সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
মালয়েশিয়া ও চীন সফর দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দিগন্ত
- সর্বশেষ আপডেট ০২:৩৮:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
- / 9
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদের সকালের অধিবেশনের শুরুতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রস্তাবটি ভোটে দিলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। তিনি বলেন, এ সফরের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও সুদৃঢ় হবে।
স্পিকার আরও বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে সফরটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে জাতি ত্যাগ ও তিতিক্ষার বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে এবং এরপর বহু প্রতিকূল সময় অতিক্রম করতে হয়েছে। অতীতে এমন সরকারও ছিল, যারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের ফলে দেশের মানুষ আশাবাদী হয়েছেন এবং সফর সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সাধারণ মানুষও প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
প্রস্তাব উত্থাপনকালে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে এবং পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, সফরকালে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে যাওয়া ও ফিরে আসার সময় জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনার প্রচলিত সংস্কৃতি বন্ধ করে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির মৌলিক নীতিমালা- পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের বাস্তব প্রতিফলন। তিনি জানান, মালয়েশিয়ার সঙ্গে শ্রমবাজার, জ্বালানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং চীনের সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাণিজ্য ভারসাম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ধন্যবাদ প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে বিরোধী দল সরকারের প্রতি পূর্ণ সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া ও চীন বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু এবং ভবিষ্যতে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদে উপস্থাপন করা হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে জাতীয় সংসদকে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করতে হবে।



































