কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রুটে চার কোম্পানির বাস ধর্মঘট
- সর্বশেষ আপডেট ০১:২৭:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 20
কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রুটে চারটি পরিবহন কোম্পানির বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে ছুটি শেষে ঢাকায় কর্মস্থলে ফিরতে যাওয়া চাকরিজীবীরা পড়েছেন বিপাকে। এ পরিস্থিতিতে ‘অনন্যা সুপার’ নামে একটি পরিবহন কোম্পানির বাস গাজীপুর পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করছে বাড়তি ভাড়ায়। এতে ক্ষুব্ধ অনেক যাত্রী বাসের পরিবর্তে ট্রেনে ঢাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
রোববার সকালে কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল বাস টার্মিনালে এ চিত্র দেখা যায়। ধর্মঘটের কারণে অনন্যা, অনন্যা ক্লাসিক, উজানভাটি ও জলসিঁড়ি পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বাসের কর্মীরা জানান, কিশোরগঞ্জ ও ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনালের মালিকদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, অনন্যা সুপারের একটি বাসে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত যাত্রী নেওয়া হচ্ছিল। মহাখালী পর্যন্ত স্বাভাবিক ভাড়া ৩৮০ টাকা হলেও গাজীপুর পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা। গাজীপুর থেকে বাস খালি ফিরতে হবে; এ যুক্তিতে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
কিশোরগঞ্জের গাইটাল শ্রীনগর এলাকার রফিকুল ইসলাম ঢাকায় চাকরি করেন। পূজার ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে রোববার ভোর ৫টার বাস ধরার জন্য টার্মিনালে গিয়ে দেখেন, চার কোম্পানির বাস চলাচল বন্ধ। পরে ৪০০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে সকাল ৬টায় গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। রফিকুল জানান, গাজীপুর থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে তাঁকে আবারও ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে।
একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানান নীলগঞ্জ রোড এলাকার চাকরিজীবী সাইদুর রহমানও।
শহরের নগুয়া এলাকার সামছুল আলম সেলিম স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু বাড়তি ভাড়া ও গাজীপুর থেকে যানবাহন পরিবর্তনের ঝামেলা এড়াতে তাঁরা বাস টার্মিনাল থেকে রেলস্টেশনে চলে যান। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল, সকাল সাড়ে ৬টার আন্তঃনগর এগারসিন্দুর ট্রেনে কমলাপুর পৌঁছানোর। সেলিমের হিসাব অনুযায়ী, ট্রেনে চার থেকে সাড়ে চার ঘণ্টায় ঢাকায় পৌঁছানো সম্ভব হবে এবং দুজনের ভাড়া পড়বে প্রায় ৩০০ টাকা।
জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির আহ্বায়ক আনিসুজ্জামান বাবুল বলেন, কিশোরগঞ্জের বাসের মান ভালো হলেও মহাখালীর মালিকেরা এ রুটে নিম্নমানের বাস চালাতে চান। এ নিয়ে বিরোধের জেরে কিশোরগঞ্জের মালিকেরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।
কিশোরগঞ্জের ট্রাফিক পরিদর্শক মো. জহির বলেন, বাস ধর্মঘটের বিষয়ে তাঁকে কেউ জানাননি। তবে সংবাদমাধ্যমের ফোন পাওয়ার পর মালিক সমিতির আহ্বায়ক আনিসুজ্জামান বাবুলের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, কিশোরগঞ্জ ও মহাখালী সমিতির মধ্যে বাস চলাচল নিয়ে বিরোধের কারণে ধর্মঘট চলছে। এ বিষয়ে মালিক সমিতি পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি এবং কোনো আলোচনায়ও পুলিশকে যুক্ত করা হয়নি।




























