১৭ ঘণ্টা পর বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন, কবর খুঁড়লেন তিন নারী
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৪২:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 105
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীকে মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর দাফন করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দাফন নিয়ে বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও বোন নিজেরাই কবর খুঁড়ে দাফন সম্পন্ন করেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তাঁর দাফন হয়। এ সময় পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল।
এর আগে শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থানকালে মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নেওয়া হলে স্বজনেরা জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের বিরোধিতার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সেখান থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়। বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার দেওয়ার পর সদর থানা পুলিশ মরদেহের নিরাপত্তা জোরদার করে।
রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ ও জেলা জামায়াতের নেতাদের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হয়। এরপর পরিবারের নারী সদস্যরা কবর খনন করে রাত ২টার দিকে দাফন সম্পন্ন করেন। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
মানিক পশারীর বোন বলেন, “আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ঝামেলা হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি, সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে। আবার মোরা কবর খুঁড়ছি এবং পুলিশ লাশ আনার পরে মোরাই মাডি দিছি। কোনো পুরুষ মানুষ আয় নাই।”
তবে দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে জেলা জামায়াত বা অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতা বাধা দেননি। জামায়াতে ইসলামী লাশের রাজনীতি করে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, সদর থানা পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা করে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি যশোর ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার কাছে আশ্রয় নেন। গত দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়।





























