ঢাকা ১০:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাম মোকাবিলায় জরুরি কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:০৬:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 9

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে হাম রোগের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায়, দেশের শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস এন্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (IFRC) এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) যৌথভাবে ছয় মাসব্যাপী একটি জরুরি সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে হাম সংক্রমণের কারণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৬ লাখ মানুষের কাছে নানামুখী সহায়তা পৌঁছানো হবে। বিশেষ করে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু, তাদের অভিভাবক এবং স্বাস্থ্য ব্যয়ের চাপের মুখে থাকা পরিবারগুলোকে এক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস এন্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ এসব তথ্য জানিয়েছে।
সরকারের সহায়ক হিসেবে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে মাঠপর্যায়ে এ বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এর লক্ষ্য, সংক্রমণ কমানো, স্থানীয় পর্যায়ে হাম বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান। কক্সবাজার অঞ্চলে, যেখানে ঘনবসতি ও সীমিত সম্পদের কারণে ঝুঁকি বেশি, সেখানে ক্যাম্প পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এই উদ্যোগের অধীনে প্রধান কার্যক্রমগুলো হলো:

• ১ হাজার ৯৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর জন্য পরিবার প্রতি নগদ ৬,০০০ টাকা সহায়তা প্রদান।
• ৫০,০০০ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী ও সচেতনতা কার্যক্রম।
• হামের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ১০টি হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সহায়তা প্রদান।
• ১ হাজারের উপর প্রশিক্ষিত রেড ক্রিসেন্ট যুব স্বেচ্ছাসেবককে কাজে লাগানো, যার ২৫০টির বেশি টিকাদান কেন্দ্রে সহায়তা করবেন।
• সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা।
• অভিভাবক, স্বেচ্ছাসেবক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা।
• গুজব প্রতিরোধ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার জন্য কমিউনিটি পর্যায়ে নজরদারি জোরদার।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব ড. কবির মো. আশরাফ আলম এনডিসি বলেন, ‘হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি একটি গুরুতর জাতীয় জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শিশুদের ওপর।

দেশের অন্যতম বৃহৎ মানবিক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দিতে কাজ করছে।

আইএফআরসি’র জরুরি সহায়তার ফলে এখন আমরা আমাদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে পারছি। নগদ সহায়তা প্রদান, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা এবং প্রয়োজনের সময় আক্রান্ত শিশুর অভিভাবকদের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হচ্ছে।’

বাংলাদেশে আইএফআরসি’র হেড অব ডেলিগেশন আলবার্তো বোকানেগ্রা বলেন, ‘প্রতিটি হাম আক্রান্ত শিশুর পরিবার উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা ও আর্থিক চাপে রয়েছে। রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা প্রতিদিন মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন, জীবনরক্ষাকারী তথ্য পৌঁছে দিচ্ছেন এবং মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা নিতে সহায়তা করছেন।

এই জরুরি তহবিলের মাধ্যমে আইএফআরসি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সহায়তা দিচ্ছে; কমিউনিটি পর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করা, হাসপাতালের ওপর চাপ কমানো এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টকে সময়োপযোগী, ও জীবনরক্ষাকারী সহায়তা দিতে সহায়তা করছে। পরিস্থিতির প্রয়োজনে আমরা আমাদের সহায়তা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকার পরিচালিত টিকাদান কর্মসূচিকে সহায়তা করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে, নিরাপদে এবং বিশ্বাসের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম রোগের সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২২ হাজার ৪০০-এর বেশি সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৩ হাজার ২৭৮টি নিশ্চিত এবং ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

হাম মোকাবিলায় জরুরি কর্মসূচি

সর্বশেষ আপডেট ০৭:০৬:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে হাম রোগের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায়, দেশের শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস এন্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (IFRC) এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) যৌথভাবে ছয় মাসব্যাপী একটি জরুরি সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে হাম সংক্রমণের কারণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৬ লাখ মানুষের কাছে নানামুখী সহায়তা পৌঁছানো হবে। বিশেষ করে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু, তাদের অভিভাবক এবং স্বাস্থ্য ব্যয়ের চাপের মুখে থাকা পরিবারগুলোকে এক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস এন্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ এসব তথ্য জানিয়েছে।
সরকারের সহায়ক হিসেবে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে মাঠপর্যায়ে এ বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এর লক্ষ্য, সংক্রমণ কমানো, স্থানীয় পর্যায়ে হাম বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান। কক্সবাজার অঞ্চলে, যেখানে ঘনবসতি ও সীমিত সম্পদের কারণে ঝুঁকি বেশি, সেখানে ক্যাম্প পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এই উদ্যোগের অধীনে প্রধান কার্যক্রমগুলো হলো:

• ১ হাজার ৯৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর জন্য পরিবার প্রতি নগদ ৬,০০০ টাকা সহায়তা প্রদান।
• ৫০,০০০ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী ও সচেতনতা কার্যক্রম।
• হামের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ১০টি হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সহায়তা প্রদান।
• ১ হাজারের উপর প্রশিক্ষিত রেড ক্রিসেন্ট যুব স্বেচ্ছাসেবককে কাজে লাগানো, যার ২৫০টির বেশি টিকাদান কেন্দ্রে সহায়তা করবেন।
• সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা।
• অভিভাবক, স্বেচ্ছাসেবক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা।
• গুজব প্রতিরোধ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার জন্য কমিউনিটি পর্যায়ে নজরদারি জোরদার।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব ড. কবির মো. আশরাফ আলম এনডিসি বলেন, ‘হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি একটি গুরুতর জাতীয় জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শিশুদের ওপর।

দেশের অন্যতম বৃহৎ মানবিক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দিতে কাজ করছে।

আইএফআরসি’র জরুরি সহায়তার ফলে এখন আমরা আমাদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে পারছি। নগদ সহায়তা প্রদান, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা এবং প্রয়োজনের সময় আক্রান্ত শিশুর অভিভাবকদের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হচ্ছে।’

বাংলাদেশে আইএফআরসি’র হেড অব ডেলিগেশন আলবার্তো বোকানেগ্রা বলেন, ‘প্রতিটি হাম আক্রান্ত শিশুর পরিবার উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা ও আর্থিক চাপে রয়েছে। রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা প্রতিদিন মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন, জীবনরক্ষাকারী তথ্য পৌঁছে দিচ্ছেন এবং মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা নিতে সহায়তা করছেন।

এই জরুরি তহবিলের মাধ্যমে আইএফআরসি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সহায়তা দিচ্ছে; কমিউনিটি পর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করা, হাসপাতালের ওপর চাপ কমানো এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টকে সময়োপযোগী, ও জীবনরক্ষাকারী সহায়তা দিতে সহায়তা করছে। পরিস্থিতির প্রয়োজনে আমরা আমাদের সহায়তা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকার পরিচালিত টিকাদান কর্মসূচিকে সহায়তা করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে, নিরাপদে এবং বিশ্বাসের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম রোগের সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২২ হাজার ৪০০-এর বেশি সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৩ হাজার ২৭৮টি নিশ্চিত এবং ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।