ঢাকা ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাট্যকারদের জেন্ডার সচেতনতা কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৮:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 176

নাট্যকারদের দিনব্যাপি জেন্ডার সচেতনতা কর্মশালায় অংশগ্রহনকারিরা। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বিনোদন জগতে জেন্ডার সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গল্প বলার চর্চা বাড়াতে রাজধানীতে দিনব্যাপী এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার আয়োজিত এই কর্মশালায় দেশের প্রায় ৬০ জন স্বনামধন্য চিত্রনাট্যকার অংশ নেন।

‘জেন্ডার সংবেদনশীল চিত্রনাট্য রচনা বিষয়ক কর্মশালা’ শীর্ষক এই আয়োজনটি বাস্তবায়িত হয় ‘সমতায় তারুণ্য: ইয়ুথ ফর ইকুয়ালিটি’ প্রকল্পের আওতায় এবং টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের সহযোগিতায়। নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের অর্থায়নে চার বছর মেয়াদি এই প্রকল্প যৌথভাবে পরিচালনা করছে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন উজ্জ্বল বলেন, নাটকে নারী চরিত্রকে দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য ও অবহেলার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই চিত্র বদলে নারীকে তার প্রাপ্য মর্যাদায় তুলে ধরতে হবে। এ জন্য অভিজ্ঞ ও নবীন নাট্যকারদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ইনফ্লুয়েন্সিং, ক্যাম্পেইন ও কমিউনিকেশনস বিভাগের পরিচালক নিশাত সুলতানা বলেন, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি যুব, নারী ও শিশুদের ক্ষমতায়নে কাজ করছে। বিনোদন মাধ্যম- বিশেষ করে নাটক ও চলচ্চিত্র- সমাজে ব্যাপক প্রভাব ফেলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সহিংসতা কমানো ও সমতা প্রতিষ্ঠায় জেন্ডার সংবেদনশীল চিত্রনাট্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মশালায় বক্তারা টেলিভিশন ও অনলাইন নাটকে বিদ্যমান জেন্ডার বৈষম্য এবং সমাজে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণাগুলো চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে চিত্রনাট্যে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করে সংবেদনশীল বিনোদন নির্মাণে নাট্যকারদের মধ্যে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের কনসোর্টিয়াম ও অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার মো. হুসাইন শাকির বলেন, একটি সহিংসতামুক্ত ও সমতাপূর্ণ সমাজ গঠনে তরুণদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, চিত্রনাট্যকারদের গল্প সমাজের মানুষের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করে, তাই তাদের দায়িত্বও অনেক বেশি।

দিনব্যাপী কর্মশালাটি পরিচালনা করেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, নাট্যকার ও পরিচালক মাসুম রেজা এবং অভিনেত্রী ও শিক্ষাবিদ ওয়াহিদা মল্লিক জলি। আলোচনায় সামাজিক ধারণা গঠনে গণমাধ্যমের ভূমিকা, চরিত্রায়ণে ক্ষমতার ভারসাম্য এবং চিত্রনাট্যে জেন্ডার সংবেদনশীল ভাষার ব্যবহার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

নাট্যকার মাসুম রেজা কর্মশালায় প্রশ্ন তোলেন- নারীকে আমরা কোন ভূমিকায় দেখতে চাই? প্রথাগত ছকে বাঁধা চরিত্রে, নাকি বাস্তবসম্মত ও ক্ষমতায়নমূলক ভূমিকায়? তিনি বলেন, নারী চরিত্রের উপস্থাপনায় প্রচলিত ধ্যানধারণা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।

টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের অফিস সম্পাদক ছোয়াই ভিয়া আফরিন জেসিকা বলেন, এই আয়োজনটি শুধু একটি কর্মশালা নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। এখানে নাটকে ব্যবহৃত ভাষা ও ধারণাগুলোকে পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আয়োজকরা আশা করছেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে মূলধারার গণমাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সংবেদনশীল গল্প বলার চর্চা বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নাট্যকারদের জেন্ডার সচেতনতা কর্মশালা

সর্বশেষ আপডেট ০৯:০৮:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের বিনোদন জগতে জেন্ডার সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গল্প বলার চর্চা বাড়াতে রাজধানীতে দিনব্যাপী এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার আয়োজিত এই কর্মশালায় দেশের প্রায় ৬০ জন স্বনামধন্য চিত্রনাট্যকার অংশ নেন।

‘জেন্ডার সংবেদনশীল চিত্রনাট্য রচনা বিষয়ক কর্মশালা’ শীর্ষক এই আয়োজনটি বাস্তবায়িত হয় ‘সমতায় তারুণ্য: ইয়ুথ ফর ইকুয়ালিটি’ প্রকল্পের আওতায় এবং টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের সহযোগিতায়। নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের অর্থায়নে চার বছর মেয়াদি এই প্রকল্প যৌথভাবে পরিচালনা করছে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন উজ্জ্বল বলেন, নাটকে নারী চরিত্রকে দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য ও অবহেলার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই চিত্র বদলে নারীকে তার প্রাপ্য মর্যাদায় তুলে ধরতে হবে। এ জন্য অভিজ্ঞ ও নবীন নাট্যকারদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ইনফ্লুয়েন্সিং, ক্যাম্পেইন ও কমিউনিকেশনস বিভাগের পরিচালক নিশাত সুলতানা বলেন, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি যুব, নারী ও শিশুদের ক্ষমতায়নে কাজ করছে। বিনোদন মাধ্যম- বিশেষ করে নাটক ও চলচ্চিত্র- সমাজে ব্যাপক প্রভাব ফেলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সহিংসতা কমানো ও সমতা প্রতিষ্ঠায় জেন্ডার সংবেদনশীল চিত্রনাট্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মশালায় বক্তারা টেলিভিশন ও অনলাইন নাটকে বিদ্যমান জেন্ডার বৈষম্য এবং সমাজে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণাগুলো চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে চিত্রনাট্যে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করে সংবেদনশীল বিনোদন নির্মাণে নাট্যকারদের মধ্যে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের কনসোর্টিয়াম ও অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার মো. হুসাইন শাকির বলেন, একটি সহিংসতামুক্ত ও সমতাপূর্ণ সমাজ গঠনে তরুণদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, চিত্রনাট্যকারদের গল্প সমাজের মানুষের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করে, তাই তাদের দায়িত্বও অনেক বেশি।

দিনব্যাপী কর্মশালাটি পরিচালনা করেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, নাট্যকার ও পরিচালক মাসুম রেজা এবং অভিনেত্রী ও শিক্ষাবিদ ওয়াহিদা মল্লিক জলি। আলোচনায় সামাজিক ধারণা গঠনে গণমাধ্যমের ভূমিকা, চরিত্রায়ণে ক্ষমতার ভারসাম্য এবং চিত্রনাট্যে জেন্ডার সংবেদনশীল ভাষার ব্যবহার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

নাট্যকার মাসুম রেজা কর্মশালায় প্রশ্ন তোলেন- নারীকে আমরা কোন ভূমিকায় দেখতে চাই? প্রথাগত ছকে বাঁধা চরিত্রে, নাকি বাস্তবসম্মত ও ক্ষমতায়নমূলক ভূমিকায়? তিনি বলেন, নারী চরিত্রের উপস্থাপনায় প্রচলিত ধ্যানধারণা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।

টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের অফিস সম্পাদক ছোয়াই ভিয়া আফরিন জেসিকা বলেন, এই আয়োজনটি শুধু একটি কর্মশালা নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। এখানে নাটকে ব্যবহৃত ভাষা ও ধারণাগুলোকে পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আয়োজকরা আশা করছেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে মূলধারার গণমাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সংবেদনশীল গল্প বলার চর্চা বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।