সীমান্তে চরম উত্তেজনা
বিএসএফের পুশইন চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি
- সর্বশেষ আপডেট ১১:২১:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
- / 52
দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইন বা জোরপূর্বক লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অপতৎপরতা নিয়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং সীমান্তবর্তী এলাকার সচেতন বাসিন্দাদের কঠোর প্রতিরোধ ও সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থার কারণে বিএসএফের এসব চেষ্টা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। তবে পুশইনে ব্যর্থ হয়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তের জিরো লাইনে (শূন্যরেখা) নারী ও শিশুসহ ১২ জন ব্যক্তিকে খোলা আকাশের নিচে আটকে রেখেছে বিএসএফ। গত দুই দিন ধরে তীব্র গরম ও অমানবিক পরিবেশে সেখানে অবস্থান করায় আটকে পড়া এই মানুষগুলো প্রচণ্ড অসুস্থ ও চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রাগপুরের বিলগাতুয়া সীমান্তের শূন্যরেখায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাঝে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে এক জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবির সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা ও কোম্পানি কমান্ডার আসাদুজ্জামান এবং ভারতের পক্ষে রানীনগর বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার সুনীল কুমার যাদব অংশ নেন। বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে এই অবৈধ পুশইনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আটকে পড়া ১২ জনকে দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। জবাবে বিএসএফ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তিদের পরিচয় ও তথ্য পুরোপুরি যাচাইবাছাই শেষে তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। চারজন পুরুষ, চারজন নারী ও চারজন শিশুসহ এই ১২ জন ব্যক্তি গত শুক্রবার ভোর থেকে সেখানে আটকে রয়েছেন। কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানিয়েছেন, যেকোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে টহল ও অতিরিক্ত সতর্কতা জারি রয়েছে।
একইভাবে গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তেও পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। সীমান্তের ওপারে কাঁটাতারের গেট দিয়ে ১০-১২ জন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় গ্রামবাসীরা টের পেয়ে যান। তাৎক্ষণিকভাবে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে কয়েক শ গ্রামবাসী একত্রিত হন এবং বিজিবিকে খবর দেন। পরে জনসাধারণ ও বিজিবির সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে তোপের মুখে পড়ে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়। লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোকনপুর সীমান্তেও শুক্রবার রাত পৌনে ১টার দিকে নদীপথে নৌকাযোগে ১৫ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। এদের মধ্যে দুজন পুরুষ, আটজন নারী ও পাঁচজন শিশু ছিল। নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) আওতাধীন এই সীমান্তে বিজিবি তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তুললে অনুপ্রবেশকারীরা ভারতের শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়। পরে রাত পৌনে ৩টার দিকে বিএসএফের কোটালপুর ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করতে বিজিবি বদ্ধপরিকর।
বিএসএফের কথিত পুশইন ঠেকাতে মেহেরপুর সীমান্তেও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিজিবি। এর আগে গত ৬ জুন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্তেও বিএসএফ পুশইনের চেষ্টা করেছিল, যা বিজিবি ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত বাধায় ব্যর্থ হয়। বর্তমানে মেহেরপুর সীমান্তজুড়ে চার শিফটে ২৪ ঘণ্টা টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারাও রাতভর টর্চলাইট, বাঁশি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে গ্রাম পাহারা দিচ্ছেন, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
বিজিবি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ভারতের সাথে যুক্ত দেশের ২৬টি সীমান্ত জেলায় বর্তমানে বিজিবির প্রায় ৬০ হাজার সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে দেশের প্রতিটি সীমান্তচৌকি ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নজরদারি জোরদার রাখা হয়েছে।






























