ঢাকা ১১:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুটবল বিশ্বকাপে তীব্র দাবদাহে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

স্পোর্ট ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৬:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • / 7

তীব্র তাপপ্রবাহে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব

ফুটবল বিশ্বকাপের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ নকআউট পর্ব যত এগিয়ে আসছে, মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি খেলোয়াড় ও সমর্থকদের সামনে ততই বড় প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রকৃতির তীব্র তাপপ্রবাহ। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলসহ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক কানাডার কিছু অংশে নজিরবিহীন তাপপ্রবাহের (Heatwave) আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, একটি বিশাল উচ্চচাপ বলয় পুরো এলাকাজুড়ে অবস্থান করায় গরমের সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতা একযোগে বেড়ে পরিস্থিতি চরম অস্বস্তিকর করে তুলবে।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কিছু কিছু শহরের অনুভূত তাপমাত্রা (Real Feel) মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, দিনের পাশাপাশি রাতেও তাপমাত্রা খুব একটা কমবে না। ফলে সন্ধ্যার ম্যাচগুলোও তীব্র গরমের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বখ্যাত আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ অ্যালান রেপার্ট জানান, বিশেষ করে নিউইয়র্ক ও এর আশপাশের এলাকায় গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দেখা যেতে পারে, যা সেখানকার নকআউট ম্যাচগুলোতে বড় প্রভাব ফেলবে।

এই চরম পরিস্থিতি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও শারীরিক সক্ষমতাকে নতুন করে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। গত বছর একই অঞ্চলে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্লাব প্রতিযোগিতাতেও তীব্র গরম নিয়ে খেলোয়াড় সংগঠনগুলো তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবারের বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচের দুই অর্ধেই বাধ্যতামূলক ৩ মিনিটের বিশেষ ‘পানিবিরতি’ (Cooling Break) রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে খেলোয়াড়েরা পানি পান ও কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে অনেক সমালোচকের মতে, এই বিরতির কারণে ম্যাচের স্বাভাবিক গতি ও ছন্দ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে কানাডার টরন্টো শহরে ইতিমধ্যে তাপপ্রবাহের জরুরি সতর্কতা জারি করে বিশেষ ‘গরম মোকাবিলা পরিকল্পনা’ কার্যকর করা হয়েছে। শহরজুড়ে ছায়াযুক্ত বিশ্রামস্থল, পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং মেডিকেল বুথসহ জরুরি সেবার প্রস্তুতি বাড়ানো হয়েছে। তবে আশার কথা হলো, বিশ্বকাপের যেসব স্টেডিয়ামের ছাদ সম্পূর্ণ বন্ধ করা যায় (Retractable Roof) এবং ভেতরে শক্তিশালী শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (AC) ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকেরা স্বস্তিতে থাকবেন। কিন্তু খোলা মাঠের শহরগুলোতে দর্শকদের স্টেডিয়ামে পৌঁছানো থেকে শুরু করে ম্যাচ দেখা— পুরো সময়টাই কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আলিনা মিতিনা সমর্থকদের পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, খেলা দেখার উন্মাদনার মাঝেও যতটা সম্ভব ছায়ায় থাকতে হবে। মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, তীব্র ক্লান্তি বা অস্বাভাবিক অসুস্থতা অনুভব করলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে গিয়ে বিশ্রাম নিতে হবে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। মাঠের ট্রফি জয়ের লড়াইয়ের পাশাপাশি লাখ লাখ দর্শক ও ফুটবলারদের সুস্থ রাখাই এখন বিশ্বকাপ আয়োজকদের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ফুটবল বিশ্বকাপে তীব্র দাবদাহে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৬:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

ফুটবল বিশ্বকাপের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ নকআউট পর্ব যত এগিয়ে আসছে, মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি খেলোয়াড় ও সমর্থকদের সামনে ততই বড় প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রকৃতির তীব্র তাপপ্রবাহ। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলসহ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক কানাডার কিছু অংশে নজিরবিহীন তাপপ্রবাহের (Heatwave) আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, একটি বিশাল উচ্চচাপ বলয় পুরো এলাকাজুড়ে অবস্থান করায় গরমের সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতা একযোগে বেড়ে পরিস্থিতি চরম অস্বস্তিকর করে তুলবে।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কিছু কিছু শহরের অনুভূত তাপমাত্রা (Real Feel) মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, দিনের পাশাপাশি রাতেও তাপমাত্রা খুব একটা কমবে না। ফলে সন্ধ্যার ম্যাচগুলোও তীব্র গরমের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বখ্যাত আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ অ্যালান রেপার্ট জানান, বিশেষ করে নিউইয়র্ক ও এর আশপাশের এলাকায় গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দেখা যেতে পারে, যা সেখানকার নকআউট ম্যাচগুলোতে বড় প্রভাব ফেলবে।

এই চরম পরিস্থিতি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও শারীরিক সক্ষমতাকে নতুন করে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। গত বছর একই অঞ্চলে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্লাব প্রতিযোগিতাতেও তীব্র গরম নিয়ে খেলোয়াড় সংগঠনগুলো তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবারের বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচের দুই অর্ধেই বাধ্যতামূলক ৩ মিনিটের বিশেষ ‘পানিবিরতি’ (Cooling Break) রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে খেলোয়াড়েরা পানি পান ও কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে অনেক সমালোচকের মতে, এই বিরতির কারণে ম্যাচের স্বাভাবিক গতি ও ছন্দ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে কানাডার টরন্টো শহরে ইতিমধ্যে তাপপ্রবাহের জরুরি সতর্কতা জারি করে বিশেষ ‘গরম মোকাবিলা পরিকল্পনা’ কার্যকর করা হয়েছে। শহরজুড়ে ছায়াযুক্ত বিশ্রামস্থল, পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং মেডিকেল বুথসহ জরুরি সেবার প্রস্তুতি বাড়ানো হয়েছে। তবে আশার কথা হলো, বিশ্বকাপের যেসব স্টেডিয়ামের ছাদ সম্পূর্ণ বন্ধ করা যায় (Retractable Roof) এবং ভেতরে শক্তিশালী শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (AC) ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকেরা স্বস্তিতে থাকবেন। কিন্তু খোলা মাঠের শহরগুলোতে দর্শকদের স্টেডিয়ামে পৌঁছানো থেকে শুরু করে ম্যাচ দেখা— পুরো সময়টাই কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আলিনা মিতিনা সমর্থকদের পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, খেলা দেখার উন্মাদনার মাঝেও যতটা সম্ভব ছায়ায় থাকতে হবে। মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, তীব্র ক্লান্তি বা অস্বাভাবিক অসুস্থতা অনুভব করলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে গিয়ে বিশ্রাম নিতে হবে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। মাঠের ট্রফি জয়ের লড়াইয়ের পাশাপাশি লাখ লাখ দর্শক ও ফুটবলারদের সুস্থ রাখাই এখন বিশ্বকাপ আয়োজকদের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।