ঢাকা ১০:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসককে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৩:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • / 18

জেলা প্রশাসকের একটি বক্তব্যের প্রতিবাদে ওলামা মাশোয়েখ পরিষদের বিক্ষোভ। ছবি: বাংলা অ্যাফেয়ার্স

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজের দেওয়া একটি বক্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন জেলার ওলামা মাশোয়েখ পরিষদ। বুধবার (২৪ জুন) বিকেল ৪টায় সাতক্ষীরা নিউমার্কেট মোড়ে এ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা জেলা প্রশাসকের বক্তব্যকে ‘জনবিচ্ছিন্ন, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী’ বলে অভিহিত করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি জেলার সমগ্র জনগোষ্ঠীকে ‘ধর্মান্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা কোনোভাবেই একজন দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্মকর্তার ভাষা হতে পারে না। সাতক্ষীরার ধর্মপ্রাণ মানুষের বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও সামাজিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে জেলা প্রশাসক যে মন্তব্য করেছেন, তা জেলার মানুষের আত্মমর্যাদায় আঘাত হেনেছে।

বক্তারা আরও বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ সাতক্ষীরা জেলায় বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নজির স্থাপন করে আসছেন। অথচ জেলার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জনসম্মুখে এমন মন্তব্য করে পুরো জেলার মানুষকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মাওলানা আব্দুল বারী, মাওলানা ওসমান গনি, মাওলানা মনিরুল ইসলাম বেলালী, মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, মাওলানা শাহাদাত হোসেন, মাওলানা আফজাল হোসেন, হাফেজ মাওলানা ওমর ফারুক, মাওলানা তরিকুল ইসলাম ও মাওলানা আরিফুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য প্রত্যাহার করে সাতক্ষীরাবাসীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

মানববন্ধনটি পরিচালনা করেন মাওলানা রুস্তম আলী তাওহীদি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার এক মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ বলেন, “সাতক্ষীরায় ধর্মান্ধতা চলে এসেছে।” তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়।

মানববন্ধন শেষে বক্তারা প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জনসম্মুখে বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক, সংযমী এবং জনগণের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসককে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৩:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজের দেওয়া একটি বক্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন জেলার ওলামা মাশোয়েখ পরিষদ। বুধবার (২৪ জুন) বিকেল ৪টায় সাতক্ষীরা নিউমার্কেট মোড়ে এ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা জেলা প্রশাসকের বক্তব্যকে ‘জনবিচ্ছিন্ন, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী’ বলে অভিহিত করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি জেলার সমগ্র জনগোষ্ঠীকে ‘ধর্মান্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা কোনোভাবেই একজন দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্মকর্তার ভাষা হতে পারে না। সাতক্ষীরার ধর্মপ্রাণ মানুষের বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও সামাজিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে জেলা প্রশাসক যে মন্তব্য করেছেন, তা জেলার মানুষের আত্মমর্যাদায় আঘাত হেনেছে।

বক্তারা আরও বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ সাতক্ষীরা জেলায় বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নজির স্থাপন করে আসছেন। অথচ জেলার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জনসম্মুখে এমন মন্তব্য করে পুরো জেলার মানুষকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মাওলানা আব্দুল বারী, মাওলানা ওসমান গনি, মাওলানা মনিরুল ইসলাম বেলালী, মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, মাওলানা শাহাদাত হোসেন, মাওলানা আফজাল হোসেন, হাফেজ মাওলানা ওমর ফারুক, মাওলানা তরিকুল ইসলাম ও মাওলানা আরিফুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য প্রত্যাহার করে সাতক্ষীরাবাসীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

মানববন্ধনটি পরিচালনা করেন মাওলানা রুস্তম আলী তাওহীদি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার এক মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ বলেন, “সাতক্ষীরায় ধর্মান্ধতা চলে এসেছে।” তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়।

মানববন্ধন শেষে বক্তারা প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জনসম্মুখে বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক, সংযমী এবং জনগণের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান।