ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের পরমাণু অস্ত্র থাকবে না: ট্রাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:১০:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • / 5

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সমঝোতা স্মারকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—তেহরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি–৭ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতার পূর্ণ পাঠ শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ের এই সমঝোতা এখন “দ্বিতীয় ধাপে” প্রবেশ করছে, যা তার মতে তুলনামূলকভাবে আরও সহজ হবে। তার দাবি, ইরানের জন্য কোনো অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বা অর্থ ছাড়ের বিষয় যুক্তরাষ্ট্র এখনই বিবেচনা করছে না। বরং ভবিষ্যৎ অগ্রগতি নির্ভর করবে তেহরানের আচরণ ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপের ওপর।

তিনি আরও জানান, রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের অনুরোধ অনুযায়ী এই চুক্তি কংগ্রেসে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হতে পারে। তার ভাষায়, প্রক্রিয়াটি দ্রুতই এগোবে বলে তিনি আশা করছেন।

এর আগে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে একটি কাঠামোগত চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পর জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালী ধীরে ধীরে খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং শুক্রবারের মধ্যে তা সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হতে পারে।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে নতুন দফার আলোচনা আগামী শুক্রবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোথায় বৈঠক হবে তা এখনও নির্ধারিত হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, চুক্তিটি ইতিমধ্যেই ডিজিটালি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তবে এর ফলে কোনো অর্থ ছাড় করা হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরান কেবল তখনই কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে যখন তারা ইউরেনিয়াম মজুদ কমানোসহ যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তিনি আরও সতর্ক করেন, যাচাইযোগ্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা না থাকলে ইরান ভবিষ্যতে পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী দীর্ঘমেয়াদে শুল্কমুক্তভাবে উন্মুক্ত রাখার প্রত্যাশা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি এখনো পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি নয়; বরং একটি প্রাথমিক কাঠামো, যার বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করছে পরবর্তী রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত আলোচনার ওপর। তবুও মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ইরানের পরমাণু অস্ত্র থাকবে না: ট্রাম্প

সর্বশেষ আপডেট ১১:১০:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সমঝোতা স্মারকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—তেহরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি–৭ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতার পূর্ণ পাঠ শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ের এই সমঝোতা এখন “দ্বিতীয় ধাপে” প্রবেশ করছে, যা তার মতে তুলনামূলকভাবে আরও সহজ হবে। তার দাবি, ইরানের জন্য কোনো অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বা অর্থ ছাড়ের বিষয় যুক্তরাষ্ট্র এখনই বিবেচনা করছে না। বরং ভবিষ্যৎ অগ্রগতি নির্ভর করবে তেহরানের আচরণ ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপের ওপর।

তিনি আরও জানান, রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের অনুরোধ অনুযায়ী এই চুক্তি কংগ্রেসে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হতে পারে। তার ভাষায়, প্রক্রিয়াটি দ্রুতই এগোবে বলে তিনি আশা করছেন।

এর আগে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে একটি কাঠামোগত চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পর জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালী ধীরে ধীরে খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং শুক্রবারের মধ্যে তা সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হতে পারে।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে নতুন দফার আলোচনা আগামী শুক্রবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোথায় বৈঠক হবে তা এখনও নির্ধারিত হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, চুক্তিটি ইতিমধ্যেই ডিজিটালি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তবে এর ফলে কোনো অর্থ ছাড় করা হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরান কেবল তখনই কোনো অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে যখন তারা ইউরেনিয়াম মজুদ কমানোসহ যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তিনি আরও সতর্ক করেন, যাচাইযোগ্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা না থাকলে ইরান ভবিষ্যতে পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী দীর্ঘমেয়াদে শুল্কমুক্তভাবে উন্মুক্ত রাখার প্রত্যাশা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি এখনো পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি নয়; বরং একটি প্রাথমিক কাঠামো, যার বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করছে পরবর্তী রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত আলোচনার ওপর। তবুও মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।