় গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৬৪টি গোল (অ্যাসিস্ট)। দেশের জার্সি গায়ে মাঠের ভেতরে কাটানো ১৬ হাজার ৩৮০ মিনিটের এই দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ পথচলায় তিনি আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছেন পরম আরাধ্য ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ, দুইবার কোপা আমেরিকা এবং ফিনালিসিমা ট্রফি জয়ের মতো রাজকীয় সব গৌরব।

অবশ্য ক্যারিয়ারের এই অবিশ্বাস্য বাঁক বদল লিওনেল মেসির জন্য মোটেও সহজ ছিল না। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে টানা দুইবার কোপা আমেরিকার ফাইনালে গিয়েও শিরোপা হারের চরম বেদনা ও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িক অবসরের গল্প যেমন আছে, তেমনি আবার ২০২২ সালে লুসাইল স্টেডিয়ামে বিশ্ব জয়ের আনন্দে ভেসে অমরত্বের চূড়ায় স্থান করে নেওয়া—সবই মেসির এই ২০০ ম্যাচের বর্ণিল ও রূপকথার মতো ইতিহাসের অংশ।

মেসির খেলা এই আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে লাতিন আমেরিকার অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব। যেখানে তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে ৭২টি ম্যাচে অংশ নিয়ে নিজে করেছেন ৩৬টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ১৪টি গোল। এছাড়া ফুটবল বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ২৬টি এবং লাতিন ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব কোপা আমেরিকায় ৩৯টি ম্যাচ খেলার কীর্তি রয়েছে তাঁর।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার তালিকায় পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ২২৮টি ম্যাচ নিয়ে সবার উপরে এককভাবে অবস্থান করছেন। তবে মেসির এই ২০০তম ম্যাচের ব্যক্তিগত মাইলফলক ছাপিয়ে এখন পুরো ফুটবল বিশ্বের নজর আটকে আছে আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের দিকে।

চলমান এই মেগা টুর্নামেন্টের পর লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কিংবা লুকা মদ্রিচের মতো কিংবদন্তিরা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন কি না, তা নিয়ে ফুটবল পাড়ায় নানামুখী গুঞ্জন থাকলেও মেসি নিজে অবসরের ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত বা মন্তব্য দেননি। তবে বর্তমান ফুটবল দুনিয়ার এই মহাতারকা তাঁর বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আরও একটি নতুন সোনালী অধ্যায় লিখতে পুরোপুরি প্রস্তুত, যা কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।