সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ১৩ জনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। সোমবার সন্ধ্যায় ঘোষিত এ তালিকায় জোটের ভেতরে দলভিত্তিক বণ্টনের একটি স্পষ্ট চিত্র উঠে এসেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্ক এখন বেশ পরিষ্কার। সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য।
তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে জোটের ভেতরে সমন্বয় প্রক্রিয়ারও ইঙ্গিত মিলছে—যদিও কারও কারও ক্ষেত্রে নির্বাচন-পরবর্তী দরকষাকষির প্রতিফলন রয়েছে বলেও মনে করা হচ্ছে।
ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, মোট ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮ জনই জামায়াতে ইসলামী থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। বাকি ৫ জন এসেছেন শরিক দল ও বিশেষ ক্যাটাগরি থেকে। এই বণ্টন জোটের ভেতরে প্রভাবের ভারসাম্য কতটা, সে প্রশ্নটিও সামনে এনে দেয়।
জামায়াতে ইসলাম থেকে মনোনীতরা হলেন—নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন নাহার মুন্নি, মারদিয়া মমতাজ, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা সিদ্দিকা, সাজেদা সামাদ ও সামসুন নাহার। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মনিরা শারমিন ও মাহমুদা আলম মিতু। এছাড়া জাগপার চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নারী মজলিসের সদস্য মাহবুবা হাকিম এবং জুলাই শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমও তালিকায় রয়েছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় এই জোট ৭৭টি আসনে জয় পায়। সংসদীয় বিধান অনুযায়ী, সেই ফলাফলের ভিত্তিতেই তারা সংরক্ষিত নারী আসনে ১৩টি আসন পাচ্ছে। একই ব্যবস্থায় মোট ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ৩৬টি আসন—যা সংসদে তাদের সংখ্যাগত অবস্থানকেই প্রতিফলিত করে।