যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা “খুব ভালোভাবে” এগোচ্ছে এবং সপ্তাহান্তেই কোনো সমঝোতা হতে পারে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও আলোচনায় এখনো কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয়নি।
ওয়াশিংটন ও দুবাই থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে এবং শিগগিরই ফল আসতে পারে। একই দিনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কার্যত শেষ হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে।
রুবিও কংগ্রেসের হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটিকে জানান, ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান শেষ হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র আর ইরানের ভেতরে ধারাবাহিক সামরিক হামলা চালাচ্ছে না। তাঁর দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা, ড্রোন ভাণ্ডার, বিমান বাহিনী ও প্রচলিত নৌবাহিনী বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
তবে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এ দাবির বিরোধিতা করেন। তাদের মতে, সংঘাত এখনো শেষ হয়নি। বুধবার ইরানের হামলায় কুয়েত বিমানবন্দরে একজন নিহত ও ৬৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে বাহরাইনেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা এবং লেবাননে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতকে আলাদা রাখতে চান। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো সরাসরি হিজবুল্লাহর সঙ্গে কথা বলেছে এবং উভয় পক্ষ আপাতত গোলাগুলি না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ড্রোন ভূপাতিত ও একটি স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলার কথা জানিয়েছে, অন্যদিকে ইরান কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
রুবিও জানান, শান্তি চুক্তির আলোচনায় ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানকে তার প্রায় অস্ত্রমানের ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে, পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে হবে।
অন্যদিকে তেহরান বলছে, আলোচনায় অর্থবহ অগ্রগতির আগে তাদের ১২ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করতে হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার ধ্বংস করার বিষয়টিও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বৃহস্পতিবার এক বার্তায় বলেন, যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর শত্রুরা এখন ইরানের জনগণের মনোবল ভাঙতে ও অভ্যন্তরীণ বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং জনগণের মধ্যে হতাশা ছড়ানোকে শত্রুর সহায়তা করার শামিল বলে মন্তব্য করেন।