ঢাকা ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাথাবিহীন মরদেহ মিলল গৌরিচন্না খালে, মাথা খুঁজছে ডুবুরি দল

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরগুনা
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:১১:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • / 13

মাথাবিহীন মরদেহ মিলল গৌরিচন্না খালে

বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না খাল থেকে শামীম নামের এক স্থানীয় ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন নৃশংস মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বর্বরোচিত ও লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আজ সোমবার (৮ জুন) সকাল ১০টার দিকে গৌরিচন্না বাজার সংলগ্ন খালের পানি থেকে ওই ব্যবসায়ীর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত শামীম বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের মুনসুর আলী বেপারির ছেলে এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার রাত ১১টার পর থেকে ব্যবসায়ী শামীমের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। রাতের বেলা ঘরে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানসহ আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। আজ সোমবার সকালে গৌরিচন্না খালের পাড়ে বেশ কিছু তাজা রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে স্থানীয় মানুষের মনে গভীর সন্দেহ জাগে। এরপর খালের আশপাশে অনুসন্ধান চালানোর একপর্যায়ে পানির মধ্যে একটি মাথাবিহীন মরদেহ ভাসতে দেখেন তাঁরা। পরে খবর পেয়ে বরগুনা সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি পানি থেকে উদ্ধার করে।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আলীম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে। নিহতের মরদেহটি ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে মরদেহের বিচ্ছিন্ন মাথাটি এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শামীমের মাথাটি খুঁজে বের করার জন্য খালের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ডুবুরি দল এবং পুলিশ যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।

ওসি আরও জানান, লাশের অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা উদঘাটন করতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব না হলেও, ঘটনার সাথে জড়িত খুনিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

এদিকে জনসমক্ষে এমন মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো বরগুনা এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও নিরাপত্তার চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য দ্রুত উদঘাটন এবং জড়িত অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মাথাবিহীন মরদেহ মিলল গৌরিচন্না খালে, মাথা খুঁজছে ডুবুরি দল

সর্বশেষ আপডেট ০৩:১১:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না খাল থেকে শামীম নামের এক স্থানীয় ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন নৃশংস মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বর্বরোচিত ও লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আজ সোমবার (৮ জুন) সকাল ১০টার দিকে গৌরিচন্না বাজার সংলগ্ন খালের পানি থেকে ওই ব্যবসায়ীর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত শামীম বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের মুনসুর আলী বেপারির ছেলে এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার রাত ১১টার পর থেকে ব্যবসায়ী শামীমের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। রাতের বেলা ঘরে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানসহ আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। আজ সোমবার সকালে গৌরিচন্না খালের পাড়ে বেশ কিছু তাজা রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে স্থানীয় মানুষের মনে গভীর সন্দেহ জাগে। এরপর খালের আশপাশে অনুসন্ধান চালানোর একপর্যায়ে পানির মধ্যে একটি মাথাবিহীন মরদেহ ভাসতে দেখেন তাঁরা। পরে খবর পেয়ে বরগুনা সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি পানি থেকে উদ্ধার করে।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আলীম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে। নিহতের মরদেহটি ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে মরদেহের বিচ্ছিন্ন মাথাটি এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শামীমের মাথাটি খুঁজে বের করার জন্য খালের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ডুবুরি দল এবং পুলিশ যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।

ওসি আরও জানান, লাশের অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা উদঘাটন করতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব না হলেও, ঘটনার সাথে জড়িত খুনিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

এদিকে জনসমক্ষে এমন মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো বরগুনা এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও নিরাপত্তার চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য দ্রুত উদঘাটন এবং জড়িত অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।