ঢাকা ১১:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বদিউল আলম মজুমদার

সুবিধা পেতে ‘এস আলম-সামিট’ দেশি কোম্পানি, বিপরীত হলে বিদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:০৪:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • / 106

“সুবিধা পেতে ‘এস আলম–সামিট’ দেশি কোম্পানি, আর বিপরীতে গেলে বিদেশি”—এমন মন্তব্য করে দেশে বিনিয়োগ ও চুক্তি ব্যবস্থায় নীতিগত অস্পষ্টতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তার মতে, পরিচয়ের এই সুবিধাভিত্তিক ব্যাখ্যা রাষ্ট্রীয় নীতি ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত কৌশলগত বিনিয়োগ বিষয়ক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনায় মূলত দেশীয় বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি ও বড় প্রকল্পে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক উঠে আসে।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দেশে কোন প্রতিষ্ঠান দেশি আর কোনটি বিদেশি—এ নিয়ে একটি স্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক কাঠামোর অভাব রয়েছে। এই ঘাটতির কারণে কিছু বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের অবস্থান বদলে সুবিধা আদায় করে থাকে বলে তিনি ইঙ্গিত করেন। তার ভাষায়, একদিকে তারা দেশীয় সুবিধা গ্রহণ করে, অন্যদিকে স্বার্থের বিরোধ দেখা দিলে বিদেশি পরিচয়ের দিকেও ঝুঁকে পড়ে—যা দীর্ঘমেয়াদে নীতি বাস্তবায়নে বিভ্রান্তি তৈরি করে।

তিনি আরও বলেন, কৌশলগত খাতে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধাপগুলোতে স্থানীয় অংশগ্রহণ সীমিত ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন, যা জনস্বার্থ ও জবাবদিহির প্রশ্নকে সামনে আনে।

আলোচনায় দুর্নীতির প্রকৃতি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, সময়ের সঙ্গে দুর্নীতি এখন আর সরাসরি দৃশ্যমান নয়; বরং জটিল আর্থিক কাঠামোর আড়ালে তা সংঘটিত হচ্ছে, ফলে নিয়ন্ত্রণ ও শনাক্তকরণ আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি প্রশাসনিক ব্যবস্থায় কর্মদক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে পদোন্নতি ও মূল্যায়নে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে কাজের মানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অন্যদিকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না আন্তর্জাতিক চুক্তি ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে দেশের অবস্থানকে আরও শক্ত করার আহ্বান জানান। তার মতে, অনেক ক্ষেত্রে দরকষাকষিতে দুর্বলতার কারণে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মূল আলোচনায় কৌশলগত অবকাঠামো, বিশেষ করে বন্দর ব্যবস্থাপনায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিদেশি কোম্পানিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। বক্তারা মনে করেন, নীতিগত স্বচ্ছতা ও বাস্তব মূল্যায়ন না থাকলে ভবিষ্যতে দেশীয় বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বদিউল আলম মজুমদার

সুবিধা পেতে ‘এস আলম-সামিট’ দেশি কোম্পানি, বিপরীত হলে বিদেশি

সর্বশেষ আপডেট ০৬:০৪:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

“সুবিধা পেতে ‘এস আলম–সামিট’ দেশি কোম্পানি, আর বিপরীতে গেলে বিদেশি”—এমন মন্তব্য করে দেশে বিনিয়োগ ও চুক্তি ব্যবস্থায় নীতিগত অস্পষ্টতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তার মতে, পরিচয়ের এই সুবিধাভিত্তিক ব্যাখ্যা রাষ্ট্রীয় নীতি ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত কৌশলগত বিনিয়োগ বিষয়ক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনায় মূলত দেশীয় বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি ও বড় প্রকল্পে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক উঠে আসে।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দেশে কোন প্রতিষ্ঠান দেশি আর কোনটি বিদেশি—এ নিয়ে একটি স্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক কাঠামোর অভাব রয়েছে। এই ঘাটতির কারণে কিছু বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের অবস্থান বদলে সুবিধা আদায় করে থাকে বলে তিনি ইঙ্গিত করেন। তার ভাষায়, একদিকে তারা দেশীয় সুবিধা গ্রহণ করে, অন্যদিকে স্বার্থের বিরোধ দেখা দিলে বিদেশি পরিচয়ের দিকেও ঝুঁকে পড়ে—যা দীর্ঘমেয়াদে নীতি বাস্তবায়নে বিভ্রান্তি তৈরি করে।

তিনি আরও বলেন, কৌশলগত খাতে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধাপগুলোতে স্থানীয় অংশগ্রহণ সীমিত ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন, যা জনস্বার্থ ও জবাবদিহির প্রশ্নকে সামনে আনে।

আলোচনায় দুর্নীতির প্রকৃতি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, সময়ের সঙ্গে দুর্নীতি এখন আর সরাসরি দৃশ্যমান নয়; বরং জটিল আর্থিক কাঠামোর আড়ালে তা সংঘটিত হচ্ছে, ফলে নিয়ন্ত্রণ ও শনাক্তকরণ আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি প্রশাসনিক ব্যবস্থায় কর্মদক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে পদোন্নতি ও মূল্যায়নে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে কাজের মানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অন্যদিকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না আন্তর্জাতিক চুক্তি ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে দেশের অবস্থানকে আরও শক্ত করার আহ্বান জানান। তার মতে, অনেক ক্ষেত্রে দরকষাকষিতে দুর্বলতার কারণে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মূল আলোচনায় কৌশলগত অবকাঠামো, বিশেষ করে বন্দর ব্যবস্থাপনায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিদেশি কোম্পানিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। বক্তারা মনে করেন, নীতিগত স্বচ্ছতা ও বাস্তব মূল্যায়ন না থাকলে ভবিষ্যতে দেশীয় বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।