দেশজুড়ে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ শুরু
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫০:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
- / 142
৬৪ জেলায় একযোগে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। তরুণদের আয়মুখী দক্ষতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবকদের জন্য ‘ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় ৩ মাস মেয়াদি কোর্স আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
অনুষ্ঠানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামানের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। এতে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রতিনিধি এবং অনলাইনে প্রায় পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থী যুক্ত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতিহারে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরিতে ফ্রিল্যান্সিংকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দেশব্যাপী এই কর্মসূচি চালু করা হলো।
সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমের ভাষ্য, কর্মসংস্থান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর একটি। আধুনিক দক্ষতা, বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সিং, তরুণদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করছে।
ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম জানান, ফ্রিল্যান্সারদের একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের শুরুতেই অংশগ্রহণকারীদের প্রোফাইল খোলা হয়, যেখানে তাদের অগ্রগতি ও আয়ের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। নিজের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতাও তিনি তুলে ধরেন।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৭৩ কোটি ৭৭ লাখ ২৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৬ হাজার জনকে প্রশিক্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যক্রম শুরু হয় এবং বর্তমানে ৮টি বিভাগের ৬৪ জেলায় এই প্রশিক্ষণ চলছে।
১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ষষ্ঠ ব্যাচে প্রতি জেলায় ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ জন অংশ নিচ্ছেন। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী, ন্যূনতম এইচএসসি পাস তরুণদের মধ্য থেকে জেলা প্রশাসন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি প্রশিক্ষণার্থী বাছাই করেছে।
এ পর্যন্ত ৫টি ব্যাচে ১৪ হাজার ৪০০ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশ, অর্থাৎ ৮ হাজার ৬৪০ জন দেশি-বিদেশি মার্কেটপ্লেসে কাজ করছেন। তাদের মোট আয় ১৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪৫ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২২ কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি। আয়ের সুযোগ বাড়াতে প্রতিটি জেলায় মেন্টরিং ক্লাসের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এই ব্যাচে ভর্তির জন্য ৯৭ হাজার ২২৯ জন আবেদন করেছিলেন। সেখান থেকে ৬১ হাজার ৫৮১ জনকে পরীক্ষার জন্য বাছাই করা হয় এবং লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে ৪ হাজার ৮০০ জনকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে ৩ মাসে মোট ৬০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ফ্রিল্যান্সিং, বেসিক ইংরেজি, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফট স্কিল, স্মার্টফোনভিত্তিক ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিং। অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াত ভাতা, খাবার ও প্রশিক্ষণ উপকরণ দেওয়া হচ্ছে এবং শেষে সনদ প্রদান করা হবে। পুরো কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো।






























