ঢাকা ০৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশ সদস্যসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে টাকা ছিনতাইয়ের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৪৪:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • / 7

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য জুয়েল

যশোরের শার্শায় পূর্বশত্রুতার জেরে এক সাধারণ ব্যবসায়ীকে পথরোধ করে মারধর এবং পকেটে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগে জুয়েল নামে এক পুলিশ সদস্যসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত রোববার (৭ জুন) বিকেলের দিকে যশোর আদালতে হাজির হয়ে মামলাটি দায়ের করেন উপজেলার শ্যামলগাছী গ্রামের ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী পিন্টু রহমান।

এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত আসামি পুলিশ সদস্য জুয়েল মূলত যশোরের শার্শা উপজেলারই শ্যামলাগাছী গ্রামের মশিয়ার রহমানের ছেলে। মামলার এজাহারে নাম থাকা অন্য আসামিরা হলেন—একই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বারেক, শফিয়ার রহমান, তহিদুল ইসলাম এবং মশিয়ার রহমান। আদালত মামলার অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বাদী মিন্টু উল্লেখ করেন, তিনি পেশায় একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। এলাকার চিহ্নিত কিছু আসামির বিভিন্ন অন্যায় ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাদের সঙ্গে বাদীর দীর্ঘদিনের পূর্বশত্রুতা ও ক্ষোভ তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায়, গত ২৯ মে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শার্শার শ্যামলগাছী গেট মোড়ে বাদী অবস্থান করার সময় আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাঁকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই সময় আসামিরা বাঁশের লাঠি, লোহার রড ও স্টিলের পাইপ নিয়ে সশস্ত্র অবস্থায় ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং একপর্যায়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে। হামলাকারীরা বাদীর পকেটে থাকা নগদ ১৪ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় এবং তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও চালায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শার্শা এলাকায় পক্ষগুলোর মধ্যে এর আগেও মামলা-পাল্টা মামলার ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহে শার্শার বাসিন্দা ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্য উজ্জলের ওপর মারধরের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫ থেকে ৬ জনের বিরুদ্ধে ৪ জুন আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলাটি করেছিলেন বর্তমান মামলার প্রধান আসামি পুলিশ সদস্য জুয়েলের ছোট ভাই রয়েল।

তার ঠিক দুই দিন আগে, গত ২ জুন করা অন্য আরেকটি মামলায় বিএনপি নেতা মিন্টুর ভাই পিন্টু নিজেই বাদী হয়েছিলেন। তবে স্থনীয়দের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগও রয়েছে যে, এসব সংঘাত ও মারধরের ঘটনা নিয়ে দায়ের করা মামলাগুলো শার্শা থানা পুলিশ প্রথমে সরাসরি আমলে নেয়নি, যার কারণে ভুক্তভোগীদের আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পুলিশ সদস্যসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে টাকা ছিনতাইয়ের মামলা

সর্বশেষ আপডেট ০২:৪৪:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

যশোরের শার্শায় পূর্বশত্রুতার জেরে এক সাধারণ ব্যবসায়ীকে পথরোধ করে মারধর এবং পকেটে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগে জুয়েল নামে এক পুলিশ সদস্যসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত রোববার (৭ জুন) বিকেলের দিকে যশোর আদালতে হাজির হয়ে মামলাটি দায়ের করেন উপজেলার শ্যামলগাছী গ্রামের ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী পিন্টু রহমান।

এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত আসামি পুলিশ সদস্য জুয়েল মূলত যশোরের শার্শা উপজেলারই শ্যামলাগাছী গ্রামের মশিয়ার রহমানের ছেলে। মামলার এজাহারে নাম থাকা অন্য আসামিরা হলেন—একই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বারেক, শফিয়ার রহমান, তহিদুল ইসলাম এবং মশিয়ার রহমান। আদালত মামলার অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বাদী মিন্টু উল্লেখ করেন, তিনি পেশায় একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। এলাকার চিহ্নিত কিছু আসামির বিভিন্ন অন্যায় ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাদের সঙ্গে বাদীর দীর্ঘদিনের পূর্বশত্রুতা ও ক্ষোভ তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায়, গত ২৯ মে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শার্শার শ্যামলগাছী গেট মোড়ে বাদী অবস্থান করার সময় আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাঁকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই সময় আসামিরা বাঁশের লাঠি, লোহার রড ও স্টিলের পাইপ নিয়ে সশস্ত্র অবস্থায় ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং একপর্যায়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে। হামলাকারীরা বাদীর পকেটে থাকা নগদ ১৪ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় এবং তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও চালায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শার্শা এলাকায় পক্ষগুলোর মধ্যে এর আগেও মামলা-পাল্টা মামলার ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহে শার্শার বাসিন্দা ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্য উজ্জলের ওপর মারধরের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫ থেকে ৬ জনের বিরুদ্ধে ৪ জুন আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলাটি করেছিলেন বর্তমান মামলার প্রধান আসামি পুলিশ সদস্য জুয়েলের ছোট ভাই রয়েল।

তার ঠিক দুই দিন আগে, গত ২ জুন করা অন্য আরেকটি মামলায় বিএনপি নেতা মিন্টুর ভাই পিন্টু নিজেই বাদী হয়েছিলেন। তবে স্থনীয়দের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগও রয়েছে যে, এসব সংঘাত ও মারধরের ঘটনা নিয়ে দায়ের করা মামলাগুলো শার্শা থানা পুলিশ প্রথমে সরাসরি আমলে নেয়নি, যার কারণে ভুক্তভোগীদের আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়েছে।