ঢাকা ০২:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশি ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্ক সুবিধা দেবে দ. কোরিয়া

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৭:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 70

বাংলাদেশি ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্ক সুবিধা দেবে দ. কোরিয়া

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষর হয়েছে। মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চুক্তি সইয়ের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ মাসের মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির একটি দেশের সঙ্গে প্রথম মুক্ত বাণিজ্যধর্মী অর্থনৈতিক চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে অগ্রাধিকারভিত্তিক শুল্ক সুবিধা পাবে। অন্যদিকে কোরিয়ার ৮৭ শতাংশ পণ্য বাংলাদেশে একই ধরনের সুবিধা ভোগ করবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশ। এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্য কোরিয়ার বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান পাবে। একই সঙ্গে কোরিয়া থেকে কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক, শিল্পের খুচরা যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিও সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে। এজন্য প্রয়োজন প্রায় ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং উল্লেখযোগ্য বিদেশি বিনিয়োগ। সিইপিএসহ এ ধরনের চুক্তি সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু বলেন, বাংলাদেশ ও কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাস ৫৬ বছরের। শুরুতে এই সম্পর্ক মূলত টেক্সটাইল খাতকে ঘিরে থাকলেও এখন সময় এসেছে বাণিজ্যে বহুমুখীকরণ আনার। প্রযুক্তি, সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) এবং নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, নতুন চুক্তির ফলে কোরিয়ার কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে আরও সহজে বিনিয়োগ করতে পারবে এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ কোরিয়ায় প্রায় ৪৯১ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে, আর কোরিয়া থেকে আমদানি হয় প্রায় ৯০২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৪১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য এবং সিরামিক সামগ্রী। অন্যদিকে কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় লোহা ও ইস্পাত, শিল্প যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্য, রাসায়নিক দ্রব্য এবং কাগজজাত পণ্য।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বাংলাদেশি ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্ক সুবিধা দেবে দ. কোরিয়া

সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৭:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষর হয়েছে। মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চুক্তি সইয়ের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ মাসের মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির একটি দেশের সঙ্গে প্রথম মুক্ত বাণিজ্যধর্মী অর্থনৈতিক চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে অগ্রাধিকারভিত্তিক শুল্ক সুবিধা পাবে। অন্যদিকে কোরিয়ার ৮৭ শতাংশ পণ্য বাংলাদেশে একই ধরনের সুবিধা ভোগ করবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশ। এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্য কোরিয়ার বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান পাবে। একই সঙ্গে কোরিয়া থেকে কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক, শিল্পের খুচরা যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিও সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে। এজন্য প্রয়োজন প্রায় ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং উল্লেখযোগ্য বিদেশি বিনিয়োগ। সিইপিএসহ এ ধরনের চুক্তি সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু বলেন, বাংলাদেশ ও কোরিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাস ৫৬ বছরের। শুরুতে এই সম্পর্ক মূলত টেক্সটাইল খাতকে ঘিরে থাকলেও এখন সময় এসেছে বাণিজ্যে বহুমুখীকরণ আনার। প্রযুক্তি, সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) এবং নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, নতুন চুক্তির ফলে কোরিয়ার কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে আরও সহজে বিনিয়োগ করতে পারবে এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ কোরিয়ায় প্রায় ৪৯১ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে, আর কোরিয়া থেকে আমদানি হয় প্রায় ৯০২ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৪১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য এবং সিরামিক সামগ্রী। অন্যদিকে কোরিয়া থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় লোহা ও ইস্পাত, শিল্প যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্য, রাসায়নিক দ্রব্য এবং কাগজজাত পণ্য।