ঢাকা ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১ কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা সরকারের

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:২০:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • / 25

ছবি সংগৃহীত

আগামী পাঁচ বছরে বিদেশে এক কোটি দক্ষ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। তবে এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য বাস্তবায়নে শুধু প্রশিক্ষণ নয়, নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি, অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং দালালচক্র নিয়ন্ত্রণই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সরকারের দাবি, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং বৈধ অভিবাসন বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরে বিদেশে এক কোটি দক্ষ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক করার উদ্যোগ চলছে।

বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ছয়টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিসহ মোট ১১০টি প্রতিষ্ঠানে ৫৫টি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সরকারের ধারণা, দক্ষতা ও ভাষাজ্ঞান বাড়ানো গেলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।

তবে লক্ষ্য অর্জনের পথ সহজ নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি বড় শ্রমবাজারে নতুন কর্মী নিয়োগের গতি ওঠানামা করেছে। একই সঙ্গে ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ার বাজারে প্রবেশে দক্ষতা, ভাষা, সনদ এবং দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে শুধু প্রশিক্ষণ বাড়ালেই কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক কর্মী বিদেশে পাঠানো সম্ভব হবে না; নতুন বাজার সম্প্রসারণও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রী জানান, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে এবং দালালচক্রের প্রভাব কমাতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্ল্যাটফর্ম (ওইপি) চালু করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ, ভিসা যাচাই, ছাড়পত্র ইস্যুসহ বিভিন্ন সেবা ডিজিটাল হওয়ায় অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে সরকারের প্রত্যাশা।

এ ছাড়া সাব-এজেন্টদের নিবন্ধনের জন্য নতুন বিধিমালা প্রণয়ন এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অভিবাসন সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতারণা কমিয়ে বৈধ অভিবাসন সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যাগত লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর চেয়ে বেশি জরুরি কর্মীদের দক্ষতা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, কম অভিবাসন ব্যয় এবং দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তব রূপ পেতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

১ কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা সরকারের

সর্বশেষ আপডেট ০৭:২০:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

আগামী পাঁচ বছরে বিদেশে এক কোটি দক্ষ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। তবে এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য বাস্তবায়নে শুধু প্রশিক্ষণ নয়, নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি, অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং দালালচক্র নিয়ন্ত্রণই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সরকারের দাবি, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং বৈধ অভিবাসন বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরে বিদেশে এক কোটি দক্ষ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক করার উদ্যোগ চলছে।

বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ছয়টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিসহ মোট ১১০টি প্রতিষ্ঠানে ৫৫টি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সরকারের ধারণা, দক্ষতা ও ভাষাজ্ঞান বাড়ানো গেলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।

তবে লক্ষ্য অর্জনের পথ সহজ নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি বড় শ্রমবাজারে নতুন কর্মী নিয়োগের গতি ওঠানামা করেছে। একই সঙ্গে ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ার বাজারে প্রবেশে দক্ষতা, ভাষা, সনদ এবং দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে শুধু প্রশিক্ষণ বাড়ালেই কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক কর্মী বিদেশে পাঠানো সম্ভব হবে না; নতুন বাজার সম্প্রসারণও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রী জানান, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে এবং দালালচক্রের প্রভাব কমাতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্ল্যাটফর্ম (ওইপি) চালু করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ, ভিসা যাচাই, ছাড়পত্র ইস্যুসহ বিভিন্ন সেবা ডিজিটাল হওয়ায় অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে সরকারের প্রত্যাশা।

এ ছাড়া সাব-এজেন্টদের নিবন্ধনের জন্য নতুন বিধিমালা প্রণয়ন এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অভিবাসন সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতারণা কমিয়ে বৈধ অভিবাসন সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যাগত লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর চেয়ে বেশি জরুরি কর্মীদের দক্ষতা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, কম অভিবাসন ব্যয় এবং দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলে সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তব রূপ পেতে পারে।