নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা দেবে গন্ধর্বপুর প্রকল্প: মির্জা ফখরুল
- সর্বশেষ আপডেট ০২:৫৭:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
- / 10
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার প্ল্যান্টটি পুরোপুরি চালু হলে রাজধানী ঢাকার পূর্বাঞ্চলের লাখো মানুষ নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দেশের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, এই প্রকল্পটির মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর মানুষের দীর্ঘদিনের নির্ভরতা অনেক কমে আসবে, যা একটি পরিবেশবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
আজ সোমবার (৮ জুন) বেলা ১১টার দিকে গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার প্ল্যান্টের সার্বিক কাজ পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বিশাল ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই মেগা প্রকল্পের প্রায় ৯৭ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীতে দিন দিন ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়ার কারণে বিকল্প ও টেকসই পানির উৎস নিশ্চিত করতে মেঘনা নদীর পানি শোধনের এই বৃহৎ ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই এই শোধনাগার থেকে পরীক্ষামূলক ও আংশিক পানি সরবরাহ শুরু করার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি, আগামী এক বছরের মধ্যে প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করে ঢাকা ওয়াসার মাধ্যমে রাজধানীতে নিয়মিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলেও তিনি জোর আশা প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী প্রকল্পের পানির মূল উৎস লাইন এলাকা এবং শোধনাগারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সশরীরে ঘুরে দেখেন। তিনি গন্ধর্বপুর প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতিতে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অবশিষ্ট কাজগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এর পাশাপাশি প্রকল্পটির শতভাগ সফল বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
হাইপ্রোফাইল এই পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম এবং ঢাকা ওয়াসা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সুয়েজ ভেউলিয়া’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগারের প্রথম ধাপে প্রতিদিন ৫০ কোটি লিটার পানি রাজধানীতে সরবরাহ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপের কাজ সম্পন্ন হলে আরও ৫০ কোটি লিটার পানি যুক্ত হবে। ফলে দুই ধাপ মিলিয়ে প্রকল্পটির দৈনিক পানি সরবরাহ সক্ষমতা দাঁড়াবে ১০০ কোটি লিটারে, যা রাজধানীর ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা।































