এস আলমের সম্পদ অনুসন্ধানে একাধিক দেশ, আলোচনায় মালয়েশিয়ার হোটেল
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
- / 9
অর্থ পাচারের অভিযোগে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমকে ঘিরে আন্তর্জাতিক তদন্ত আরও বিস্তৃত হচ্ছে। সাইপ্রাস ও সিঙ্গাপুরের পর এবার মালয়েশিয়ায় তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি বিলাসবহুল হোটেলও আলোচনায় এসেছে।
অর্থ পাচারের অভিযোগে আন্তর্জাতিক তদন্তের মুখে থাকা এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমকে ঘিরে চাপ আরও বাড়ছে। সাইপ্রাসে সম্পদ জব্দ, বাংলাদেশে আদালতের সাজা এবং সিঙ্গাপুরে তদন্তের পাশাপাশি এবার মালয়েশিয়ার দুটি বিলাসবহুল হোটেলও আলোচনায় এসেছে।
অর্থ পাচারের অভিযোগে আন্তর্জাতিক তদন্তের মুখে থাকা শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমের বিদেশি সম্পদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অবস্থিত দুটি বিলাসবহুল হোটেলের সঙ্গে তার গ্রুপের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এখন নজরে এসেছে।
মালয়েশিয়ার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য এজ মালয়েশিয়া জানিয়েছে, কুয়ালালামপুরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত রেনেসাঁ কুয়ালালামপুর হোটেল অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টার এবং ফোর পয়েন্টস বাই শেরাটন কুয়ালালামপুর সিটি সেন্টার হোটেলের মালিকানার সঙ্গে এস আলম গ্রুপের সম্পর্ক রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মে মাসে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সাইফুল আলমকে ঘিরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। সাইপ্রাসে তার ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল বাড়ি জব্দ করা হয়। একই সময়ে বাংলাদেশের একটি আদালত তাকে অনুপস্থিত অবস্থায় কারাদণ্ড দেন। অন্যদিকে সিঙ্গাপুরেও তার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও সম্পদ নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মালয়েশিয়ার হোটেল দুটি বর্তমানে ভেনচুরা ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি অতীতে ক্যানালি লজিস্টিকস নামে পরিচিত ছিল। তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এস আলম গ্রুপের যোগসূত্র রয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ হোটেল দুটির বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সম্পদ জব্দ বা আইনি নিষেধাজ্ঞারও কোনো তথ্য প্রকাশ হয়নি। তারপরও আন্তর্জাতিক তদন্তের পরিধি বাড়তে থাকায় মালয়েশিয়ায় থাকা সম্পদও ভবিষ্যতে তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন মালয়েশিয়া সফর বিষয়টিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। আগামী ২১ ও ২২ জুন তার কুয়ালালামপুর সফরের কথা রয়েছে। সফরে শ্রমবাজার, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিক্ষা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন সময়ে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন মালয়েশিয়ায় থাকা এস আলম গ্রুপের সম্পদ এবং বাংলাদেশি শ্রমবাজার ঘিরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা তীব্র হয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা অভিযোগ করছে, এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নিয়ে তার একটি অংশ বিদেশে সরিয়ে নিয়েছে। এসব অর্থ সাইপ্রাস, সিঙ্গাপুর, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ ও জার্সিসহ বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানান্তর করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত ১৯ মে সাইপ্রাসের একটি আদালত মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তার স্ত্রী ফারজানা পারভীনের মালিকানাধীন একটি বাড়ি জব্দের নির্দেশ দেন। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে দেশটির অর্থ পাচারবিরোধী সংস্থা এ পদক্ষেপ নেয়।
এর একদিন পর চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত ইসলামী ব্যাংকের ৮৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকার ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় সাইফুল আলমসহ তার পরিবারের ১১ সদস্যকে পাঁচ মাসের দেওয়ানি কারাদণ্ড দেন।
সিঙ্গাপুরেও তার সম্পদ নিয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। দেশটির আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট ইতোমধ্যে এস আলম গ্রুপের দেশি-বিদেশি সম্পদের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
তবে সাইফুল আলম সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবীদের দাবি, বিদেশে তার সব বিনিয়োগ বৈধ উৎসের অর্থে করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারে সরকারের আন্তর্জাতিক তৎপরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন দেশে থাকা সম্পদ আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের আওতায় আসতে পারে।





































