দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের আসন্ন ঢাকা সফর নিছক প্রটোকল সফর, নাকি এর ভেতরে রয়েছে বড় কোনো কূটনৈতিক ইঙ্গিত—এ প্রশ্ন এখন স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসছে।
আরও পড়তে পারেন
বিএনপি সরকার গঠনের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে শীর্ষ পর্যায়ের এটি প্রথম সফর। সময়টি, প্রেক্ষাপটটি—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।
আগামী ৩ থেকে ৫ মার্চ তিন দিনের সফরে তিনি ঢাকায় থাকবেন বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। এর আগে ২৩ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসনের বৈঠকে সফরের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। অর্থাৎ সফরটি হঠাৎ নয়; বরং নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের রূপরেখা আঁকার একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ বলেই মনে হচ্ছে।
পল কাপুরকে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অক্টোবরে তার নিয়োগ অনুমোদন পায়। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি হিসেবে তার অবস্থান কেবল আনুষ্ঠানিক নয়; বরং নীতিনির্ধারণী পরিসরেও প্রভাবশালী।
প্রশ্ন হলো—এই সফরের মূল লক্ষ্য কী? কূটনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ় করা, নাকি রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করা? দক্ষিণ এশিয়ায় ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ভারত, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের ভারসাম্যের মাঝে বাংলাদেশের অবস্থান আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সে বাস্তবতায় ওয়াশিংটনের উচ্চপর্যায়ের এই উপস্থিতি কেবল সৌজন্য নয় বলেই ধারণা করা যায়।
অন্যদিকে, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতার প্রসঙ্গও সামনে আসতে পারে। তৈরি পোশাক, শ্রমমান, নিরাপত্তা সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা—এসব বিষয় আলোচনায় থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে কীভাবে দেখছে, তা বোঝার একটি সুযোগ হতে পারে এই সফর।
সব মিলিয়ে পল কাপুরের ঢাকা সফরকে কেবল নিয়মিত কূটনৈতিক কার্যক্রম হিসেবে দেখলে হয়তো পুরো চিত্রটি ধরা পড়বে না। এটি নতুন সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা, নাকি বৃহত্তর আঞ্চলিক কৌশলের অংশ—সফরের আলোচনাই হয়তো তার ইঙ্গিত দেবে।



































