সংসদকে পাশ কাটিয়ে চুক্তি নয়: শফিকুর
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:২৩:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
- / 13
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত বা আন্তর্জাতিক চুক্তি জাতীয় সংসদকে পাশ কাটিয়ে করা উচিত নয়। বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত সব মৌলিক চুক্তি সংসদে উপস্থাপন করা হলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনআস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উত্থাপিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে একটি স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে বিরোধী দল সরকারের প্রতি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
তিনি বলেন, ‘এই দেশ আমাদের সবার। আমরা সত্যিকার অর্থেই একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি দেখতে চাই এবং তা বাস্তবায়ন করতে চাই। বিরোধী দল হিসেবে আমাদের যেটুকু করণীয়, সরকারকে আশ্বস্ত করছি যে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সংসদকে পাশ কাটিয়ে যেন কিছুই না হয়। সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংসদের ভেতরেই হোক। সংসদই রাষ্ট্রের সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত।’ তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হলে জনপ্রতিনিধিরা সেগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়ার সুযোগ পাবেন এবং সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধন আরও দৃঢ় হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর করা মালয়েশিয়া ও চীনকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে রপ্তানি বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নিতে হবে। তৈরি পোশাক ও জনশক্তির বাইরে নতুন খাত বিকাশে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের স্বার্থই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। সব ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তি পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।
রাজনীতিতে নতুন সংস্কৃতির আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকারি দল সব কৃতিত্ব নেবে আর বিরোধী দল শুধু বিরোধিতা করবে- এ ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন প্রয়োজন। তিনি বলেন, সরকারি দলের উচিত বিরোধী দলকে সম্মান করা এবং বিরোধী দলেরও দায়িত্ব দেশ গঠনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখা।

































