রামিসা হত্যা: আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ
- সর্বশেষ আপডেট ১২:১৭:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
- / 19
রাজধানী ঢাকার পল্লবীতে মাত্র ৮ বছরের অবুঝ শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে নিম্ন আদালতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পক্ষে উচ্চ আদালতে আইনি শুনানির জন্য জরুরিভিত্তিতে ‘স্টেট ডিফেন্স’ (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী) নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। দেশের প্রচলিত ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ একজন দক্ষ আইনজীবীকে এই মামলার আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে নিয়োগ দিতে আইন মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর উইংকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ এই তাৎপর্যপূর্ণ আদেশ জারি করেন। সুপ্রিম কোর্টের এই বিশেষ বেঞ্চের নিয়মিত কার্যতালিকায় (কজ লিস্ট) চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি বর্তমানে শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।
উচ্চ আদালত সূত্রে জানা গেছে, শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) এবং আসামিদের পক্ষ থেকে করা জেল আপিল শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় পেপারবুক ইতিমধ্যেই পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসন থেকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এখন যেকোনো দিন হাইকোর্টের এই বিশেষ বেঞ্চে আসামিদের ফাঁসির ভাগ্য নির্ধারণী মূল মামলার চূড়ান্ত শুনানি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট মামলার একটি বিশেষ সূত্র জানায়, সরকারি বিজি প্রেস থেকে পেপারবুক নিখুঁতভাবে প্রস্তুত হয়ে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা এসেছে এবং বর্তমানে এর চুলচেরা যাচাই-বাছাইয়ের প্রশাসনিক কাজ চলছে।
এর আগে, গত ৯ জুন রাজধানীর পল্লবীর এই জঘন্য অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের আনুষ্ঠানিক নথি (ডেথ রেফারেন্স) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে এসে পৌঁছায়। দুই ভয়ংকর আসামির ফাঁসির ঐতিহাসিক রায়ে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন দাপ্তরিক স্বাক্ষরের পর আইনি নিয়ম মেনে এই ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠান। দেশের প্রচলিত বিচার ব্যবস্থায় যেকোনো ফৌজদারি মামলায় নিম্ন আদালতে আসামির মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসির রায় ঘোষণা করা হলে, তা কার্যকর করার আগে বাধ্যতামূলকভাবে হাইকোর্ট বিভাগের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে, যা আইন মহলে ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে পরিচিত।
উল্লেখ্য, গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন কাঠগড়ায় আসামিদের সশরীরে উপস্থিতিতে এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন। রায়ে মূল অপরাধী সোহেল রানাকে ফাঁসির পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা এবং তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ফাঁসির পাশাপাশি ২ লাখ টাকা আর্থিক জরিমানার দণ্ড দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এই অর্থদণ্ডের পুরো টাকা ভিকটিম মৃত শিশু রামিসার প্রকৃত আইনি বা ধর্মীয় উত্তরাধিকারীরা পাবেন। আসামিরা যদি এই ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের মালিকাধীন সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সরকারি নিলামে বিক্রি করে সংগৃহীত অর্থ মৃত রামিসার আইনি উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তর করার জন্য প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বিচারক তাঁর লিখিত পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলেছেন যে, শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে হত্যার আগে অবর্ণনীয় যৌন নির্যাতন তথা ধর্ষণ এবং শরীরের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে নিষ্ঠুর আঘাত বা জখম করার অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের জন্য আসামির পক্ষ থেকে কোনো আবেদন না থাকায় প্রমাণিত হয় যে, প্রধান আসামি সোহেল সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করেছে। অন্য দিকে, নিজের স্বামীকে এই জঘন্য অপরাধের পর আইন ও পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যেতে সরাসরি সহযোগিতা করেছিলেন স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। এত বড় একটি অপরাধ সংঘটনে পর্দার আড়াল থেকে নিখুঁত সহযোগিতা করা এবং চোখের সামনে অপরাধ ঘটতে দেখেও তা প্রতিরোধে বা শিশুটিকে বাঁচাতে কোনো ইতিবাচক ভূমিকা না রাখার অপরাধটি নিম্ন আদালতের পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে উঠে এসেছে।





































