ঢাকা ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রায়ের পর কি প্রক্রিয়া শেষে ফাঁসি কার্যকর হয়?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪২:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • / 162

পল্লবীর শিশুধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর প্রশ্ন উঠেছে—এ রায় কি এখনই কার্যকর হবে? বাস্তবে আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে উচ্চ আদালত ও সাংবিধানিক নানা ধাপ পেরোতে হয়, যা অনেক সময় দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় রূপ নেয়।

ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল রোববার (৭ জুন) পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে এই রায় ঘোষণার পরও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্ন আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলেই তা সরাসরি কার্যকর হয় না। প্রথম ধাপে মামলাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পাঠানো হয়। সেখানে পুরো মামলার সাক্ষ্য, ফরেনসিক প্রতিবেদন, ডিএনএ ও অন্যান্য প্রমাণ পুনরায় পর্যালোচনা করা হয়।

হাইকোর্ট চাইলে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখতে পারে, সাজা পরিবর্তন করতে পারে কিংবা প্রমাণ দুর্বল হলে খালাসও দিতে পারে। এরপর আপিল বিভাগে যাওয়ার সুযোগ থাকে রাষ্ট্রপক্ষ বা আসামিপক্ষের।

আপিল বিভাগের রায়ও চূড়ান্ত নয়; সেখানে রিভিউ আবেদনের সুযোগ থাকে। সব বিচারিক ধাপ শেষ হওয়ার পরও দণ্ডিত ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারেন। রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের পরই মূলত রায় কার্যকরের আইনগত পথ উন্মুক্ত হয়।

আইনজীবীদের মতে, এসব ধাপ বিচারব্যবস্থায় সতর্কতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্যই রাখা হয়েছে, যাতে কোনো ভুল রায় কার্যকর না হয়।

অতএব, ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার অর্থ এই নয় যে তা তাৎক্ষণিকভাবে ফাঁসি কার্যকরে পরিণত হবে; বরং শুরু হয় একটি দীর্ঘ বিচারিক যাচাইয়ের প্রক্রিয়া।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রায়ের পর কি প্রক্রিয়া শেষে ফাঁসি কার্যকর হয়?

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪২:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

পল্লবীর শিশুধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর প্রশ্ন উঠেছে—এ রায় কি এখনই কার্যকর হবে? বাস্তবে আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে উচ্চ আদালত ও সাংবিধানিক নানা ধাপ পেরোতে হয়, যা অনেক সময় দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় রূপ নেয়।

ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল রোববার (৭ জুন) পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে এই রায় ঘোষণার পরও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্ন আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলেই তা সরাসরি কার্যকর হয় না। প্রথম ধাপে মামলাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পাঠানো হয়। সেখানে পুরো মামলার সাক্ষ্য, ফরেনসিক প্রতিবেদন, ডিএনএ ও অন্যান্য প্রমাণ পুনরায় পর্যালোচনা করা হয়।

হাইকোর্ট চাইলে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখতে পারে, সাজা পরিবর্তন করতে পারে কিংবা প্রমাণ দুর্বল হলে খালাসও দিতে পারে। এরপর আপিল বিভাগে যাওয়ার সুযোগ থাকে রাষ্ট্রপক্ষ বা আসামিপক্ষের।

আপিল বিভাগের রায়ও চূড়ান্ত নয়; সেখানে রিভিউ আবেদনের সুযোগ থাকে। সব বিচারিক ধাপ শেষ হওয়ার পরও দণ্ডিত ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইতে পারেন। রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের পরই মূলত রায় কার্যকরের আইনগত পথ উন্মুক্ত হয়।

আইনজীবীদের মতে, এসব ধাপ বিচারব্যবস্থায় সতর্কতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্যই রাখা হয়েছে, যাতে কোনো ভুল রায় কার্যকর না হয়।

অতএব, ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার অর্থ এই নয় যে তা তাৎক্ষণিকভাবে ফাঁসি কার্যকরে পরিণত হবে; বরং শুরু হয় একটি দীর্ঘ বিচারিক যাচাইয়ের প্রক্রিয়া।