ঢাকা ০৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রয়টার্সের প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতা: শান্তি নাকি নতুন যুদ্ধের শুরু?

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:০২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • / 7

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত কিছুটা প্রশমনের ইঙ্গিত দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সমঝোতা অঞ্চলটিকে স্থিতিশীলতার দিকে নয়, বরং নতুন এক অনিশ্চিত রাজনৈতিক বাস্তবতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যুদ্ধের গতি কমলেও শক্তির হিসাব-নিকাশ, আস্থা সংকট এবং আঞ্চলিক পুনর্বিন্যাস—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন আগের চেয়ে বেশি জটিল।

এই সমঝোতাকে বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে এটি দীর্ঘ সংঘাতের একটি নিয়ন্ত্রিত বিরতি। কিন্তু ভেতরের কাঠামো খুঁটিয়ে দেখলে বোঝা যায়, এখানে সমাধানের চেয়ে প্রশ্নই বেশি। ওয়াশিংটন কার্যত একটি ব্যয়বহুল ও দীর্ঘায়িত সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে, যেখানে সামরিক চাপ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করা সম্ভব হয়নি। এই ব্যর্থতার জায়গা থেকেই ইরান নিজেদের অবস্থানকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার সুযোগ পেয়েছে। তারা শুধু টিকে থাকেনি, বরং আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতাও বাড়িয়েছে—এমন ধারণা এখন অনেক পর্যবেক্ষকের মধ্যে তৈরি হয়েছে।

এই পরিবর্তনের সবচেয়ে তাৎক্ষণিক অভিঘাত পড়েছে উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর ওপর। এতদিন যে নিরাপত্তা ছাতার ওপর তাদের অর্থনীতি ও কূটনীতি দাঁড়িয়ে ছিল, তা এখন আর আগের মতো নির্ভরযোগ্য মনে হচ্ছে না। ফলে এক ধরনের বাস্তববাদী পুনর্গঠন শুরু হয়েছে, যেখানে কিছু দেশ ধীরে ধীরে তেহরানের সঙ্গে সরাসরি বোঝাপড়ার দিকে ঝুঁকছে। এটি শুধু কূটনৈতিক কৌশলের পরিবর্তন নয়, বরং আঞ্চলিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু সরানোর একটি ইঙ্গিতও বটে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের অবস্থানও অস্বস্তিকর। তাদের মূল নিরাপত্তা উদ্বেগ—বিশেষ করে পারমাণবিক সক্ষমতা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ—এই সমঝোতায় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে তারা যে রাজনৈতিক প্রভাব দিয়ে আলোচনার শর্ত নির্ধারণ করতে পারত, সেই জায়গা এখন অনেকটাই সংকুচিত। এটি ভবিষ্যতের আঞ্চলিক আলোচনায় নতুন চাপ ও দ্বন্দ্ব তৈরি করতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সমঝোতা কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি নয়। এটি বরং একটি অস্থায়ী কাঠামো, যেখানে মূল বিরোধগুলো এখনো অমীমাংসিত। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং কৌশলগত জলপথ নিয়ন্ত্রণ—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও ঝুলে আছে। ফলে স্থিতিশীলতার যে আশা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রয়টার্সের প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতা: শান্তি নাকি নতুন যুদ্ধের শুরু?

সর্বশেষ আপডেট ০৮:০২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত কিছুটা প্রশমনের ইঙ্গিত দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সমঝোতা অঞ্চলটিকে স্থিতিশীলতার দিকে নয়, বরং নতুন এক অনিশ্চিত রাজনৈতিক বাস্তবতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যুদ্ধের গতি কমলেও শক্তির হিসাব-নিকাশ, আস্থা সংকট এবং আঞ্চলিক পুনর্বিন্যাস—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন আগের চেয়ে বেশি জটিল।

এই সমঝোতাকে বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে এটি দীর্ঘ সংঘাতের একটি নিয়ন্ত্রিত বিরতি। কিন্তু ভেতরের কাঠামো খুঁটিয়ে দেখলে বোঝা যায়, এখানে সমাধানের চেয়ে প্রশ্নই বেশি। ওয়াশিংটন কার্যত একটি ব্যয়বহুল ও দীর্ঘায়িত সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে, যেখানে সামরিক চাপ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করা সম্ভব হয়নি। এই ব্যর্থতার জায়গা থেকেই ইরান নিজেদের অবস্থানকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার সুযোগ পেয়েছে। তারা শুধু টিকে থাকেনি, বরং আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতাও বাড়িয়েছে—এমন ধারণা এখন অনেক পর্যবেক্ষকের মধ্যে তৈরি হয়েছে।

এই পরিবর্তনের সবচেয়ে তাৎক্ষণিক অভিঘাত পড়েছে উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর ওপর। এতদিন যে নিরাপত্তা ছাতার ওপর তাদের অর্থনীতি ও কূটনীতি দাঁড়িয়ে ছিল, তা এখন আর আগের মতো নির্ভরযোগ্য মনে হচ্ছে না। ফলে এক ধরনের বাস্তববাদী পুনর্গঠন শুরু হয়েছে, যেখানে কিছু দেশ ধীরে ধীরে তেহরানের সঙ্গে সরাসরি বোঝাপড়ার দিকে ঝুঁকছে। এটি শুধু কূটনৈতিক কৌশলের পরিবর্তন নয়, বরং আঞ্চলিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু সরানোর একটি ইঙ্গিতও বটে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের অবস্থানও অস্বস্তিকর। তাদের মূল নিরাপত্তা উদ্বেগ—বিশেষ করে পারমাণবিক সক্ষমতা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ—এই সমঝোতায় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে তারা যে রাজনৈতিক প্রভাব দিয়ে আলোচনার শর্ত নির্ধারণ করতে পারত, সেই জায়গা এখন অনেকটাই সংকুচিত। এটি ভবিষ্যতের আঞ্চলিক আলোচনায় নতুন চাপ ও দ্বন্দ্ব তৈরি করতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সমঝোতা কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি নয়। এটি বরং একটি অস্থায়ী কাঠামো, যেখানে মূল বিরোধগুলো এখনো অমীমাংসিত। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং কৌশলগত জলপথ নিয়ন্ত্রণ—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও ঝুলে আছে। ফলে স্থিতিশীলতার যে আশা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।