ঢাকা ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রযুক্তি দিয়ে জেন্ডার সহিংসতা প্রতিরোধের উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫৯:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 140

প্রযুক্তি দিয়ে জেন্ডার সহিংসতা প্রতিরোধের উদ্যোগ। ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তির সহায়তায় জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা (টিএফজিবিভি) ক্রমবর্ধমান সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে, যা বিশেষভাবে নারী ও কন্যা শিশুরা বেশি অনুভব করছে। ইউএনএফপিএ’র তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী প্রতি তিনজনের মধ্যে দুইজন নারী প্রযুক্তি-সুবিধাভোগী জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতার শিকার হন। বাংলাদেশে এই হার আশঙ্কাজনকভাবে ৮৯ শতাংশ।

 

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আজ বুধবার পিরোজপুরে বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি) এবং পিরোজপুর গণউন্নয়ন সমিতি (পিজিইউএস) যৌথভাবে একটি মাল্টিস্টেকহোল্ডার টকস আয়োজন করে।

 

অনুষ্ঠানটি ‘স্ট্রেনথেনিং রেজিলিয়েন্স এগেইনস্ট টেকনোলজি-ফেসিলিটেটেড জেন্ডার-বেইসড ভায়োলেন্স (টিএফজিবিভি) এন্ড প্রমোটিং ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়, যা নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ) কর্মসূচির অধীনে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে জিএফএ কনসালটিং গ্রুপ এবং অর্থায়ন করছে সুইজারল্যান্ড ও গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা।

 

প্রধান অতিথি ছিলেন পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামনুর রশীদ। সংলাপের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতার ধরন, প্রভাব ও প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনা করা। এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের প্রতিষ্ঠান ও সম্প্রদায়ে প্রযুক্তি-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহ প্রদান করা হয়।

 

সংলাপের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন পিজিইউএস-এর নির্বাহী পরিচালক জিয়াউল আহসান। তিনি সহিংসতার বিস্তার, আইনি সীমাবদ্ধতা, তথ্য ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি এবং নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের অভাব তুলে ধরেন। এছাড়া তিনি স্থানীয় চিত্র, অগ্রগতি ও সীমাবদ্ধতার ওপর সংক্ষিপ্ত নীতিগত সুপারিশ প্রদান করেন।

 

বিএনএনআরসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম বজলুর রহমান প্রযুক্তির সহায়তায় টিএফজিবিভি এবং ডিজিটাল উন্নয়ন সংক্রান্ত ধারণা, ধরন, নেতিবাচক প্রভাব ও কর্তব্য সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করেন।

 

সংলাপে ১৬ জন ডেজিগনেটেড স্পিকার বক্তব্য রাখেন এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন। তারা প্রযুক্তি-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন স্টেকহোল্ডারদের যেমন আইএসপি, কেবল নেটওয়ার্ক, বিকাশ ও রকেট এজেন্টদের বিষয়টি জানানোর গুরুত্বে জোর দেন।

 

অতিথিবৃন্দ সরকারী উদ্যোগ ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’ হেল্পলাইন (০১৩২০০০০৮৮৮) এবং ইমেইল (cybersupport.women@police.gov.bd) সম্পর্কে আলোচনা করেন। তারা সচেতনতার মাধ্যমে সহিংসতা কমানো এবং একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

 

প্রধান অতিথি মামনুর রশীদ বলেন, “প্রযুক্তির মাধ্যমে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ভুল তথ্য ও অপতথ্য কঠোরভাবে দমন করতে হবে। সমাজের সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাই এবং প্রশাসন এ ধরনের কর্মকাণ্ডে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

প্রযুক্তি দিয়ে জেন্ডার সহিংসতা প্রতিরোধের উদ্যোগ

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫৯:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তির সহায়তায় জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা (টিএফজিবিভি) ক্রমবর্ধমান সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে, যা বিশেষভাবে নারী ও কন্যা শিশুরা বেশি অনুভব করছে। ইউএনএফপিএ’র তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী প্রতি তিনজনের মধ্যে দুইজন নারী প্রযুক্তি-সুবিধাভোগী জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতার শিকার হন। বাংলাদেশে এই হার আশঙ্কাজনকভাবে ৮৯ শতাংশ।

 

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আজ বুধবার পিরোজপুরে বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি) এবং পিরোজপুর গণউন্নয়ন সমিতি (পিজিইউএস) যৌথভাবে একটি মাল্টিস্টেকহোল্ডার টকস আয়োজন করে।

 

অনুষ্ঠানটি ‘স্ট্রেনথেনিং রেজিলিয়েন্স এগেইনস্ট টেকনোলজি-ফেসিলিটেটেড জেন্ডার-বেইসড ভায়োলেন্স (টিএফজিবিভি) এন্ড প্রমোটিং ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়, যা নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ) কর্মসূচির অধীনে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে জিএফএ কনসালটিং গ্রুপ এবং অর্থায়ন করছে সুইজারল্যান্ড ও গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা।

 

প্রধান অতিথি ছিলেন পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামনুর রশীদ। সংলাপের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতার ধরন, প্রভাব ও প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনা করা। এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের প্রতিষ্ঠান ও সম্প্রদায়ে প্রযুক্তি-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহ প্রদান করা হয়।

 

সংলাপের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন পিজিইউএস-এর নির্বাহী পরিচালক জিয়াউল আহসান। তিনি সহিংসতার বিস্তার, আইনি সীমাবদ্ধতা, তথ্য ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি এবং নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের অভাব তুলে ধরেন। এছাড়া তিনি স্থানীয় চিত্র, অগ্রগতি ও সীমাবদ্ধতার ওপর সংক্ষিপ্ত নীতিগত সুপারিশ প্রদান করেন।

 

বিএনএনআরসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম বজলুর রহমান প্রযুক্তির সহায়তায় টিএফজিবিভি এবং ডিজিটাল উন্নয়ন সংক্রান্ত ধারণা, ধরন, নেতিবাচক প্রভাব ও কর্তব্য সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করেন।

 

সংলাপে ১৬ জন ডেজিগনেটেড স্পিকার বক্তব্য রাখেন এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন। তারা প্রযুক্তি-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন স্টেকহোল্ডারদের যেমন আইএসপি, কেবল নেটওয়ার্ক, বিকাশ ও রকেট এজেন্টদের বিষয়টি জানানোর গুরুত্বে জোর দেন।

 

অতিথিবৃন্দ সরকারী উদ্যোগ ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’ হেল্পলাইন (০১৩২০০০০৮৮৮) এবং ইমেইল (cybersupport.women@police.gov.bd) সম্পর্কে আলোচনা করেন। তারা সচেতনতার মাধ্যমে সহিংসতা কমানো এবং একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

 

প্রধান অতিথি মামনুর রশীদ বলেন, “প্রযুক্তির মাধ্যমে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ভুল তথ্য ও অপতথ্য কঠোরভাবে দমন করতে হবে। সমাজের সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাই এবং প্রশাসন এ ধরনের কর্মকাণ্ডে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে।”