ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানে ভারতকে রাষ্ট্রপতির আহ্বান

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:১০:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 132

অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানে ভারতকে রাষ্ট্রপতির আহ্বান

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে অভিন্ন নদ-নদীর পানিবণ্টনসহ অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ন্যায়সঙ্গত ও উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য উপায়ে সমাধান করা গেলে জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস আরও বাড়বে।

অভিন্ন নদ-নদীর পানি ব্যবস্থাপনা দুই দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য বণ্টনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানান।

জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানান, এ বিষয়ে তার সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, নিকটতম প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়। সার্বভৌম সমতা, জাতীয় স্বার্থ, মর্যাদা ও জনগণের কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্মানজনক, ভবিষ্যতমুখী এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বার্থের ভিত্তিতে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে বাংলাদেশ আগ্রহী।

সাক্ষাৎকালে দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ভারত অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে ভারতের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

ভারতীয় হাইকমিশনার আরও বলেন, পারস্পরিক মর্যাদা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও উন্নত করতে ভারত আগ্রহী।

রাষ্ট্রপতি অভিনন্দনের জন্য হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ জানান এবং ভারতের রাষ্ট্রপতির প্রতি তার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাণিজ্য, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, সংস্কৃতি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের জনগণের সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অভিন্ন শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারত আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দীনেশ ত্রিবেদী ভবিষ্যতেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন এবং দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি তার সফল কর্মকাল কামনা করে আশা প্রকাশ করেন, তার দায়িত্বকাল বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও ফলপ্রসূ, ইতিবাচক ও জনকল্যাণমুখী করতে সহায়ক হবে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানে ভারতকে রাষ্ট্রপতির আহ্বান

সর্বশেষ আপডেট ০৩:১০:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে অভিন্ন নদ-নদীর পানিবণ্টনসহ অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ন্যায়সঙ্গত ও উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য উপায়ে সমাধান করা গেলে জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস আরও বাড়বে।

অভিন্ন নদ-নদীর পানি ব্যবস্থাপনা দুই দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য বণ্টনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানান।

জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানান, এ বিষয়ে তার সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, নিকটতম প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়। সার্বভৌম সমতা, জাতীয় স্বার্থ, মর্যাদা ও জনগণের কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্মানজনক, ভবিষ্যতমুখী এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বার্থের ভিত্তিতে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে বাংলাদেশ আগ্রহী।

সাক্ষাৎকালে দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ভারত অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে ভারতের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

ভারতীয় হাইকমিশনার আরও বলেন, পারস্পরিক মর্যাদা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও উন্নত করতে ভারত আগ্রহী।

রাষ্ট্রপতি অভিনন্দনের জন্য হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ জানান এবং ভারতের রাষ্ট্রপতির প্রতি তার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাণিজ্য, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, সংস্কৃতি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের জনগণের সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অভিন্ন শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারত আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দীনেশ ত্রিবেদী ভবিষ্যতেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন এবং দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি তার সফল কর্মকাল কামনা করে আশা প্রকাশ করেন, তার দায়িত্বকাল বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও ফলপ্রসূ, ইতিবাচক ও জনকল্যাণমুখী করতে সহায়ক হবে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।