ঢাকা ১১:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আই হ্যাভ এ প্লান’ এর ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৭:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • / 9

সংসদে ‘আই হ্যাভ এ প্লান’ স্লোগানের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু ও কৃষক-কেন্দ্রিক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পদ্মা ব্যারেজ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, খাল পুনঃখনন ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সংসদে ‘আই হ্যাভ এ প্লান’ শীর্ষক এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের কৃষি ও জলবায়ু মোকাবিলায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

বুধবার (১৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তার লিখিত উত্তর সংসদের টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। অধিবেশনে স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেন। রাষ্ট্রীয় কাজে ঢাকার বাইরে থাকায় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না।

সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য একটি আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু, প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃষক-কেন্দ্রিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এতে উৎপাদন ও বিপণন হবে তথ্যভিত্তিক এবং প্রান্তিক কৃষক উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠবেন।

তিনি জানান, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের ৮ বিভাগের ১০ জেলার ১১ উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে ২০ হাজার ৮৩২টি কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য চলতি অর্থবছরে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ কৃষক উপকৃত হবেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সেচ সুবিধা বাড়বে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার হবে। পাশাপাশি কৃষকদের কাছে স্বল্পমূল্যে সার ও উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি জানান, স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ও ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান-গম সংগ্রহ এবং দেশব্যাপী ‘কৃষকবাজার’ স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে বন্যা, খরা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পদ্মা ব্যারেজ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নদীভাঙন প্রতিরোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিজমির লবণাক্ততা হ্রাসে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রথম পর্যায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলে পানি সংরক্ষণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা হ্রাস, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য প্রাকৃতিক জলাধার গড়ে তোলা, গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম জোরদারসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

‘আই হ্যাভ এ প্লান’ এর ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৭:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সংসদে ‘আই হ্যাভ এ প্লান’ স্লোগানের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু ও কৃষক-কেন্দ্রিক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পদ্মা ব্যারেজ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, খাল পুনঃখনন ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সংসদে ‘আই হ্যাভ এ প্লান’ শীর্ষক এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের কৃষি ও জলবায়ু মোকাবিলায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

বুধবার (১৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তার লিখিত উত্তর সংসদের টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। অধিবেশনে স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেন। রাষ্ট্রীয় কাজে ঢাকার বাইরে থাকায় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না।

সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য একটি আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু, প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃষক-কেন্দ্রিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এতে উৎপাদন ও বিপণন হবে তথ্যভিত্তিক এবং প্রান্তিক কৃষক উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠবেন।

তিনি জানান, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের ৮ বিভাগের ১০ জেলার ১১ উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে ২০ হাজার ৮৩২টি কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য চলতি অর্থবছরে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ কৃষক উপকৃত হবেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সেচ সুবিধা বাড়বে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার হবে। পাশাপাশি কৃষকদের কাছে স্বল্পমূল্যে সার ও উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি জানান, স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ও ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান-গম সংগ্রহ এবং দেশব্যাপী ‘কৃষকবাজার’ স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে বন্যা, খরা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পদ্মা ব্যারেজ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা, নদীভাঙন প্রতিরোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিজমির লবণাক্ততা হ্রাসে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রথম পর্যায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলে পানি সংরক্ষণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা হ্রাস, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য প্রাকৃতিক জলাধার গড়ে তোলা, গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম জোরদারসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।