ঢাকা ১১:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রমিকের হাতেই দেশের অগ্রগতি: প্রধানমন্ত্রী 

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:২১:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 112

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংগৃহীত ছবি

মহান মে দিবসকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের উন্নয়ন কেবল নীতিতে নয়—তার ভিত গড়ে ওঠে শ্রমজীবী মানুষের ঘাম ও পরিশ্রমে। তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেই তিনি সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী দেশ-বিদেশে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা জানান। একইসঙ্গে ১৮৮৬ সালের শিকাগোর হে মার্কেটের শ্রমিকদের স্মরণ করেন, যাদের আত্মত্যাগ শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে একটি মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।

তার বক্তব্যে একটি বিষয় বারবার ফিরে আসে—উন্নয়ন কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়; এটি দৃশ্যমান হয় কারখানায়, মাঠে, নির্মাণস্থলে। শিল্প, কৃষি কিংবা অবকাঠামো—সব ক্ষেত্রেই শ্রমিকের অবদান অনস্বীকার্য। ফলে তাদের জীবনমান, কর্মপরিবেশ ও সামাজিক মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলেই তিনি ইঙ্গিত দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমবান্ধব নীতি প্রণয়ন শুধু কাগজে থাকলে চলবে না; এর বাস্তব প্রয়োগই মূল। কর্মসংস্থান বাড়ানো, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ—এই বিষয়গুলোকে তিনি বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতির কেন্দ্রে রাখেন।

শ্রমনীতি প্রসঙ্গে তিনি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন। বিশেষ করে বিদেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স আজ দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিএনপি সরকারের সময়কার বিভিন্ন পদক্ষেপ—শ্রম আইন সংস্কার, মজুরি কমিশন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ—এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতার কথাও তিনি স্মরণ করান। পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের ভূমিকা উল্লেখ করে বলেন, এই খাতের অগ্রগতি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকেই এগিয়ে নিচ্ছে।

বর্তমান সরকারের পদক্ষেপের মধ্যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বিভিন্ন কনভেনশনে অংশগ্রহণ, সময়মতো বেতন-ভাতা পরিশোধ নিশ্চিত করা এবং শ্রমিক কল্যাণে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি নারী-পুরুষ সমান মজুরি এবং প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন—শ্রমিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা গেলে তবেই একটি মানবিক ও টেকসই রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।

এ বছর মে দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’—এই ভাবনাকেই সামনে রেখে দেশজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শ্রমিকের হাতেই দেশের অগ্রগতি: প্রধানমন্ত্রী 

সর্বশেষ আপডেট ০৯:২১:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

মহান মে দিবসকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের উন্নয়ন কেবল নীতিতে নয়—তার ভিত গড়ে ওঠে শ্রমজীবী মানুষের ঘাম ও পরিশ্রমে। তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেই তিনি সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী দেশ-বিদেশে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শুভেচ্ছা জানান। একইসঙ্গে ১৮৮৬ সালের শিকাগোর হে মার্কেটের শ্রমিকদের স্মরণ করেন, যাদের আত্মত্যাগ শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে একটি মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।

তার বক্তব্যে একটি বিষয় বারবার ফিরে আসে—উন্নয়ন কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়; এটি দৃশ্যমান হয় কারখানায়, মাঠে, নির্মাণস্থলে। শিল্প, কৃষি কিংবা অবকাঠামো—সব ক্ষেত্রেই শ্রমিকের অবদান অনস্বীকার্য। ফলে তাদের জীবনমান, কর্মপরিবেশ ও সামাজিক মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলেই তিনি ইঙ্গিত দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমবান্ধব নীতি প্রণয়ন শুধু কাগজে থাকলে চলবে না; এর বাস্তব প্রয়োগই মূল। কর্মসংস্থান বাড়ানো, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ—এই বিষয়গুলোকে তিনি বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতির কেন্দ্রে রাখেন।

শ্রমনীতি প্রসঙ্গে তিনি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন। বিশেষ করে বিদেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স আজ দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিএনপি সরকারের সময়কার বিভিন্ন পদক্ষেপ—শ্রম আইন সংস্কার, মজুরি কমিশন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ—এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতার কথাও তিনি স্মরণ করান। পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের ভূমিকা উল্লেখ করে বলেন, এই খাতের অগ্রগতি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকেই এগিয়ে নিচ্ছে।

বর্তমান সরকারের পদক্ষেপের মধ্যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বিভিন্ন কনভেনশনে অংশগ্রহণ, সময়মতো বেতন-ভাতা পরিশোধ নিশ্চিত করা এবং শ্রমিক কল্যাণে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি নারী-পুরুষ সমান মজুরি এবং প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন—শ্রমিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা গেলে তবেই একটি মানবিক ও টেকসই রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।

এ বছর মে দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’—এই ভাবনাকেই সামনে রেখে দেশজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।