ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে রাষ্ট্রীয় সফর বাতিল করে ফিরলেন জাহেদ

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৫০:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • / 91

ডা. জাহেদ উর রহমান

প্রতিবেশী দেশ ভারতে চলমান রাষ্ট্রীয় সফরটি সম্পূর্ণ বাতিল করে অবশেষে আজ দেশে ফিরে এসেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আজ সোমবার (১৫ জুন) বেলা পৌনে ১২টার দিকে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে চড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ভারতের দিল্লিতে আজ থেকে শুরু হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ‘ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন’ (IORA) সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের মূল নেতা হিসেবে অংশ নেওয়ার কথা ছিল ডা. জাহেদ উর রহমানের。 এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়ে গত শুক্রবার (১২ জুন) দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে অবহিত করেছিল। কিন্তু এত সব আনুষ্ঠানিকতার পরেও গত রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় তিনি দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখে। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাঁকে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না— সেই বিষয়টিও দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত পরিষ্কার করেনি।

ভারতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের এমন অপেশাদার ও রহস্যজনক আচরণকে নিজের এবং দেশের আত্মসম্মানে বড় আঘাত হিসেবে বিবেচনা করেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি ভারতীয় কর্মকর্তাদের কাছে নিজের পাসপোর্ট ফেরত চান এবং তাৎক্ষণিকভাবে ভারতে না ঢুকে দেশে ফিরে আসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পরিস্থিতি বেগতিক ও কূটনৈতিকভাবে জটিল আকার ধারণ করছে দেখে পরবর্তীতে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে বারবার ভারতে প্রবেশের জন্য অনুরোধ জানালেও, তিনি নিজের দেশের সম্মান রক্ষার্থে দেশে ফেরার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।

তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের বিষয়টি কূটনৈতিক পত্র বা প্রটোকল দিয়ে ভারতকে অনেক আগে থেকেই লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। সব নিয়ম মেনে আগাম অবহিত করার পরেও বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও চরম আপত্তিকর আচরণের কঠোর প্রতিবাদ জানাতেই তিনি এই সফর বর্জন করে দেশে ফিরে আসেন।

দিল্লি থেকে সরাসরি ঢাকার কোনো তাৎক্ষণিক ফ্লাইট না পাওয়ায় তিনি এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে রোববার রাতেই প্রথমে কলম্বোর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। আজ সোমবার ভোরে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো পৌঁছানোর পর, সকাল ৮টার দিকে তিনি পুনরায় শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের কানেক্টিং ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে দুপুরে স্বদেশে পৌঁছান।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

দিল্লিতে রাষ্ট্রীয় সফর বাতিল করে ফিরলেন জাহেদ

সর্বশেষ আপডেট ১২:৫০:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

প্রতিবেশী দেশ ভারতে চলমান রাষ্ট্রীয় সফরটি সম্পূর্ণ বাতিল করে অবশেষে আজ দেশে ফিরে এসেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আজ সোমবার (১৫ জুন) বেলা পৌনে ১২টার দিকে শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে চড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ভারতের দিল্লিতে আজ থেকে শুরু হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ‘ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন’ (IORA) সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের মূল নেতা হিসেবে অংশ নেওয়ার কথা ছিল ডা. জাহেদ উর রহমানের。 এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়ে গত শুক্রবার (১২ জুন) দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে অবহিত করেছিল। কিন্তু এত সব আনুষ্ঠানিকতার পরেও গত রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় তিনি দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখে। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাঁকে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না— সেই বিষয়টিও দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত পরিষ্কার করেনি।

ভারতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের এমন অপেশাদার ও রহস্যজনক আচরণকে নিজের এবং দেশের আত্মসম্মানে বড় আঘাত হিসেবে বিবেচনা করেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি ভারতীয় কর্মকর্তাদের কাছে নিজের পাসপোর্ট ফেরত চান এবং তাৎক্ষণিকভাবে ভারতে না ঢুকে দেশে ফিরে আসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পরিস্থিতি বেগতিক ও কূটনৈতিকভাবে জটিল আকার ধারণ করছে দেখে পরবর্তীতে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে বারবার ভারতে প্রবেশের জন্য অনুরোধ জানালেও, তিনি নিজের দেশের সম্মান রক্ষার্থে দেশে ফেরার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।

তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের বিষয়টি কূটনৈতিক পত্র বা প্রটোকল দিয়ে ভারতকে অনেক আগে থেকেই লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। সব নিয়ম মেনে আগাম অবহিত করার পরেও বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও চরম আপত্তিকর আচরণের কঠোর প্রতিবাদ জানাতেই তিনি এই সফর বর্জন করে দেশে ফিরে আসেন।

দিল্লি থেকে সরাসরি ঢাকার কোনো তাৎক্ষণিক ফ্লাইট না পাওয়ায় তিনি এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে রোববার রাতেই প্রথমে কলম্বোর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। আজ সোমবার ভোরে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো পৌঁছানোর পর, সকাল ৮টার দিকে তিনি পুনরায় শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইনসের কানেক্টিং ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে দুপুরে স্বদেশে পৌঁছান।