দুবাইয়ে যাচ্ছে বেনজীরকে ফেরানোর আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব
- সর্বশেষ আপডেট ১২:২৫:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
- / 24
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক বিতর্কিত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। তাঁকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছাড়াও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ইন্টারপোলের সাথে যোগাযোগ রক্ষাকারী বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) একযোগে কাজ শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত আনতে একটি সুনির্দিষ্ট প্রত্যর্পণ প্রস্তাব (Extradition Proposal) তৈরি করা হচ্ছে, যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হবে। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে এই প্রস্তাবটি দুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হবে। অন্যদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলা, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য আইনি দলিলাদি প্রস্তুত করার মূল কাজটি করছে দুদক। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কোনো আসামিকে গ্রেপ্তারের দিন থেকে পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রত্যর্পণ প্রস্তাব পাঠাতে হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সব নথিপত্র পাওয়ার পর আমিরাতের আদালত পর্যালোচনাসাপেক্ষে বেনজীরকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি এবং দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের ধাপ দুটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
গত রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, আরব আমিরাতের আইন অনুসরণ করে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদকে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ দ্রুত পাঠানো হবে। যেহেতু তাঁর বিরুদ্ধে দেশে দুর্নীতিবিরোধীসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে, তাই তাকে ফেরত আনতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করে যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে আরও তথ্য প্রকাশ করেন যে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত সাবেক এই আইজিপিকে গ্রেপ্তারের জন্য ২০২৫ সালেই প্রথম আন্তর্জাতিক আবেদন পাঠিয়েছিল। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক পুলিশি সংস্থা ইন্টারপোল ২০২৫ সালেই বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ‘রেড নোটিশ’ জারি করে এবং ইন্টারপোলের সেই অনুরোধের ভিত্তিতেই অবশেষে আরব আমিরাত পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, বিগত এক বছরে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারপোলের কাছে অন্তত ২৫ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির আবেদন পাঠানো হয়েছে। এই তালিকায় গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবারের সদস্যবৃন্দ, সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী, রাজনৈতিক উপদেষ্টা, বড় ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার পলাতক আসামিরা অন্তর্ভুক্ত আছেন।
উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে র্যাবের যে সাতজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিল।




































