কপ-৩১ নীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণের দাবি
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:১৮:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 59
বাংলাদেশের জলবায়ু নীতি এবং কপ-৩১-এর জাতীয় অবস্থানপত্রে যুব প্রতিনিধি ও তরুণ শ্রমিকদের উদ্বেগ, অভিজ্ঞতা ও দাবিগুলো প্রতিফলিত করার আহ্বান জানিয়েছেন যুব সংগঠন ও তরুণ শ্রমিকেরা। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, অটোমেশন ও সবুজ রূপান্তর ইতোমধ্যে কর্মসংস্থান, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, দক্ষতা ও জীবিকায় প্রভাব ফেলছে।
কপ-৩১-এর জন্য শ্রমিক অবস্থানপত্র প্রণয়নবিষয়ক এক পরামর্শ কর্মশালায় তারা এসব দাবি জানান। শ্রমিকদের চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা এবং শ্রমিকবান্ধব ন্যায্য রূপান্তরের জন্য সুপারিশ তৈরির লক্ষ্যে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ), বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন (বিএলএফ) ও ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর জাস্ট ট্রানজিশন বাংলাদেশ (এনএজেটিবি) যৌথভাবে কর্মশালাটির আয়োজন করে। এতে সহায়তা করে অক্সফাম বাংলাদেশ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বিএলএফের প্রোগ্রাম অফিসার জুবায়ের আলম বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের শ্রমিকদের ঝুঁকি ও দাবিগুলো বাংলাদেশের জাতীয় জলবায়ু অবস্থানে তুলে ধরাই কর্মশালার অন্যতম লক্ষ্য। ন্যায্য রূপান্তর প্রক্রিয়ায় তরুণদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, জীবিকা ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের ফ্যাশন ফরওয়ার্ড প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী পাবলো নেরুদা বলেন, যথাযথ দক্ষতা, বিকল্প কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা না হলে অটোমেশন ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন শ্রমিকদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতি আলোচনায় শ্রমিকদের মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা প্রতিফলিত হওয়া জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কর্মশালায় যুব প্রতিনিধি ও তরুণ শ্রমিকেরা জলবায়ু সুশাসন, শোভন কাজ ও সামাজিক সুরক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা এবং জলবায়ু অর্থায়ন—এই চারটি বিষয়ে তাদের দাবি তুলে ধরেন।
অংশগ্রহণকারীরা জলবায়ু বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুব ও শ্রমিকদের অর্থবহ প্রতিনিধিত্ব, শ্রমিকদের জন্য নির্দিষ্ট জলবায়ু অর্থায়ন এবং দক্ষতা, কর্মসংস্থান ও রূপান্তরের কারণে চাকরি হারানোর তথ্য সংরক্ষণে একটি জাতীয় ডেটাবেইস তৈরির দাবি জানান।
তারা তীব্র তাপপ্রবাহের সময় বেতনসহ বিরতি, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, নিরাপদ পানীয় জল, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম, শিশুসেবা সুবিধা এবং তরুণ, নারী ও চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের জন্য বাড়তি সুরক্ষার দাবি জানান। একই সঙ্গে পুনঃদক্ষতা ও দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণকালীন আয় সুরক্ষা, স্বীকৃত সবুজ দক্ষতার সনদ এবং কর্মজীবনের সুস্পষ্ট পথ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।
যুব প্রতিনিধিরা কর্মক্ষেত্রে তাপঝুঁকি মূল্যায়ন, তাপমাত্রা নির্দেশিকা, কর্মঘণ্টা সমন্বয়, নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, সবুজ প্রযুক্তি ও বিকল্প কর্মসংস্থানের পাশাপাশি জরুরি সহায়তার জন্য নির্দিষ্ট অর্থায়নের সুপারিশ করেন। জলবায়ু অর্থায়নে শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়নের অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছ ও জেন্ডার-সংবেদনশীল ব্যবস্থারও দাবি জানান তারা।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, নীতি প্রণয়ন ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে দূরত্ব কমাতে তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা, তরুণ শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়মিত সম্পৃক্ততা এবং সহজ ভাষায় সচেতনতামূলক উপকরণ তৈরি করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ছোট ভিডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কনটেন্ট এবং কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য রূপান্তর বিষয়ে সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।
কর্মশালার সুপারিশগুলো কপ-৩১-এর জন্য প্রস্তাবিত শ্রমিক অবস্থানপত্র ও শ্রমিক সনদ তৈরিতে ব্যবহার করা হবে। আয়োজকেরা বলেন, ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান, দক্ষতা ও জলবায়ু কার্যক্রমসংক্রান্ত নীতি প্রণয়নে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


































